Tap to Read ➤

এখানে নাম নয়, ডাকা হয় সুর দিয়ে! জানেন এই ‘শিস-গ্রামে’র কথা

মেঘালয়ের এই গ্রামে শিস দিয়ে হয় নাম
পাহাড় ঘেরা ছোট্ট এক গ্রামে কথা হয় সুরে সুরে। নাম নয়, ডাকা হয় সুরে।
পাখিদের মতোই কাকলির তানে একজন অপরজনকে ডাকে এ গ্রামে।
এ গ্রামেও নামকরণ নয়, নতুন অতিথির জন্য সৃষ্টি হয় বিশেষ সুর।
গ্রামের নামটি কংথং, তা মেঘালয়ের হুইসলিং গ্রাম বলেই তা বেশি পরিচিত।
মেঘালয়ের কংথং গ্রামে নামের বদলে সুরের ব্যবহারের প্রথা সুপ্রাচীন।
কংথং-এ একে অপরের ডাকতে প্রতিটি ব্যক্তির জন্য তৈরি একটি সুর গাওয়া হয়।
কংথং-এর মায়েরা তাঁদের শিশুদের ডাকতে বিশেষ সুর ব্যবহার করেন।
ওই সুরের প্রেক্ষিতে শিসযুক্ত স্বর আত্মস্থ করে ফেলেন শিশুরা। স্বতন্ত্র এই রীতি।
মেঘালয়ের এই গ্রামে 'জিংরওয়াই লবেই' নামে একটি প্রাচীন ঐতিহ্যের অংশ এটি।
কংথং-এ বসবাসকারী উপজাতির প্রথম মহিলার গানের প্রতীক 'জিংরওয়াই লবেই'।
কংথং-এর আশেপাশের কিছু গ্রামও সুর ব্যবহার করে একে অপরকে ডাকে।
কংথং-এর বেশিরভাগ গ্রামবাসী বলিউডের গানের সুর দ্বারা অনুপ্রাণিত।
একজন মায়ের দ্বারা সংকলিত সুরটি অদ্ভুত শোনাতে পারে, তবু তা প্রচলিত।
সন্তানের জন্য আনন্দ এবং ভালবাসা প্রকাশের সুর, কংথং তাই হুইসলিং গ্রাম।
সুপারি গাছের ছায়ায় ছোট ছোট কুঁড়েঘর এবং খামার দিয়ে ঘেরা এই গ্রাম।
প্রায় ৭০০ মানুষের বাস। চাষ, শিকার আর মধু সংগ্রহ করে জীবনযাপন এ গ্রামে।
শিস দেওয়ার ঐতিহ্য পালন করে আসছে কংথং। পাখির মতো ডাকই প্রথা।
পাহাড়ের মধ্যে প্রতিধ্বনিত সুর এক অনন্য সংস্কৃতির পরিচায়ক হয়ে উঠেছে।
স্বর্গীয় গ্রামে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে সুরের লহরী।