কৌশিকী অমাবস্যা ২০২০: দিন, ক্ষণ, তারিখ একনজরে! কোন পৌরাণিক কাহিনী জড়িত এই দিনের সঙ্গে
কৌশিকী অমাবস্যা ২০২০: দিন, ক্ষণ, তারিখ একনজরে! কোন পৌরাণিক কাহিনী জড়িত এই দিনের সঙ্গে
উৎসবের মরশুম শুরু হওয়ার আগেই তারাপীঠে প্রতিবার শ্রাবণের শেষ বেলায় প্রবল ভিড় জমে। বীরভূমের এই তীর্থ ক্ষেত্রে প্রতিবারই শ্রাবণ মাসে কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষ্যে মা তারার বিশাল পুজো আয়োজিত হয়। এবারেও ২০২০ সালের কৌশিকী অমাবস্যা আসন্ন। যে অমাবস্যা ঘিরে বগু শাস্ত্রজ্ঞের নজর থাকে। একনজরে দেখে নেওয়া যাক কৌশিকী অমাবস্যার জিনক্ষণ তারিখ।

বন্ধ তারাপীঠ
বীরভূমের তারাপীঠ অন্যান্য বারের মতো ভক্তসমাগম ২০২০ সালে দেখবে না। কারণ ইতিমধ্যেই তারাপীঠ কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছেন যে ১২ অগাস্ট থেকে ২০ অগাস্ট তারাপীঠের মন্দির বন্ধ। এরপর আরও এক নির্দেশিকায়, স্পষ্ট করা হয়েছে যে আপাতত তারাপীঠে মায়ের দরজা ভক্তদের জন্য বন্ধ থাকছে।

কৌশিকী অমাবস্যা ২০২০
ভাদ্রপদা অমাবস্যা ২০২০ সালে পড়ছে ১৮ অগাস্ট থেকে। অর্থাৎ ভাদ্র মাসের শুরুতেই যে অমাবস্যা সেই অমাবস্যাকে এমনভাবে শাস্ত্রে বর্ণনা করা হয়। এমন অমাবস্যা কৌশিকী অমাবস্যা নামে পরিচিত।

কখন পড়ছে অমাবস্যা?
২০২০ সালে কৌশিকী অমাবস্যা পড়ছে ১৮ অগাস্টের সকাল ১০:৪১ মিনিটে। তা ১৯ অগাস্টের সকাল ৮:১২ মিনিটে শেষ হবে। এই ভাদ্রপদা আমাবস্যা ঘিরে বহু তন্ত্রসাধকের নজর থাকে। শাস্ত্রজ্ঞরাও তাকিয়ে থাকেন এই অমাবস্যার দিকে।

পৌরাণিক কাহিনী
পুরাণ অনুযায়ী, কথিত রয়েছে, অসুর শুম্ভ ও নিশুম্ভ একবার কঠিন সাধনায় ব্রহ্মাকে তুষ্ঠ করে। এমন সময় তুষ্ট হয়ে ব্রহ্মা তাদের বর দেন যে, তাদের কোনও পুরুষ হত্যা করতে পারবে না। অতাদের মৃত্যু হতে পারে সেই নারীর হাতে যিনি মাতৃগর্ভ থেকে জাত নন। এমন দেববাণী শুনে শুম্ভ নিশুম্ভ মহানন্দে অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে তুলল।

এরপরের ঘটনা..
এরপর দেবভূমি ত্রস্ত হয়। অসুর বিনাশের কথা যখন চিন্তা করা হচ্ছে, তখন সামনে এল পার্বতীর কথা। যিনি দক্ষ যজ্ঞস্থনে আত্মাহুতি দেওয়ার ফলে কৃষ্ণবর্ণ ধারণ করেন। এই কৃষ্ণবর্ণ দেবী কঠিন যজ্ঞের পর কালিকা রূপে অবতীর্ণ হলেন। তাঁর দেহের কোশিকা কালো বর্ণ হওয়ায় নাম হয় কৌশিকী। আর এই তিথিতে তিনি মহাশক্তির অধিকারীনী হয়ে কৌশিকী রূপে বধ করেন শুম্ভ ও নিশুম্ভকে।

কৌশিকী অমাবস্যা ও তন্ত্র
শুধু হিন্দু মতে নয়, বৌদ্ধ মতেও তন্ত্র সাধনার জন্য এই দিনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শাস্ত্রজ্ঞরা বলেন, কৌশিকী অমাবস্যার রাতে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক শক্তিকে সাধনার মাধ্যমে তান্ত্রিকরা ধারণ করে থাকেন। যে সাধনার ফলে বলা হয়, আশাতীত ফল লাভ করেন তন্ত্রসাধকরা। তারাপীঠের মহাশ্মশানে এই তন্ত্রসাধনা হয়ে থাকে এই পূণ্য তিথিতে।
{quiz_283}












Click it and Unblock the Notifications