Kishore Kumar: কমেডি কিং মেহমুদের উপর কীভাবে প্রতিশোধ নিয়েছিলেন কিশোর কুমার?
ভারতের সঙ্গীত জগতের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র কিশোর কুমার। ৪ঠা অগাস্ট ২০২৩, এই মহা তারকার ৯৪তম জন্মদিন পালন হচ্ছে। গোটা দেশ জুড়ে কোথাও তাঁর কালজয়ী সব গান গেয়ে কিংবা বিভিন্ন মাধ্যমে বাজিয়ে প্রিয় শিল্পীর জন্মদিন সেলিব্রেট করছেন কিশোর কুমারের আপামর ফ্যানেরা। তিনি চলে গেলেও রয়ে গিয়েছে তাঁর অমর সৃষ্টি।
আজ কিশোর কুমারের জন্মদিন, একাধারে তিনি ইন্ডাস্ট্রির দুর্দান্ত গায়ক, অভিনেতা এবং প্রযোজক, এমনকি একজন কৌতুক অভিনেতা হিসাবেও আলাদা ট্রেন্ড তৈরী করেছেন। তবে কিশোর কুমারের নামের সঙ্গে সঙ্গেই জুড়ে রয়েছে নানা গল্প, যা নিয়ে এখনও চর্চা হয় ইন্ডাস্ট্রি থেকে ফ্যান মহলে। তবে তারই মধ্যে একটি হল কিশোরের বদলা নেওয়ার গল্প।

কিশোর কুমারের জন্মদিন
নাম আমার কিশোর কুমার গাঙ্গুলি, গানের মধ্যে দিয়ে নিজেই নিজের পরিচয় দিয়েছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা গায়ক। ৪ঠা অগাস্ট বহু প্রতিভার অধিকারী কিংবদন্তি গায়ক কিশোর কুমারের জন্মদিন। তিনি শুধু একজন গায়কই ছিলেন না, একজন চমৎকার অভিনেতা, কৌতুক অভিনেতা এবং প্রযোজক ও পরিচালকও ছিলেন। ১৯২৯ সালের দিনেই তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জীবনের নানা জানা অজানা দিকের মধ্যেই অন্যতম একটি দিক সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
কিশোরের বদলা
বাংলা হোক বা হিন্দি, বিনোদনের দুনিয়ায় তিনি ছিলেন অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব। তাঁর নানা রকম চারিত্রিক বৈশিষ্টের মধ্যে একটি ছিল তিনি খুব একগুঁয়ে ছিলেন। কোনও জিনিস তাঁর পচিঁশ না হলে যেমন বলে দিতেন মুখের উপর, ঠিক তেমনই মনে মনে কিছু করবেন বলে ঠিক করলে সেই কাজ করেই ছাড়তেন কিশোর দা। এ কথা সবাই জানেন যে কিশোর কুমারের অসাধারণ অভিনয় দক্ষতা মুগ্ধ করে, তারই মধ্যে তাঁর কৌতুকাভিনয় বিশেষ চাপ ফেলেছে সব দর্শকদের মনেই। কিন্তু সে কালে ইন্ডাস্ট্রির সবথেকে জনপ্রিয় কৌতুকাভিনেতা ছিলেন মেহমুদ। সালটা ছিল ১০৬৬, সে বছর মুক্তি পায় সুপারহিট ছবি পেয়ার কিয়ে জা। আর এই সিনেমায় কিশোর কুমারের থেকে বেশি নিয়েছিলেন মেহমুদ। কিন্তু এটি কিশোরের মোটেই ভালোলাগেনি। তাই তিনি বদলা নিতে বদ্ধপরিকর। অবশেষে এর ২ বছর পর অর্থাৎ ১৯৬৮ সালে মুক্তি পায় ব্লকবাস্টার ছবি পরোসেন। সেখানে ফের এক পর্দায় কিশোর মেহমুদ। আর এই ছবিতে মেহমুদের থেকে দ্বিগুন পারিশ্রমিক নিয়ে নিজের বদলা পূরণ করেছিলেন কিশোর কুমার।
খান্ডোয়ায় থাকার স্বপ্ন
১৯২৯ সালের ৪ঠা অগাস্ট মধ্যপ্রদেশের খান্ডোয়ায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন কিশোর কুমার। তাঁর আসল নাম ছিল আভাস গঙ্গোপাধ্যায়। কিশোর কুমারের বাবা কুঞ্জলাল গঙ্গোপাধ্যায় পেশায় একজন আইনজীবী ছিলেন। এবং মা গৌরী দেবী গৃহবধূ। কর্মসূত্রে মুম্বই থাকলেও খান্ডোয়া মনের খুবই কাছের জায়গা ছিল কিশোরের। যেখানে তাঁর শৈশব কেটেছে সেই খান্ডোয়ায় বার বার ফায়ার গিয়েছেন তিনি। এমনকি শেষ বয়সে মুম্বই ছেড়ে খান্ডোয়ায় থাকার স্বপ্ন দেখেছিলেন কিশোর। কিন্তু তাঁর সে আশা অপূর্ন থেকে যায়। ১৯৮৭ সালে তাঁর মৃত্যুর পর খান্ডোয়ায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
সদাহাস্য কিশোর
শুধুমাত্র এক মহান গায়ক হিসেবে নয়, কিশোর কুমারকে একজন অত্যন্ত হাসিখুশি ব্যক্তি হিসেবেও মনে রাখবেন ইন্ডাস্ট্রির সকলে। গানের রেকর্ডিংয়ে এলেই হাসি মজায় মাতিয়ে রাখতেন সকলকে। তাঁকে দেখলেই লতা মঙ্গেশকর বলে উঠতেন, কিশোর দা আগে গান রেকর্ডিং, তারপর হাসি ঠাট্টা। এই অমর শিল্পীর ব্যক্তিচরিত্রের নানা দিক এভাবেই প্রকাশিত হয়েছে ছোট ছোট ঘটনার মধ্যে দিয়ে।












Click it and Unblock the Notifications