উইকেন্ডে একবেলার জন্য ঘুরে আসুন নরেন্দ্রপুরের চিন্তামণি কর অভয়ারণ্যে
ঘুরে আসুন নরেন্দ্রপুরের চিন্তামণি কর পাখিরালয়ে
করোনা ভাইরাসের জেরে গত দেড় বছরের থমকে থাকা জনজীবন এখন অনেকটাই স্বাভাবিক। ধীরে ধীরে কমছে অতিমারীর প্রভাব। খুব শীঘ্রই দেশে মহামারীর রূপ নিতে পারে কোভিড ১৯। সেসবের মধ্যেই ওয়ার্ক ফ্রম হোম ও শহুরে জীবনে হাঁপিয়ে যাওয়া মন যখন দু-দণ্ড শান্তি চায়, তখন উইকেন্ডে ভ্রমণ পিপাসু বাঙালির সেরা ঠিকানা হতে পারে নরেন্দ্রপুরের চিন্তামণি কর পাখিরালয়। শহরের অদূরে শাখা-প্রাশাখা মেলে দাঁড়িয়ে থাকা এই সবুজ বনে একদিনের চড়ুইভাতি করতে ভিড় জমান অনেকে। নানা প্রজাতি ও রঙের পাখি, প্রজাপতি, ফার্ন এবং অর্কিডের বনে একবার প্রবেশ করলে ছেড়ে বেরিয়ে আসতে মন চাইবে না।

অবস্থান
কলকাতার অদূরে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় রয়েছে চিন্তামণি কর পাখিরালয়। যা কয়ালের বাগান নামেই অধিক পরিচিত। এই স্থানের ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে নরেন্দ্রপুর রেল স্টেশন। গড়িয়া এবং বাইপাসের থেকেও কয়ালের বাগানের দূরত্ব খুব বেশি নয়। হাওড়া স্টেশন থেকে ২০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এই সুদর্শন বন। ফলে বোঝাই যাচ্ছে যে এই স্থানে পৌঁছনোটা বিরাট কোনও ঝক্কির ব্যাপার নয়।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
১৯৮২ সালে কয়ালের বাগানকে অভয়ারণ্যের মর্যাদা দিয়েছিল রাজ্য সরকার। ২০০৫ সালে পাখিরালয়টিকে অধিগ্রহণ করেছিল সরকার। ২০০৪ সাল পর্যন্ত এই স্থান নরেন্দ্রপুর অভয়ারণ্য নামে পরিচিত ছিল। যে ব্যক্তির জমিতে তৈরি হয়েছে এই মস্ত জীব বৈচিত্রের চারণভূমি, সেই চিন্তামণি করের স্মৃতিতে স্থানটির নতুন নামকরণ করা হয়েছিল।

পৌঁছনোর উপায়
শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখার ট্রেন ধরে নরেন্দ্রপুর রেল স্টেশনে নামতে হবে। সেখান থেকে অটো, টোটো কিংবা গাড়িতে পৌঁছে যাওয়া যায় চিন্তামণি কর পাখিরালয় বা কয়ালের বাগান। হাওড়া থেকে গড়িয়ামুখী বাস ধরে নরেন্দ্রপুর স্ট্যান্ডে নেমে কয়ালের বাগান সংযোগকারী যান পাওয়া যায়। শহর বা জেলার অন্যান্য প্রান্ত থেকে গড়িয়া বা বারুইপুরমুখী বাসও হতে পারে ইচ্ছুকদের সারথী।

দেখার কী আছে
মেটে ফিঙে, এশীয় কোকিল, ভুতুম প্যাঁচা, কালো ফিঙে, পাতি শিকরে, দেশি কানবিক, বামন ফিঙে, গো বক, তিলা মুনিয়া, ছোট বগা, ছোট পানকৌড়ি, সাদা খঞ্জন, সবুজ বাঁশপাতি, পাতিকাক, দাঁড় কাক, খয়েড়ি হাঁড়িচাচা, মাছরাঙা সহ মোট ২০০টি প্রজাতির পাখির বাস এই অভয়ারণ্যে। ডালে ডালে উড়ে বেড়ায় হরতনি, লোপামুদ্রা, হরিনছড়া, হলুদ চিতা, চাঁদনরি, নয়ান সহ প্রায় ২০ প্রজাতির সুদৃশ্য প্রজাপতি। জঙ্গলে রয়েছে নানা প্রজাতির মাকড়সাও। তাই এই স্থানের আকর্ষণ মানুষের কাছে অন্যরকম। প্রাণী জগৎ থেকে দূরত্ব বজায় রেখে এই বাগানে রয়েছে উইকেন্ডে পিকনিক করার আদর্শ জায়গা। তবে মেনে চলতে হবে সরকারি বিধি।












Click it and Unblock the Notifications