পুজোর মরসুমে পর্যটকদের নির্ঝঞ্ঝাট ডেস্টিনেশন হতে পারে সমুদ্র সুন্দরী জুনপুট
পুজোর মরসুমে পর্যটকদের নির্ঝঞ্ঝাট ডেস্টিনেশন হতে পারে সমুদ্র সুন্দরী জুনপুট
করোনা ভাইরাসের প্রভাব কিছুটা লাঘব হলেই বেরিয়ে পড়বে ভ্রমণ পিপাসু বাঙালি। কাছেপিঠে কোথায় যাওয়া যায়, কতদিন থাকা যায়, তা নিয়ে হিসেব কষার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। পরিকল্পনা তৈরিতে লেগে পড়েছেন ট্যুর প্ল্যানাররাও। নিজেকে অতিমারীর প্রভাব থেকে দূরে রেখে আশেপাশের কোন এলাকায় এক কিংবা দুই দিনের জন্য থেকে আসার প্রশ্ন মাথায় ঘুরলে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন জুনপুট। যার নীরবতা ও সৌন্দর্য্য পর্যটকদের মোহিত করতে পারে।

অবস্থিতি
সমুদ্র সুন্দরী জুনপুট পূর্ব মেদিনীপুরের অন্যতম দর্শনীয় স্থান। কাঁথি শহর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার এবং দিঘা থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এই এলাকার বালিয়াড়ির শোভা অসাধারণ। কলকাতা থেকে নাতিদূরের এই গ্রামে থাকেন মৎস্যজীবীরা। যেখানে নেই কোনও সমুদ্র সৈকত। তবে এই জুনপুটে ভিড় জমান পর্যটকরা। শহুরে কোলাহাল পিছনে রেখে নিরিবিলি নির্ঝঞ্ঝাট জুনপুট ভ্রমণ পিপাসুদের আদর্শ বিশ্রামের স্থান হতে পারে।

কীভাবে যাবেন
কলকাতা থেকে জুনপুট পৌঁছনো যায় দুই ভাবে। ট্রেনে কাঁথি স্টেশনে নেমে সেখান থেকে ৯ কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করার জন্য স্থানীয় গাড়ি পাওয়া যায়। অনেকে দীঘা স্টেশনে নেমে সেই শহরে এক কিংবা দুই দিন থেকে গাড়িতে পৌঁছন জুনপুট। যাঁরা প্রাইভেট গাড়িতে কলকাতা ছাড়বেন, তাঁদের কোথাও থামতে হবে না। বাসে রওনা হওয়া পর্যটকরা হয় কাঁথিতে নেমে স্থানীয় গাড়িতে জুনপুট পৌঁছে যেতে পারেন। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দীঘা ঘুরতে যাওয়া পর্যটকরাই একদিনের জন্য জুনপুট ঘুরে শেষে ক্ষান্ত হন।

কী দেখবেন
গোপালপুরের কাছাকাছি অবস্থিত ব্যাংকপুর সমুদ্র সৈকত জুনপুটের খুব কাছেই রয়েছে। দুই থেকে তিন কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই এলাকা ভাল বালুকাময় সৈকতও বটে। কাছেই রয়েছে মাছ চাষ ও গবেষণা কেন্দ্র। যা পর্যটকদের আরও এক আকর্ষণের কেন্দ্র হতে পারে। দরিয়াপুর-পেটুঘাট রোডের উপর অবস্থিত বাতিঘর থেকে নিচের সৌন্দর্য্য পর্যবেক্ষণ করেন পর্যটকরা। পূর্ব মেদিনীপুররের এই অঞ্চলের সঙ্গে জুড়ে রয়েছে ইতিহাস খ্যাত কপালকুন্ডলা মন্দিরের নাম। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস যারা পড়েছেন, তাঁদের জন্য এই স্থান ঐতিহাসিক মাধুর্য পেতে পারে। জুনপুটের যে রিসর্টে থাকবেন, তার পিছনেই দণ্ডায়মান লিটল উডস এই এলাকার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। জুনপুট থেকে দীঘা, গোপালপুর, তাজপুর, মন্দারমণিতে পাড়ি জমানো যায় সহজে।

কোথায় থাকবেন
পর্যটকদের থাকার জন্য জুনপুটের রয়েছে রিসর্ট। তবে আগেভাগে বুকিং না করলে ঘর পাওয়া মুশকিল। অধিকাংশ ক্ষেত্রে পর্যটকরা দীঘা, মন্দারমণি, তাজপুর কিংবা গোপালপুরে থেকে সেখান থেকে জুনপুটে পিকনিক করতে আসেন। গাছপালায় ঘেরা বালিয়াড়িতে চড়ুইভাতির মোক্ষম ব্যবস্থাও রয়েছে। উপরি পাওনা স্থানীয় জেলেদের কাছ থেকে মৎস্যপ্রাপ্তি। খেতে পারবেন নারকেলের জলও। ফলে করোনা ভাইরাসের পরের পূজোর নিরিবিলি ডেস্টিনেশন হতেই পারে জুনপুট।












Click it and Unblock the Notifications