• search
For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS  
For Daily Alerts

দ্রুত ছড়াচ্ছে নয়া কোভিড স্ট্রেন, করোনার এই নতুন রূপ সম্পর্কে জেনে নিন সব তথ্য

‌গত বছরের করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক ও মহামারি এখনও বিশ্ববাসীর মন থেকে যায়নি, তার মধ্যেই করোনা ভাইরাসের নয়া স্ট্রেন, যা বি.‌১.‌১.‌৭ নামে পরিচিত, তা সম্প্রতি দক্ষিণপূর্ব ইংল্যান্ডে ছড়িয়ে পড়েছে। যার জন্য সরকার গোটা প্রদেশে কড়া লকডাউন জারি করতে বাধ্য হয়েছে। যদিও আমরা এই নতুন ভাইরাসের সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানি না, তবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে এটি অন্য স্ট্রেনের চেয়ে দ্রুত সংক্রমিত হয়। তাহলে জেনে নেওয়া যাক নতুন এই স্ট্রেনের বিষয়ে।

নয়া স্ট্রেন কি

নয়া স্ট্রেন কি

সায়েন্স ম্যাগাজিন অনুযায়ী, সার্স-কোভ-এর বি.‌১.‌১.‌৭ ভার্সানটি ভাইরাসের একটি সংস্করণ, যার ২৩টি মিউটেশন রয়েছে, যার মধ্যে আটটি স্পাইক প্রোটিন, যা ভাইরাসকে আবদ্ধ করে এবং মানবদেহে প্রবেশ করে।

কোথা থেকে এটি এসেছে

কোথা থেকে এটি এসেছে

হু-এর মতে, ২১ সেপ্টেম্বর এটি প্রথম সনাক্ত হয় ইংল্যান্ডের কেন্ট দেশে, এরপর এখান থেকে এই ভাইরাস নভেম্বরে ছড়িয়ে পড়ে। সেই থেকে এটি ইংল্যান্ডের সবচেয়ে সাধারণ ভিন্ন ভাইরাসে পরিণত হয়েছে। হু-এর মতে, অক্টোবর ও ১৩ ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ শতাংশ নতুন কেস ব্রিটেন থেকে আসে। সায়েন্স ম্যাগাজিনের মতে, কিছু কিছু বিজ্ঞানীদের ধারণা এই ভাইরাস হয়ত এমন কোনও ব্যক্তির মধ্যে পরিবর্তন হয়েছে যাকে ইমিউনোকম্প্রোমাইজড করা হয়েছে। কারণ ফ্লুয়ের মতো নয়, নোভেল করোনা ভাইরাস এই ভুলগুলি সংশোধন করতে পারে, যখন এর প্রতিলিপি এক ভাইরাস চলে এসেছে এবং তাতে মোটামুটি স্থিতিশীল জিনোম থাকবে। যদিও সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, কারণ তাঁদের ইমিউনো সিস্টেমকে প্রতিক্রিয়া করানোর জন্য ওষুধ বা উদাহরণস্বরূপ কেমো থেরাপি দিয়ে চিকিৎসা করা হচ্ছে, তাঁরা কয়েক মাস ধরে এই সংক্রমক ভাইরাসের আশ্রয় নিতে পারে। এই ধরনের ব্যক্তিদের দেহে এই ভাইরাস সহজেই ঢুকে পড়ে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ব্যহত করে।

 এই মিউটেশন কি করে

এই মিউটেশন কি করে

আমরা নিশ্চিত করে যদিও এ বিষয়ে কিছুই জানি না। এই ভাইরাস সারাক্ষণ পরিবর্তন হচ্ছে এবং এই পরিবর্তনগুলির বেশিরভাগই ভাইরাসটি কতটা মারাত্মক বা সংক্রমক তা প্রভাবিত করে না। এ ক্ষেত্রে কিছু মিউটেশন খুব বিশুদ্ধভাবে হঠাৎই উদ্ভুত হয় এবং ভাইরাসের ভূমিকাকে প্রভাবিত করে না। কিন্তু তিনটে নির্দিষ্ট মিউটেশন বিশেষজ্ঞদের চিন্তা বাড়াচ্ছে।

প্রথম, দু'‌টি অ্যামাইনো-অ্যাসিড ডিলিসন, যা ৬৯-৭০ডেল হিসাবে পরিচিত, যা প্রথম সনাক্ত হয় আলাদাভাবে এক রোগীর মধ্যে, যাঁর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরির চিকিৎসা চলছিল এবং যিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। ওই রোগীকে রেমডেসিভার। কনভালেসেন্ট প্লাজমা ও নিরপেক্ষ অ্যান্টিবডি দেওয়া হয়। কিন্তু একমাস পর ওই রোগীর মৃত্যু হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভাইরাসটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ধ্বংস করতে তৈরি করা হয়েছিল।

দ্বিতীয় ভাইরাসের ধরন অন্যরকম। এটি এস জিন নামে পরিচিত এবং এরও নিশানায় সার্স-কোভ-২। এই ভাইরাসের ধরণে রোগীর রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। এই এস জিনে কিছু কিছু টেস্টের রিপোর্টে পজিটিভের ছোঁয়া থাকে আর যার ফলে গবেষকরা এই নতুন ভাইরাসটিকে ধরতে পারে না।

করোনার আরও একটি রূপান্তর ও মিউটেশনের নাম এন৫০১ওয়াই, মূল অ্যামিনো অ্যাসিডগুলি পরিবর্তিত করে যা এসএআরএস-কোভি -২ এর তথাকথিত রিসেপ্টর-বাইন্ডিং ডোমেইন তৈরি করে।

দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার এক ডজন সার্স-কোভ-২-এর নমুনার টেস্টের রিপোর্টে নয়া কোভিড স্ট্রেন পজিটিভ পাওয়া গিয়েছে। তবে ল্যাব টেস্টের রিপোর্টে জানা গিয়েছে যে এই দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রিটেনে একই ধরনের মিউটেশান পাওয়া গিয়েছে।

এটা কি সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে

এটা কি সহজে ছড়িয়ে পড়তে পারে

হ্যাঁ, বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে এই নয়া স্ট্রেন ভাইরাস ৫০ থেকে ৭৪ শতাংশের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম। এক সমীক্ষায় জানা গিয়েছে যে, লন্ডন এবং পূর্ব ও পশ্চিম ইংল্যান্ডে নয়া কোভিড স্ট্রেন ৯০ শতাংশ ছড়িয়ে পড়বে মধ্য-জানুয়ারির মধ্যে।

এটা কী আরও মারাত্মক

এটা কী আরও মারাত্মক

বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে জানিয়েছেন যে এখনও এই ভাইরাস কতটা মারাত্মক সে বিষয়ে কোনও প্রমাণ মেলেনি। তবে এটা খুব সহজে ছড়িয়ে পড়ছে। যার অর্থ বেশি করে মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হবেন। হাসপাতালে বেশি সংখ্যাক মানুষের ভিড় বাড়লে স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যাহত হবে যার ফলে মৃত্যুর হার বাড়বে।

 এই নতুন ভাইরাসে কি ভ্যাকসিন কাজ করবে

এই নতুন ভাইরাসে কি ভ্যাকসিন কাজ করবে

বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে নতুন বিকাশ হওয়া ভ্যাকসিন নয়া স্ট্রেনের ওপর কাজ করবে। যখন ভ্যাকসিনগুলি ইমিউন সিস্টেমকে উদ্দীপিত করে, তখন ভাইরাসটি বিভিন্ন অংশে আবদ্ধ হওয়ার জন্য দেহ কোষগুলির একটি প্রতিরোক্ষ ক্ষমতা তৈরি করে। তবে সিডিসির মতে, মুষ্টিমেয় কিছু তথ্যের ভিত্তিতে এটা বলা ঠিক নয় যে ভ্যাকসিন নয়া স্ট্রেনের ওপরও কাজ করবে।

 প্রতিরোধের উপায়

প্রতিরোধের উপায়

বর্তমান করোনা ভাইরাসের মতোই পুরনো অভ্যাসগুলিকে জাগিয়ে রাখতে হবে। মাস্ক পরা, বার বার হাত ধোওয়া, স্যানিটাইজার ব্যবহার করা, ভিড় জায়গা এড়িয়ে চলা ও শারীরিক দুরত্ব বজায় রাখা, এগুলি যথাযথভাবেপালন করে চলতে হবে।

দিল্লি সীমান্তে 'দুর্গ' তৈরি কৃষকদের! কেন্দ্রকে প্রবল চাপে ফেলতে ঘুঁটি সাজাচ্ছেন প্রতিবাদীরা

চটজলদি খবরের আপডেট পান
Enable
x
Notification Settings X
Time Settings
Done
Clear Notification X
Do you want to clear all the notifications from your inbox?
Settings X