'বাম ও কংগ্রেসের ডিজাস্টার রেজাল্ট হয়েছে', পদত্যাগের জল্পনা উড়িয়ে বললেন ফ্রন্ট চেয়ারম্যান
ভোটের আগে ভাইজান এবং কংগ্রেসের সঙ্গে ব্রিগেড বাড়তি অক্সিজেন যোগায় আলিমুদ্দিনের ম্যানেজারদের। কিন্তু ভোটের ফলাফলে উলটো ছবি। কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে বামেদের স্ট্র্যাটেজি। একই হাল আইএসএফ, কংগ্রেসেরও।
ভোটের আগে ভাইজান এবং কংগ্রেসের সঙ্গে ব্রিগেড বাড়তি অক্সিজেন যোগায় আলিমুদ্দিনের ম্যানেজারদের। কিন্তু ভোটের ফলাফলে উলটো ছবি। কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে বামেদের স্ট্র্যাটেজি। একই হাল আইএসএফ, কংগ্রেসেরও।

যে মুসলিম ভোট পাবে বলে আশা করেছিলেন বিমান বসুরা সেই ভোট গিয়েছে তৃণমূলের কাছে। স্বাধীনতার পর এই প্রথম বাম-কংগ্রেস শূন্য বিধানসভা গঠিত হল বাংলায়। আর দলের এই ফলাফলকে বিপর্যয় বলে বর্ণনা করলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু।
আজ শনিবার আলুমিদ্দিন স্ট্রিটে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিমান বসু। সেখানে তিনি বলেন, 'বাম ও কংগ্রেসের ডিজাস্টার রেজাল্ট হয়েছে।' এর থেকে বেশি আইএসএফ কিংবা কংগ্রেসকে নিয়ে এদিন বাড়তি একটা শব্দও খরচ করেননি ফ্রন্ট চেয়ারম্যান।
রাজনৈতিকমহলের মতে, একাধিকবার বাম-কংগ্রেসের জোটের কথা শোনা গিয়েছে। এমনকি একাধিক সময়ে মান্নান-সুজনকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছে। এই ফলাফল কি তাহলে পাকাপাকিভাবেই বাম-কংগ্রেসের বিচ্ছেদ ঘটাতে চলল? প্রশ্ন রাজনৈতিকমহলের একাংশের।
এদিকে বামেদের এই ভরাডুবির পর কয়েকদিন ধরেই বামফ্রন্ট চেয়ারম্যানের পদ থেকে বিমান বসুর পদত্যাগ নিয়ে জল্পনা চলছে।
যদিও সেই জল্পনায় জল ঢেলে বিমান জানালেন এগুলো আজগুবি গল্প। তাঁর কথায়, "আমার পদত্যাগ নিয়ে কিছু বলা হলে, সেটা আজগুবি গল্প।" দলের এই পরাজয়ের পরেও ফ্রন্ট চেয়ারম্যান হিসাবে তিনিই থাকছেন। স্পষ্ট এদিন বুঝিয়ে দিয়েছেন বিমান বসু।
অন্যদিকে এই ফলাফলের পরেই কার্যত দলের মধ্যেই বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে। একদিকে সিপিএম প্রার্থী তথা প্রাক্তন বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্যের মতো নেতা এই বিপর্যয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকেই নিশানা করেছেন।
অন্যদিকে কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়, অশোক ভট্টাচার্যের মতো নেতারাও মুখ খুলেছেন। একের পর এক নেতা এভাবে মুখ খোলায় স্বভাবতই অস্বস্তিতে বিমান-সূর্যরা।
সে প্রসঙ্গে এদিন বিমানবাবুকে প্রশ্ন করা হলে কিছুটা বিব্রত হয়ে পড়েন বিমানবাবু। যদিও নিজের স্টাইলে প্রশ্নটি এড়িয়ে যান তিনি। শুধু বলেন, ফলাফল নিয়ে কেউ কিছু বলে থাকলে নিজের দায়িত্বে বলেছেন।
উল্লেখ্য, দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খোলার জন্য ইতমধ্যে তন্ময় ভট্টচারজকে শোকজ করেছে আলিমুদ্দিন। অন্যদিকে, ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে রাজ্যের শাসক দলকে নিসানা করেন বিমান।
বলেন, "রাজ্যের নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিতে আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম। দেখা না করায় আমাদের বক্তব্য মেল করেছি। তৃণমূল বিরাট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। এই সময় উচিত ছিল যারা গোলমাল করে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা।" কিন্তু তা করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ বামফ্রন্ট চেয়ারম্যানের।
বিমান বসু বলেন, এত সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আসার পর তাদের থেকে এটা কাম্য নয়। নির্বাচন পরবর্তী হিংসায় যাঁরা মারা গিয়েছেন দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে বলে সুর চড়ান তিনি।












Click it and Unblock the Notifications