WMO Report: কমছে শস্য উৎপাদন, বাড়ছে বন্যা-তাপপ্রবাহ, ভয়ঙ্কর দিকে এগোচ্ছে বিশ্ব
ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন (WMO) সম্প্রতি একটি রিপোর্ট পেশ করেছে। সেখানে বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহ, বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ে হাড় হিম করা সমস্ত তথ্য পেশ করা হয়েছে। গ্রিনহাউস গ্যাসের মাত্রা বেড়ে যাওয়া বা কার্বন নিঃসরণের ফলেই যে বিপদের মুখে দাঁড়িয়ে গোটা বিশ্ব তা এই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপুঞ্জের অধীন একটি সংস্থা হল ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশন। তাদের রিপোর্ট বলছে, তিনটি গ্রিনহাউস গ্য়াস - কার্বন ডাই অক্সাইড, মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইডের পরিমাণ মাত্রা ছাড়িয়েছে। ভারত সহ বিভিন্ন দেশ যার ফলে বন্যা, খরা, তাপপ্রবাহের মতো সমস্যার সঙ্গে লড়ছে। এতে সামগ্রিকভাবে লোকসান হচ্ছে কোটি কোটি ডলার।

১৮৫০ সাল থেকে ১৯০০ সাল পর্যন্ত তাপমাত্রার যা গড় ছিল তা গত কয়েক বছরে গড়ে ১.১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। ফলে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়ার বদল ঘটছে। যা আদতে বিশ্বজুড়ে আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও সমস্য়াপূর্ণ করে তুলছে।

যেমন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্ব আফ্রিকায় লাগাতার খরা হচ্ছে। পাকিস্তানে গত বছর ভয়ঙ্কর বন্যা হয়ে গেল। চিন-ইউরোপে তাপপ্রবাহের মস্ত প্রভাব পড়েছে। ফলে বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ নিজেদের এলাকা থেকে অন্যত্র স্থানান্তরিত হতে বাধ্য হচ্ছেন। শস্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, পানীয় জলের সঙ্কট তৈরি হচ্ছে, সামগ্রিকভাবে মানুষের জীবন সঙ্কটপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে পড়ছে।

২০২২ সালে ভারতে সময়ের আগে বর্ষা এসেছে, এবং যাওয়ার সময় তা দেরিতে গিয়েছে। বর্ষার আগের সময়কালও ভারতে বেশ উষ্ণ ছিল গতবছরে। উত্তরাখম্ডের মতো রাজ্য়ের উদাহরণ টেনে বলা হয়েছে, মাত্রাতিরিক্ত উষ্ণায়নের ফলে সেরাজ্যের নানা জায়গায় বনে দাবালন ছড়িয়েছে।

ওয়ার্ল্ড মেটিওরোলজিক্যাল অর্গানাইজেশনের রিপোর্ট বলছে, তাপপ্রবাহ বাড়ায় শস্য উৎপাদন ধাক্কা খাচ্ছে। ফলে বিভিন্ন শস্য আমদানি বা রপ্তানিতে তার প্রভাব পড়ছে। এর ফলে যে সমস্ত দেশ এর ওপর নির্ভর করে তাদের দেশের খাদ্য বাজারে সঙ্কট তৈরি হচ্ছে। ফলে সামগ্রিকভাবে বিশ্বজুড়ে আর্থ-সামাজিক সঙ্কট দিনদিন প্রবল আকার ধারণ করছে।












Click it and Unblock the Notifications