যুদ্ধের আঁচ ঘরে ঘরে! রান্নাঘর থেকে বাথরুম, বাড়তে পারে একাধিক নিত্যপণ্যের দাম, তালিকায় কী কী? জেনে নিন
ইরানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। যে দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের উপরে উঠে গিয়েছে। আর এরকম এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ভারতের বাজারেও। শুধুমাত্র জ্বালানি নয়, তেলের সাথে সাথে যুক্ত অনেক পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সবচেয়ে আগে দেওয়ালের রঙের বাজারে চাপ পড়তে পারে। রঙ তৈরি করার ক্ষেত্রে যে সমস্ত রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তার একটা বড় অংশই তেলজাত উপাদান থেকে তৈরি হয়। শিল্প মহলের মতামত অনুসারে, উৎপাদন খরচের প্রায় ৬০ শতাংশ তেলের উপর নির্ভরশীল। এর ফলে তেলের দাম দীর্ঘদিন যদি বেশি থাকে তাহলে এপ্রিল মাস থেকেই রঙের দাম ২-৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
সিন্থেটিক কাপড়ের বাজারেও তেলের দামের প্রভাব অনেকটা পড়তে পারে। মূলত পেট্রোকেমিক্যাল থেকে কৃত্রিম টেক্সটাইল তৈরি করার কাঁচামাল আসে। এক্ষেত্রে উৎপাদন খরচের প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ তেলের সাথে যুক্ত। এর ফলে ফলে যোগা করার প্যান্ট থেকে শুরু করে কার্পেট, স্পোর্টস জার্সি অথবা শিল্পে ব্যবহার হওয়া কাপড়ের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভোজ্য তেলের দামও আরও বাড়তে পারে। ভারতের প্রয়োজনীয় ভোজ্য তেলের একটা বড় অংশই বিদেশ থেকে আসে। লোহিত সাগর অথবা সুয়েজ খাল অঞ্চলে পরিবহনে সমস্যা হওয়ার কারণে সরবরাহে যদি ব্যাঘাত ঘটে তাহলে আমদানি খরচ আরও বাড়বে। যার প্রভাব বাজারদরেও পড়বে।
এছাড়াও প্যাকেটজাত যে সমস্ত খাবার রয়েছে সেগুলির খরচও বাড়তে পারে। মার্চ মাসের শুরু থেকেই পাম তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে। অনেক প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যের উৎপাদনে পাম তেলের একটি বড় ভূমিকা থাকার কারণে তার প্রভাব খুচরো বাজারে পড়তে পারে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় সাবান থেকে শুরু করে শ্যাম্পু, ডিটারজেন্টর দামও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এইসমস্ত পণ্যগুলির কাঁচামালের ৩০-৪০ শতাংশ তেলজাত উপাদান থেকে তৈরি হয়। সেইসঙ্গে প্লাস্টিকও পেট্রোলিয়াম নির্ভর হওয়ার কারণে প্যাকেজিং খরচও বেড়ে যেতে পারে।
এদিকে আবার অটোমোবাইল শিল্পেও অনেকটা চাপ বাড়তে পারে। টায়ার তৈরি করার জন্য ব্যবহৃত সিন্থেটিক রাবার, কার্বন ব্ল্যাক এবং বিভিন্ন তেলজাত উপাদানগুলি অপরিশোধিত তেল থেকেই তৈরি হয়। ফলে কাঁচামালের ৬০-৭০ শতাংশ খরচ তেলের দামের উপর নির্ভরশীল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার এরকম পরিস্থিতি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় তাহলে ভারতের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় একাধিক পণ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।












Click it and Unblock the Notifications