নিয়মিতভাবে গণেশের এই রূপের পুজো করলে ও মন্ত্র জপে আপনার জীবনের সকল বাধা দূর হবে
সিদ্ধিবিনায়ক গণেশ
আগামী ১০ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে পালিত হবে গণেশ চতুর্থী। গণেশের বহু রূপের আরাধনাই করে থাকি আমরা। গণেশের মোট আটটি রূপ রয়েছে। এই আটটি রূপর মধ্যে জীবনের সব সমস্যার সমাধান লুকিয়ে আছে। অষ্টবিনায়ক স্বরূপের মধ্যে সিদ্ধিবিনায়ককে সবচেয়ে বেশি মঙ্গলকারী বলে মানা হয়। এই সিদ্ধিবিনায়কের আরাধনা করলে সব মনোকামনা পূরণ হয়। আজকে জানব এই সিদ্ধিবিনায়ক কীভাবে বাধা থেকে মুক্তি দেয় এবং মন্ত্র জপ করলে সব ইচ্ছা পূরণ হয়।

কেন সিদ্ধিবিনায়ক নাম
সিদ্ধটেক নামে এক পর্বতে গণেশ প্রকট হয়েছিলেন বলে তাঁকে সিদ্ধিবিনায়ক বলা হয়। কেউ কেউ এটাও বিশ্বাস করেন যে গণেশের যে শুঁড় রয়েছে তা সিদ্ধি প্রাপ্তির দিকে রয়েছে তাই এর নাম সিদ্ধিবিনায়ক। সিদ্ধিবিনায়কের নিয়মিত পুজো করলে সব সমস্যা-বাধা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং কোনও বাধা আসলে তাও সরে যায়।

সিদ্ধিবিনায়কের পৌরাণিক ইতিহাস
মনে করা হয় যে সৃষ্টির নির্মাণ হওয়ার পূর্বে সিদ্ধিটেক পর্বতে ভগবান বিষ্ণু এই অবতারের উপাসনা করেছিলেন। সেই সিদ্ধিটেক পর্বতে বর্তমানে সিদ্ধিবিনায়কের মন্দির রয়েছে। গণেশের এই উপাসনার পরই ব্রহ্ম দেব বিনা বাধায় সৃষ্টি রচনা করতে পেরেছিলেন। বলা হয় যে ব্রহ্ম দেবও সৃষ্টি রচনা করার আগে এই সিদ্ধিবিনায়কের পুজো করেছিলেন যাতে তাঁর সৃষ্টি রচনায় কোনও বাধা না আসে।

সিদ্ধিবিনায়কের স্বরূপ
সিদ্ধিবিনায়কের স্বরূপ চতুর্ভুজী। অর্থাৎ চারটে হাত বিশিষ্ট। তাঁর ওপরের হাত দুটিতে রয়েছে পদ্মফুল ও অঙ্কুশ, নীচের দু'টি হাতের একটি হাতে রয়েছে মুক্তোর মালা ও অপর হাতে গণেশ জির প্রিয় মিষ্টি মোদকের বাটি। এই সিদ্ধিবিনায়কের সঙ্গে তাঁর দুই স্ত্রী ঋদ্ধি ও সিদ্ধি রয়েছেন। এঁনার মাথায় ত্রিনেত্র রয়েছে এবং গলায় সর্পহার রয়েছে। এই সর্পহারের অর্থ মানুষের ইচ্ছা-কামনা, যা নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে এই সিদ্ধিবিনায়ক। সিদ্ধিবিনায়ক যেহেতু ভগবান শিবের পুত্র তাই তাঁর মধ্যেও শিবের মতোই ক্ষমতা রয়েছে। এই রূপের মাথায় ত্রিনেত্র রয়েছে যা ইঙ্গিত দেয় তিনি ইশ্বরতত্ত্বের খুব নিকটে রয়েছেন বা ভগবান সিদ্ধিবিনায়কের মধ্যে দূরদর্শিতা রয়েছে।

নিয়মিত পুজো করলে কি কি ফল লাভ হবে
সিদ্ধিবিনায়কের আরাধনা করলে সব ধরনের বিঘ্ন-বাধা সমাপ্ত হয়ে যায়। চাকরিতে বাধা, অর্থপ্রাপ্তিতে বাধা, মামলা-মোকাদ্দমায় বাধা সহ সব ধরনের বাধা কেটে যায় সিদ্ধিবিনায়কের পুজো করলে। যে কোনও কাজ শুরু করার আগে সিদ্ধিবিনায়কের পুজো খুবই লাভজনক হয়। এই গণেশের পুজো করলে নিশ্চিতভাবে সন্তানপ্রাপ্তি হয়। যদি আপনি দীর্ঘদিন ধরে নিঃসন্তান থাকেন তবে সিদ্ধিবিনায়কের পুজো করে সন্তান গণপতি স্ত্রোত্র পাঠ করুন নিয়মিতভাবে তাহলে আপনি সহজেই সন্তান প্রাপ্তি করতে পারবেন। এঁর উপাসনা করলে ঋণ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় ও ব্যবসাতেও লাভ হয়। আপনার ব্যবসা বা কাজের জায়গায় ছোট সিদ্ধিবিনায়কের মূর্তি বা ছবি লাগিয়ে রাখুন এবং রোজ কাজ শুরুর আগে এঁকে প্রণাম করে কাজ শুরু করুন, দেখবেন আপনার ঋণ সব শোধ হয়ে যাচ্ছে এবং ব্যবসায় লাভ আসছে। এছাড়াও সিদ্ধিবিনায়কের নিয়মিত পুজো করলে বাড়িতে সুখ-সমৃদ্ধি বজায় থাকে।

সিদ্ধিবিনায়কের পুজো কী করে করবেন
গণেশ চতুর্থীর দিনই আপনি সিদ্ধিবিনায়কের মূর্তি বা ছবির স্থাপনা করতে পারেন। এছাড়া কৃষ্ণপক্ষের চতুর্থী তিথিতেও ভগবান গণেশের স্থাপনা করতে পারেন। তবে যদি আপনি খুব শীঘ্রই এই ভগবানের স্থাপন করতে চান তবে যে কোনও বুধবার এই সিদ্ধিবিনায়ক রূপের স্থাপন করতে পারেন। রোজ সকালে সিদ্বিবিনায়কের সামনে ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালাবেন, দুর্বা ও মোদক দেবেন বা সৈধারণ লাড্ডুও দিতে পারেন। এরপর সিদ্ধিবিনায়কের পুজো করুন ও আরতি করুন। রোজ এই পুজোর পাশাপাশি সকালে ও সন্ধ্যায় সিদ্ধিবিনায়কের সামনে ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালাবেন। দু'বেলা আরতি যদি করতে পারেন খুব ভালো নয়ত একবেলা অবশ্যই আরতি করবেন। আর যদি লাড্ডু না থাকে তবে শুধু দুর্বা অর্পন করে সিদ্ধিবিনায়কের কাছে নিজে মনোকামনা জানান।

সিদ্ধিবিনায়কের চমৎকারী মন্ত্র
) 'ওম সিদ্ধিবিনায়ক নমো নমাঃ'
এই মন্ত্র নিত্যদিন ১০৮ বার জপ করতে হবে। এটি স্মরণ মন্ত্র।
২) 'ওম সিদ্ধিবিনায়ক সর্বকায়কাত্রয়ী সর্ববিঘ্ন প্রশামন্য
সর্বরাজ্যবশ্যকারণ সর্বজ্ঞান সর্বস্ত্রীপুরুষাকারণ্য'
এটি খুব শক্তিশালী মন্ত্র। এটিও আপনাকে জপ করতে হবে।
নতুবা শুধু 'ওম সিদ্ধিবিনায়ক নমো নমাঃ' জপ করলেও আপনার কাজ সফল হবে। মাত্র এটুকু কাজ করলেই আপনার কাজে আসা সব বাধা দূর হয়ে যাবে।












Click it and Unblock the Notifications