বৃষ্টি দূরঅস্ত! কীভাবে তাপপ্রবাহের মোকাবিলা করবেন কলকাতাবাসী, বেশ কিছু টিপস
আবহাওয়া দফতর যেমন ১৩ থেকে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে কলকাতা-সহ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে, অন্যদিকে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের তরফে বলা হয়েছে, বেশি করে জল খেয়ে হবে, সূর্যের তাপ এড়িয়ে চলতে হবে। যদি একান্তই দীর্ঘ সময় বাইরে থাকতে হয়, তাহলে ছায়ায় কিছুটা সময় বিরতি নিতে হবে।
স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, জলের তৃষ্ণা না পেলেও কিছু সময় বাদে বাদে জল খেতে হবে। যাদের নুন খাওয়ায় কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই, তাঁদেরকে জলে সামান্য নুন মিশিয়ে খেতে হবে। কারণ সাধারণ জল থেকে শরীরে জলের ঘাটতি মিটবে। কিন্তু শরীরে নুনের মাত্রা কমে গেলে ক্র্যাম্প হতে পারে।

অন্যদিকে যাঁরা হৃদরোগ, লিভারের সমস্যা, কিডনির রোগের ভুগছেন, যাঁদের বেশি জল খাওয়ার ব্যাপারে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তাঁদেরকে বাইরে বেরনো থেকে বিরত থাকা উচিত। এক্ষেত্রে তাঁরা বাইরে বেরোলে শারীরিক সমস্যা বাড়তে পারে। অন্যদিকে তাঁরা যদি বেশি জল খেয়ে ফেলেন, তাহলে ও পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আগেও এপ্রিলে কলকাতার তাপমাত্রা বেড়েছে। সাধারণ মানুষ সেই তাপের সঙ্গে পরিচিত। তবে তাপমাত্রা বৃদ্ধি হলেও সঙ্গে আর্দ্রতাও বেশি থাকে সাধারণ ভাবে। বর্তমানে শুকনো গরম বাতাস বাইছে।

আবহাওয়াবিদরা বলেছেন, আপাতত পশ্চিমী এবং উত্তর-পশ্চিমী শুকনো বাতাস গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের ওপরে প্রভাব বিস্তার করে রয়েছে। আগামী কয়েকদিন বৃষ্টিরও কোনও সম্ভাবনা নেই। সাধারণভাবে কলকাতার আবহাওয়া গরম থাকলেও আর্দ্রতা বেশি থাকে। কিন্তু এবার আর্দ্রতার পরিমাণ কম।
এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে ঢিলে-ঢালা সুতির পোশাক পরার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসক থেকে আবহাওয়াবিদ সকলেই। কেউ যদি মাথা ঘোরা, মাথা ব্যথা, বমির মতো ভাব কিংবা বমি করেন, তাহলে তাঁকে বিশ্রাম নিতে হবে এবং চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে। পাশাপাশি টুপি কিংবা ছাতাও ব্যবহার করতে হবে।

সাধারণ মানুষকে গরমের মধ্যে চা-কফি খাওয়া এবং অ্যালকোহল এবং ঠান্ডা জল খাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে।
সাধারণভাবে আর্দ্রতা বেশি থাকলে বজ্রপাত-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু পর্যাপ্ত আর্দ্রতার অভাবে আবহাওয়া শুকনো। এই কারণেই আগামী কয়েকদিন বৃষ্টিপাতের কোনও সম্ভাবনা নেই। এদিন কলকাতার আলিপুরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের থেকে ১ ডিগ্রি বেশি।
সাধারণভাবে আবহাওয়া দফতর তাপপ্রবাহ তখনই ঘোষণা করে, যখন সেই জায়গায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে অন্তত ৫ ডিগ্রি বেশি থাকে। মঙ্গলবার এই শর্ত পূরণ হয়েছিল শুধুমাত্র দিঘা এবং ডায়মন্ডহারবারে। তবে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রিতে পৌঁছে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া দফতর।












Click it and Unblock the Notifications