সন্দেশখালি নিয়ে সুর চড়াল বিজেপি! কী লুকোতে চাইছেন মমতা প্রশ্ন প্রসাদের, রাহুলের নীরবতা নিয়ে কটাক্ষ
সন্দেশখালি নিয়ে সুর আরও চড়াল বিজেপি। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে এদিন বিহারের পটনা সাহিবের বিজেপি সাংসদ তথা দেশের প্রাক্তন আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছেন। তিনি কটাক্ষ করে বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিবেক মৃত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সন্দেশখালির মূল্য চোকাতে হবে বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
বিজেপি নেতা বলেছেন, সিপিআইএমের বিরুদ্ধে আন্দোলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী লুকোতে চাইছেন। সন্দেশখালিতে সাংবাদিকের গ্রেফতার হওয়া নিয়ে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে প্রশ্ন করেছেন, কেন তিনি এমন করছেন।

এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপি নেতা বলেছেন, সন্দেশখালির বিষয়টি গুরুতর। মহিলাদের সম্মানের প্রশ্নে তিনি বলেছেন, এই ঘটনা সমাজের পক্ষে লজ্জাজনক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ইস্যু থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন। তিনি কী লুকোতে চাইছেন, সেই প্রশ্ন করেছেন বর্ষীয়ান এই বিজেপি নেতা।
তিনি বলেছেন, সন্দেশখালিতে মহিলাদের প্রতি নৃশংসতা, অবমাননাকর আচরণ, যৌন হয়রানির বিষয়গুলি সামনে এসেছে। বিজেপি নেতার অভিযোগ এরপরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হিংসার পক্ষেই কথা বলছেন। তিনি বলেছেন, নিজের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি বাঁচাতে একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী মহিলাদের সম্মান ঝুঁকির মুখে ফেলেছেন।
দেশের প্রাক্তন আইনমন্ত্রী সন্দেশখালি ইস্যুতে ইন্ডিয়া ব্লকের দলগুলির নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন করেছেন। তিনি বলেছেন, যেখানে মহিলারা শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের শিকার সেখানে ইন্ডিয়া ব্লকের নেতারা ভোটের জন্য নীরব। তিনি প্রশ্ন করেছেন রাহুল গান্ধীর নীরবতা নিয়ে। কেজরিওয়াল এবং সনিয়া গান্ধীর নীরবতা নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি।
রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেছেন, সিপিআইএম নেত্রী বৃন্দা কারাত সন্দেশখালি সফর করেছেন। রবিশঙ্কর প্রসাদের অভিযোগ সিপিআইএম এখনও পর্যন্ত ঘটনার প্রতিবাদ করেনি। যদিও রাজ্য সিপিআইএমের তরফে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা বলেছে, এলাকায় দলের প্রাক্তন বিধায়ক নিরাপদ সর্দারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সন্দেশখালি নিয়ে বামদলগুলির কর্মসূচির কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে রাজ্য সিপিআইএম নেতৃত্ব।
প্রসঙ্গত নয় দিন ১৪৪ ধারা জারি থাকার পরে মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশের পরে এলাকায় যান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। প্রথমে বাধা পেলেও, পরে সন্দেশখালিতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন সিপিআইএম নেত্রী বৃন্দা কারাত।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী পরে জানান, তিনি পুরো এলাকা পরিদর্শন করেছেন। দলের ১৪ জন কর্মী জেলে রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। ভোট লুটেরা থেকে ধর্ষক সবাই মমতার লোক বলে অভিযোগ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সবাই জেলে যাবে। তিনি ফের সন্দেশখালিতে যাবেন বলে জানিয়েছেন।












Click it and Unblock the Notifications