দেশের মধ্যে দিল্লিতে করোনা সংক্রমণ ক্রমেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে কেন্দ্র সরকারের। একমাসেরও কম সময়ের মধ্যে এখানে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ২,৩৬৪ জনের। ২৮ অক্টোবর থেকে শুর করে এখনও পর্যন্ত দু’হাজারের বেশি মৃত্যু হওয়ায় তা চিন্তা ক্রমশঃই বাড়াচ্ছে। এই প্রথমবার রাজধানীতে দৈনিক করোনা আক্রান্ত ৫ হাজার ছুঁল। বুধবার করোনা ভাইরাসে নতুন করে ৯৯ জনের মৃত্যু মোট মৃতের সংখ্যা ৮,৭২০–তে ছুঁয়েছে। গত পাঁচদিনে এই প্রথমবার দিল্লিতে একদিনে ১০০ জনের কম মৃত্যু হয়েছে।
১৯ নভেম্বর দিল্লিতে মৃত্যু হয় ৯৮ জনের, যা ২০ নভেম্বর মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে বেড়ে যায় ১১৯৮ তে। ২১ নভেম্বর মৃত্যু হয় ১১১ জনের এবং ২২ ও ২৩ নভেম্বর উভয় দিনেই ১২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ২৪ নভেম্বর করোনায় প্রাণ হারায় ১০৯ জন। দিল্লিতে সবচেয়ে বেশি কোভিডে মৃত্যু (১৩১) হয় ১৮ নভেম্বর।
১১ নভেম্বর বুধবার দিল্লিতে একদিনে সর্বোচ্চ করোনা কেস রেজিস্টার হয় ৮,৫৯৩। এরপর বৃহস্পতিবার দিল্লিতে একদিনে ৭,৫৪৬টি কেস, শুক্রবার ৬,৬০৮, শনিবার ৫,৮৭৯, রবিবার ৬,৭৪৬, সোমবার ৪,৪৫৪, মঙ্গলবার ৬,২২৪ ও বুধবার ৫,২৪৬টি কেস একদিনে নথিভুক্ত করা হয়।
বুধবার পর্যন্ত দিল্লিতে মোট করোনা ভাইরাস কেসের সংখ্যা দাঁড়িয়ে রয়েছে ৫,৪৫,৭৮৭-তে। বুধবার এই মারণ ভাইরাস থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৪,৯৮,৭৮০ জন। সরকারিভাবে জানা গিয়েছে যে হাতপাতালে ভর্তি হতে দেরি হলে সেই রোগীর অবস্থা সঙ্কটজনক হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও দিল্লিতে কোভিড-১৯ মৃত্যুর বৃদ্ধির পেছনে পর্যাপ্ত পরিমাণে আইসিইউ বেড না থাকায়, প্রতিকূল আবহাওয়া, দূষণ বৃদ্ধি সহ অন্যান্য কারণ রয়েছে। বুধবার স্বাস্থ্য মন্ত্রকের এক অধিকর্তা জানিয়েছেন যে আবহাওয়া ও দূষণের কারণে দিল্লিতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
দিল্লিতে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বুধবার বিশেষজ্ঞদের কোভিড-১৯ মৃত্যু নিয়ে তদন্ত করতে অনুরোধ করেছে এবং জাতীয় রাজধানীতে মৃত্যু হ্রাস করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেছে। তবে বুধবার স্বাস্থ্য মন্ত্রী সত্যেন্দ্র জৈন দাবি করেছেন যে রাজধানীতে প্রতি দশ লক্ষে মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কম অন্যান্য চার মেট্রো শহরের তুলনায়। অন্যদিকে, জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রক কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সতর্কতা জারি করে দিল্লিকে বলা হয়েছে যে আসন্ন শীতের মরশুমে দিল্লিতে দৈনিক ১৫ হাজার নতুন করোনা ভাইরাস সংক্রমণ দেখা দেবে।
প্রতীকী ছবি