তৃণমূল জমানায় দুর্নীতি শতগুণ বেড়েছে, মমতা-অভিষেককে নিয়ে বিস্ফোরক দীনেশ ত্রিবেদী
তৃণমূল জমানায় দুর্নীতি শতগুণ বেড়েছে, মমতা-অভিষেককে নিয়ে বিস্ফোরক দীনেশ ত্রিবেদী
দলের মধ্যে থেকেই তিনি তৃণমূলের (trinamool congress) খারাপ দিকগুলি তুলে ধরেছিলেন। যেই কারণে তাঁকে খারাপ লোকের তকমা দেওয়া হয়েছিল। এদিন এক সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটাই দাবি করেছেন, প্রাক্তন সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদী (dinesh trivedi)। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (mamata banerjee) পাশাপাশি নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও (abhishek banerjee) নিশানা করেছেন তিনি।

দলকে বলেছিলেন, অভিযুক্তদের দূরে রাখতে
দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, নারদা কেলেঙ্কারির মতো অনেকগুলি ক্ষেত্রেই তৃণমূল নেতাদের ঘুষ দিতে দেখা গিয়েছিল। সেই সময় তিনি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে বলেছিলেন অভিযুক্তদের দল থেকে দূরে রাখতে। তিনি বলেছিলেন, যাঁদের ঘুত নিতে দেখা গিয়েছে তাঁদের দোষ প্রমাণিত না হলেও তাঁদের দূরে রাখা উচিত। কিন্তু দল তাঁকেই দূরে করে দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ। কাটমানির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, তৃণমূল সুপ্রিমোর কাছে বিষয়টি তুলেছিলেন। পাশাপাশি অন্য সিনিয়র নেতাদের সামনে বিষয়টি নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই সরব হয়েছেন।

মমতা ও অভিষেককে নিশানা
দীনেশ ত্রিবেদী অভিযোগ করেছেন, ২০১৬-র নির্বাচনের আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশেই তাঁকে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের বাইরে রাখা হয়েছিল। দীনেশ ত্রিবেদী এদিন রাজনীতিতে পরিবার তন্ত্রের প্রতিও সরব হয়েছেন। তবে তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নাম নেননি। তিনি বলেছেন, দলের নেতাদের নম্ব্র হওয়া দরকার। কেননা ভারতের সংস্কৃতিতে নম্রতা একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক।
দীনেশ ত্রিবেদী রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্র নিয়ে বামেদের পাশাপাশি বিজেপির প্রশংসা করেছেন। এই দুই দলের শীর্ষে ভাই-ভাতিজা রাজনীতি নেই বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তৃণমূল ত্যাগী এই নেতা বলেছেন, প্রচারে কোনও প্রার্থীর নিজের কেন্দ্রে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা উচিত নয়। পাশাপাসি নবীন যাঁরা সাংসদ হয়েছেন, তাঁদের ভাষা প্রয়োগের ব্যাপারেও সতর্ক থাকা উচিত।

দুর্নীতি বেড়েছে শতগুণ
তিনি বলেছেন, তৃণমূল যে পরিবর্তনের স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল, সেই পরিবর্তন হয়নি। তিনি বলেছেন, যদি হিংসা, দুর্নীতির কথা বলা হয়, সেখানে কোনও পরিবর্তন আসেনি। বরং তা বাম জমানার থেকে শতগুণ বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। দীনেশ ত্রিবেদীর অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার মধ্যবিত্তদের সমস্যার প্রতি কোনও নজর দেয়নি।

১২ ফেব্রুয়ারি রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা
তৃণমূলে থাকতে গিয়ে দম বন্ধ হয়ে আসছিল। এই অভিযোগ করে ১২ ফেব্রুয়ারি রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দেন দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি আরও বলেছিলেন, দলের লাগাম এখন আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে নেই।












Click it and Unblock the Notifications