Jhareswar Temple: জঙ্গলের মাঝে ইচ্ছেপূরণের দেবতা, কলকাতার কাছেই বেড়িয়ে আসুন সেই অদ্ভুত শৈবক্ষেত্রে
সাড়ে তিনশো বছরের প্রাচীণ এই শিবমন্দির। এখানে প্রার্থনা করলে নাকি সব ইচ্ছে পূরণ হয়। সেকারণে এই শিবমন্দিরকে ইচ্ছে পূরণের মন্দিরও বলে থাকেন স্থানীয়রা। পশ্চিম মেদিনীপুরে একেবার জঙ্গল বেষ্টিত মন্দিরের চারপাশ গা ছম ছম করা। জঙ্গল পেরিয়েই এখানে আসেন ভক্তরা।
মূল মন্দিরের সঙ্গে বিষ্ণুপুরের মন্দিরের মিল মেলে। ৩৯৫ বছর আগে মন্দিরটি তৈরি হয়েছিশ মন্দিরের দেওয়াল জুড়ে পোড়া মাটির কাজে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। রাসলীলা থেকে নর নারায়ণ, নারায়ণের অনন্ত শয্যা সবই রয়েছে এই মন্দিরে পোড়া মাটির কাজে।

এই মন্দিরে মা দুর্গার মূর্তিও রয়েছে। তার অবশ্য ১০ হাত নয় ১৮টি হাত। আর মা দুর্গার মূর্তির সামনে রয়েছে শিবলিঙ্গটি। কথিত আছে এই গ্রামটি নাকি আগে ব্রাহ্মণ বর্জিত ছিল । আর জঙ্গলে ঘেরা ছিল। চাষ আর পশুপালনই ছিল এখানকার মানুষের প্রধান জীবিকা। একসময়ে নাকি গ্রামের একটি গাভী প্রতিদিন জঙ্গলের মধ্যে প্রবেশ করত এবং একটি বট গাছের নীচে দাঁড়িয়ে দুধ দিত। সেই দৃশ্য দেখে অনেকেই অবাক হয়েছিলেন তার পরে স্বপ্নাদেশ পেয়ে কলকাতা থেকে শীতলানন্দ মিত্র এসে সেই বটগাছের নীচে মাটি খুঁড়ে শিবলিঙ্গটি পান।
তারা মায়ের আবির্ভাব দিবসে নাকি শিবলিঙ্গটি পাওয়া গিয়েছিল। সেই বটগাছের নীচেই চালা করে শিবপুজো শুরু হয়েছিল। ১৮৫১ সালে সনাতন চৌধুরী আটচালা রীতির ভোগমন্দিরটি নির্মান করেন। আজও এখানে নিত্য পুজোর পাশাপাশি প্রতিবছরে শ্রাবণী উৎসব, দুর্গাপুজো, শিবরাত্রির ব্রত ও চৈত্র সংক্রান্তির গাজন মেলা হয়ে থাকে
কথিত আছে ১৮৩৪ খ্রীষ্টাব্দে নাড়াজোলের রাজা অযোধ্যা রাম খানের দেওয়ান রামনারায়ণ এক কঠিন অসুখ থেকে সেরে উঠেছিলেন এই মন্দিরে প্রার্থনা করার পরেই। রাজা আলালনাথ দেব স্পনাদেশ পয়ে মন্দিরটি তৈরি করে দেন। সেই থেকে এই মন্দিরটি ইচ্ছে পূরণের মন্দির বলেই পরিচিত।
মন্দিরের ঠিক পাশেই রয়েছে একটি বিশাল দীঘি। যাকে বলা হয় 'আলাল দীঘি'। রাজ আলালনাথ দেব এই দিঘির খননকার্য শুরু করেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর ভাই নদীয়ালদেব তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে দীঘির মধ্যে মাকড়া পাথরের 'জলহরি' মন্দির নির্মান করেন, যেটি এখন লুপ্তপ্রায়। ভক্তদের বিশ্বাস এই দীঘির জলে স্নান করলে রোগ মুক্ত হওয়া যায়।
এখানে আসতে হলে বাসে মেদিনীপুর শহর থেকে আনন্দপুরে আসতে হবে আগে। তারপরে সেখান থেকে টোটো করে মন্দির পর্যন্ত আসা যায়। আনন্দপুর থেকে মণ্ডলকুপী যাওয়ার রাস্তায় পড়ে ঝাড়েশ্বর শিব মন্দির। আনন্দ পুর থেকে যার দূরত্ব ২ কিলোমিটার। আবার গাড়িকতেও আসা যায় এখানে।












Click it and Unblock the Notifications