প্রার্থী বাছাই করতে বিজেপির এত হিমশিম অবস্থা কেন?

প্রার্থী বাছাই করতে বিজেপির এত হিমশিম অবস্থা কেন?

শেষ চার দফা ভোটের প্রার্থী তালিকা অবশেষে প্রকাশ করল বিজেপি। এবং অবশ্যই সম্পূর্ণ নয়। হিসেব মতো এখনও ১০ জনের তালিকা প্রকাশ বাকি। প্রকাশিত তালিকার দু'জন জানিয়ে দিয়েছেন তাঁরা ভোটে দাঁড়াচ্ছেন না। তাঁরা বিজেপির হয়ে দাঁড়াবেন কেন? এমনিতেই তালিকা দেখলে বিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। মনে হতেই পারে এ যেন তৃণমূলের আর একটা তালিকা। তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ যাঁরা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, অল্প ক'জন বাদে সবাইকেই প্রায় প্রার্থী করে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া এমন অনেককে প্রার্থী করা হয়েছে যাঁরা বিভিন্ন পেশায় রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে বিজেপির প্রত্যক্ষ সংযোগ খুব ছিল না। হঠাৎই পার্টি নেতৃত্বের মনে হয়েছে তাঁদের দাঁড় করানো উচিত। নিশ্চয়ই ভালো ফলের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ভালো করে খতিয়ে দেখলে বুঝতে পারা যাবে প্রার্থী হিসেবে যাঁদের বাছা হয়েছে তাঁরা অনেকেই উপযুক্ত প্রার্থী নয়। কারও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল নয়, আবার কেউ বা অতি উন্নতনাসা। সাধারণের সঙ্গে তাঁর যোগ খুবই ক্ষীণ। সবই খুব অগোছালো।

আগে কি প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া হয়নি

আগে কি প্রার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া হয়নি

বৃহস্পতিবার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করার পর দেখা দেখা গেল দু'জন প্রকাশ্যে জানিয়ে দিলেন তাঁরা প্রার্থী হচ্ছেন না। চৌরঙ্গী কেন্দ্রের প্রার্থী হিসেবে নাম দেওয়া হয়েছিল শিখা মিত্র চৌধুরী। শিখা মিত্র প্রয়াত কংগ্রেস নেতা সোমেন মিত্রর স্ত্রী। একসময় তিনি ও সোমেন মিত্র তৃণমূল কংগ্রেসেই ছিলেন। তৃণমূলের বিধায়ক হয়েছিলেন। পরে সম্পর্ক খারাপ হওয়ায় সোমেন মিত্রর সঙ্গে তিনিও তৃণমূল ছেড়ে দেন। আশ্চর্য ব্যাপার তাঁর সঙ্গে কোনও কথা না বলে বিজেপি তাঁকে প্রার্থী ঘোষণা করে দিল! অন্যজন তরুণ সাহা। তাঁকে কাশীপুর বেলগাছিয়া কেন্দ্রের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রকাশের পর তরুণ বিস্মিত হয়ে জানিয়েছেন, আমি কবে বিজেপি হলাম! আমি তৃণমূল ছিলাম তৃণমূল আছি এবং তৃণমূল থাকব। প্রার্থী হিসেবে ওরা হঠাৎ আমার নাম প্রকাশ করে দিল কেন। এঁরা তো কেউ বিজেপিতে যোগ দেননি! তাহলে এঁদের প্রার্থী তালিকাভুক্ত করা হল কেন! কদিন আগে হাওড়া দক্ষিণের প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পর রন্তিদেব সেনগুপ্ত জানিয়েছিলেন তিনি নির্বাচনে লড়বেন না। দলের হয়ে প্রচারের কাজ করবেন। পরে অবশ্য উচ্চতর নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে তিনি সিদ্ধান্ত বদল করেন। কেন, প্রার্থী করার আগে কি তাঁর সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হয়নি? রন্তিদেব সেনগুপ্ত নিষ্ঠার সঙ্গে বিজেপি করেন। অনেকদিন ধরেই করছেন। তাঁর ক্ষেত্রে অন্তত এমন ভুল বোঝাবুঝি হওয়ার তো কথা নয়। কেন হল!

শোভন-বৈশাখীর সঙ্গে কি দর কষাকষি চলছে

শোভন-বৈশাখীর সঙ্গে কি দর কষাকষি চলছে

শোভন-বৈশাখীকে নিয়ে বিস্তর টানাপোড়েন চলছে বিজেপিতে। বোঝা যাচ্ছে না কে কাকে ব্ল্যাকমেইল করছে। বিজেপি শোভন-বৈশাখীকে, নাকি শোভন-বৈশাখী বিজেপিকে? বৈশাখীকে নিয়ে গন্ডগোলের ফলে শোভন তৃণমূল ছাড়তে বাধ্য হয়ে বিজেপিতে গিয়েছিলেন। দু'জনে একসঙ্গে। ঘটা করে প্রেস কনফারেন্স করে হাতে পতাকা তুলে নিয়ে যোগদান হয়েছিল। দীর্ঘদিন পড়ে ছিলেন গুরুত্বহীন হয়ে। বিস্তর দৌড়াদৌড়ি মান অভিমান তাতেও চিঁড়ে ভেজেনি। শোভন আর কোথাও যাওয়ার জায়গা না পেয়ে ওখানেই পড়েছিলেন। হঠাৎ ভোট এসে পড়ায় আবার শোভনের কিছুটা দাম বেড়ে যায়। তাঁকে নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়। নাকি কথা ছিল তাঁকে পূর্ব বেহালায় দাঁড় করানো হবে এবং বৈশাখীকে প্রার্থী করা হবে। প্রথমদিকে প্রকাশিত চার দফা তালিকাতে শোভন-বৈশাখীর জায়গা হয়নি। তাতেই শোভন ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদে বিজেপির সংশ্রব ছাড়তে চেয়ে চিঠি পাঠিয়ে দেন রাজ্য সভাপতিকে। সে চিঠি গৃহীত হয়েছে বলে জানা যায়নি এবং এও জানা যায়নি শোভন-বৈশাখী সত্যি সত্যি বিজেপির সঙ্গে সংশ্রব ছিন্ন করেছেন কিনা। হয়তো তিনি অপেক্ষায় আছেন যে ১০-১২ জনের তালিকা প্রকাশ বাকি আছে, তার মধ্যে হয়তো তাঁকে তাঁর পছন্দের আসনে প্রার্থী করা হবে এবং বৈশাখীও প্রার্থী হবেন।

বিজেপি দিশেহারা কেন

বিজেপি দিশেহারা কেন

বিজেপির এমন দিশেহারা অবস্থা কেন? তাদের দলে কি প্রার্থী হবার মতো যোগ্য লোক নেই। যদি তাই না থাকবে তাহলে এত ক্ষোভবিক্ষোভ হয় কী করে। ক্ষুব্ধ দলের কর্মী-সমর্থকদের সামাল দিতে প্রার্থীও বদল করা হচ্ছে। আলিপুরদুয়ারে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছিল অর্থনীতিবীদ অশোক লাহিড়ীকে। লোকে মজা করে বলতেও শুরু করেছিল, বিজেপি যদি জেতে তাহলে মুখ্যমন্ত্রী কে হবে তার ঠিক নেই কিন্তু অর্থমন্ত্রী ঠিক করে রাখা হয়েছে। সেই অশোক লাহিড়ীকে এখন বালুরঘাটে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার নিজস্ব কোন কেন্দ্র নেই। তাই তাকে নিয়ে বল লোফালুফি খেলার অসুবিধা নেই। পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে তাতে মনে হয় প্রার্থী নিয়ে আরও বল লোফালুফি খেলা হবে। আপাতভাবে পরিস্থিতি তাই। তবে আগে বলেছি আবারও বলছি, নরেন্দ্র মোদি কিন্তু এত সরল অঙ্কে চলেন না। এর মধ্যে কোনও খেলা থাকলেও থাকতে পারে!

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+