নেপাল সীমান্তের কান ঘেঁষা নিরিবিলি উত্তারে সিকিমের প্রাণের সম্পদ
নেপাল সীমান্তের কান ঘেঁষা নিরিবিলি উত্তারে সিকিমের প্রাণের সম্পদ
নেপাল সীমান্তের খুব কাছেরই গ্রাম উত্তারে, সুন্দর সিকিমের অন্যতম সম্পদ। ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই এলাকা এখন পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণও বটে। এখনকার প্রাকৃতিক শোভা এবং আত্মীয়তায় একাত্ম না হওয়া ছাড়া কোনও উপায় নেই। সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের বাড়বাড়ন্ত কিছুটা হলেও সে টানে ভাঁটা ফেলেছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই ফের এলাকায় পর্যটকদের আনাগোনা বাড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। ফলে চটপট ট্যুর প্ল্যান করে ফেলতে পারেন আপনিও।

অবস্থান
সমুদ্রতল থেকে ৬৬০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত উত্তারে পশ্চিম সিকিমের অন্যতম জনপ্রিয় স্থান। পেলিং থেকে এ গ্রামের দূরত্ব ৩০ কিলোমিটার। দার্জিলিং থেকে ১৩৬, গ্যাংটক থেকে ১৪০ এবং নিউজলপাইগুড়ি থেকে ১৬০ কিলোমিটার দূরের এই পার্বত্য এলাকায় যাওয়ার পথে দাঁড়িয়ে থাকা সিংশোর ব্রিজ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম। তার শোভা অসাধারণ।

পৌঁছনোর রাস্তা
নিয়ম মেনে কলকাতা থেকে বাস, ট্রেন বা বিমানে পৌঁছে যাওয়া যায় শিলিগুড়ি। সেখানে থেকে বাস, প্রাইভেট কিংবা ভাড়া করা গাড়িতে উত্তারে পৌঁছতে ঘণ্টা পাঁচেক সময় লাগার কথা। বর্ষাকালে সময় বাড়তে পারে আরও। তাই মরসুম বুঝে ট্যুর প্ল্যান করাটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

দেখার কী আছে
১) টাইটানিক পার্ক এই এলাকার অন্যতম আকর্ষণ। উত্তারের প্রধান বাজারের ঠিক উল্টোদিকে ইতিহাস-খ্যাত জাহাজের অবয়বে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে রয়েছে এক বাড়ি। তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া পার্কের শোভায় মুগ্ধ হতে হয়।
২) প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের জন্য খ্যাত উত্তারের অন্যতম আকর্ষণ দ্য কাগয়ু গুম্ফা। গভীর জঙ্গলে নিজের উপস্থিতি জানান দেওয়া এই স্থপতির মূল আকর্ষণ বিভিন্ন দেওয়াল ছবি। ১৭১১ সালে নির্মিত এই গুম্ফা যে যে ইতিহাসের ধারক ও বাহক, সবটাই ওই ছবিগুলিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এই স্থান থেকেই দৃষ্টিগোচর হয় ডেন্টাম পিক এবং তারই নিচে প্রবাহমান খরস্রোতা নদী।
৩) তেনজিং হিলারি মেমোরিয়াল পার্ক : ২০১৫ সালে তৈরি হওয়া এই পার্ক বর্তমানে উত্তারের অন্যতম আকর্ষণ বলা চলে। যে রাস্তা দিয়ে এই স্থানে পৌঁছতে হয়, তার শোভা অতি মনোরম।
৪) উত্তারে শহর থেকে সাত কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত মাইনবাস ওয়াটারফলের কাছে পৌঁছতে হয় পায়ে হেঁটে। ঘন-জঙ্গলে ঘেরা ওই পাহাড়ি পথ দিয়ে ওপরে ওঠার মজাই আলাদা।
৫) কাঞ্চনজঙ্ঘা দর্শন : আকাশ পরিষ্কার থাকলে উত্তারের সর্বোচ্চ স্থান থেকে দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা।

থাকার ব্যবস্থা
ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা উত্তারে এখন পর্যটকদের পছন্দের ডেস্টিনেশন। সে কথা মাথায় রেখে এই এলাকায় একাধিক রিসর্ট এবং হোম-স্টে তৈরি করা হয়েছে। উত্তারেকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সিকিম প্রশাসন।












Click it and Unblock the Notifications