চাঁদের মাটিতে অক্সিজেন পেল নাসা! মানব উপনিবেশ গড়ার পথে আরও একধাপ
চাঁদের মাটি থেকে অক্সিজেন আহরণ করতে সক্ষম হয়েছে নাসা! নাসার এই পদক্ষেপ তাদের চাঁদের মাটিতে মানব উপনিবেশ গড়ার পথে আরও একধাপ এগিয়ে দেবে বলে মনে করছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। নাসার এই সাফল্যে চাঁদে গিয়ে নভশ্চররা অক্সিজেনের সাহায্যে শ্বাস-প্রশ্বাসের নিতেও সক্ষম হবেন।
নাসা সম্প্রতি চাঁদ থেকে আনা মাটি থেকে অক্সিজেন বের করেছে। নাসার বিজ্ঞানীরা একটি ভ্যাকুয়ামের সাহায্যে চাঁদের মাট থেকে অক্সিজেন আহরণ করে আনছে। এই সাফল্য ভবিষ্যতে চাঁদের মাটিতে শুধু মহাকাশচারীদের সুবিধা করে দেবে তা নয়, মনুষ্য বসতি গড়ে তোলার পথ দেখাতে পারে।

মানব উপনিবেশ তৈরি করে মহাকাশ অনুসন্ধানের জন্য চাঁদকে প্রপেলান্ট হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। চাঁদের মাটি পরীক্ষা করতে নাসার বিজ্ঞানীরা ডার্টি থার্মাল ভ্যাকুয়াম চেম্বার ব্যবহার করেছিলেন। এই চেম্বারটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে নমুনাগুলি ভিতরে পরীক্ষা করা যায়।
চেম্বারটি এমনভাবেই তৈরি করা হয়েছিল, যেটা চাঁদের অবস্থার অনুরূপ। সেখানে কোনো বায়ুমণ্ডল নেই আর তাপমাত্রা মাইনাস ১৭৩ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড থেকে ১২৭ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড পর্যন্ত হতে পারে। ওই তাপীয় ভ্যাকুয়াম চেম্বারের ভিতরে বিজ্ঞানীরা চাঁদের মাটির সিমুল্যান্ট থেকে অক্সিজেন বের করেন।

অক্সিজেন বের করার জন্য একটি কার্বোথার্মাল চুল্লি ব্যবহার করেছিলেন তাঁরা। কার্বোথার্মাল রি-অ্যাক্টর হল এমন একটি যন্ত্র, যা তাপ দ্বারা উপাদানগুলিকে ভেঙে দেয়। এক্ষেত্রে চুল্লিটি চাঁদের মাটির নমুনাকে হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় গরম করতে ব্যবহৃত হয়েছিল, যার ফলে এটি গলে গিয়েছিল।
সৌর শক্তির সাহায্যে ব্যবহৃত একটি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন লেজার ব্যবহার করা হয়েছিল চাঁদের মাটির নমুনাকে গলানোর জন্য। লেজারটি হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল। তা ছিল সূর্যালোকে চাঁদের পৃষ্ঠের তাপমাত্রার অনুরূপ। এই প্রক্রিয়াটি সৌর প্যানেল এবং স্টিলের মতো আইটেম তৈরি করতে পৃথিবীতে ব্যবহার হয়।

কার্বোথার্মাল চুল্লিতে চাঁদের মাটি উত্তপ্ত হওয়ার পরে কার্বন মনোক্সাইড শনাক্ত করতে মাস স্পেকট্রোমিটার অবজারভিং লুনার অপারেশনস নামে একটি ডিভাইস ব্যবহার করা হয়। তা গ্যাসের গঠন পরিমাপ করতে পারে। কার্বন মনোক্সাইড হল কার্বোথার্মাল বিক্রিয়ার একটি উপজাত পদার্থ।
ওই মেশিন ইঙ্গিত দেয় এই প্রক্রিয়াটি সফল হয়েছে এবং চাঁদের মাটি থেকে অক্সিজেন আহরণও সম্ভব হয়েছে। এরপর নাসা এ বছরই পোলার রিসোর্সেস আইস মাইনিং এক্সপেরিমেন্ট ওয়ানে এবং ২০২৪-এর নভেম্বরে নাসার ভোলাটাইলস ইনভেস্টিগেটিং পোলার এক্সপ্লোরেশন রোভার মিশনে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অনুরূপ ডিভাইস পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে৷












Click it and Unblock the Notifications