Climate Change: সমুদ্রের জলের রং বদলে যাচ্ছে, নেপথ্যে কোন ‘মহাপ্রলয়ে’র ইঙ্গিত
সমুদ্রের জলের রং বদলে যাচ্ছে ক্রমশ। সম্প্রতি সমুদ্র বিজ্ঞানীদের গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেইসঙ্গে প্রকৃতির এই খেলার নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে, তা খোঁজার কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে। সমুদ্রের জলের এই রং বদলের পিছনে কোন 'মহাপ্রলয়ে'র ইঙ্গিত রয়েছে, তা খুঁজে বের করতে বদ্ধপরিকর বিজ্ঞানীরা।
সম্প্রতি একটি গবেষণা সামনে এসেছে, তাতে লেখা হয়েছে নিরক্ষরেখরা কাছাকাছি থাকা ট্রপিক্যাল রিজিয়ন বা ক্রান্তীয় এলাকরা সমুদ্রের রং সবুজ হয়ে উঠতে চলেছে। সমুদ্রের রং সাধারণত নীল হয়। সেই নীল রং বদলে গিয়ে সমুদ্র হয়ে উঠছে সবুজ থেকে গাঢ় সবুজ।

বিজ্ঞানীরা প্রাথমিকভাবে মনে করছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমনটা ঘটছে। নেচার জার্নালে এই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, সমুদ্রের জলের রং বদলের অর্থ সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্রে বদল ঘটছে। কারণ বাস্তুতন্ত্রের উপর নির্ভর করে সমুদ্রের চরিত্র বদলের বিষয়টি।
সম্প্রতি যৌথভাবে দুটি প্রতিষ্ঠান সমুদ্রের জল নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছে। আমেরিকার মাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি এবং ইংল্যান্ডের ন্যাশনাল ওলিয়ানোগ্র্যাফি সেন্টার এই গবেষণা করেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, এই রং বদলের জন্য শুধুমাত্র প্রাকৃতিক কারণ দায়ী নয়।
তাহলে আর কী কারণ থাকতে পারে? সমুদ্রের জলের রং বদলের নেপথ্যে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনও। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাস্তুতন্ত্রের বদল ঘটছে। আর জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য শুধু প্রকৃতি দায়ী নয়, এজন্য আমরা কেউই দায় এড়াতে পারি না। আমরা প্রকৃতির খেয়াল রাখছি না বলেই সমস্যা দ্রুত বাড়ছে।

বিজ্ঞানীরা বলেন, এই পরিবর্তন অবশ্য খালি চোখে বোঝা যাবে না। সাধারণ মানুষের পক্ষে এই রং বদল বোঝা সহজ নয়। কিন্তু গবেষণার তথ্যে ধরা পড়েছে এই রং বদল। এখন পর্যন্ত সমুদ্রের ৫৬ শতাংশ এলাকায় রদ বদল হয়েছে। সমুদ্রের এই রংবদল বুঝতে একটি সিমুলেশন চালানো হয়েছিল।
এই গবেষণা রিপোর্টের মূল লেখক বিবি কায়েল বলেন, পৃথিবীর বাস্তুতন্ত্রের উপর মানুষের কাজের প্রভাব কতটা হতে পারে, এই গবেষণা তা আরও একবার স্পষ্ট প্রমাণ করে দিল। সমুদ্রের উপর জলবায়ু বদলের প্রভাব বুঝতে বিজ্ঞানীরা ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের উপর নজর রেখেছিল।
জলজ উদ্ভিদস্বরূপ মাইক্রো অর্গানিজম সমুদ্রের উপরিভাগে থাকে। আর এতে থাকে ক্লোরেফিল। এই ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলের অন্যতম ভিত্তি। তা কার্বন ডাই অক্সাইড সঞ্চয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ২০০২ থেকে ২০২২ পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তার পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পেয়েছেন গবেষকরা।












Click it and Unblock the Notifications