‘আম্ফানে’র দুরন্ত ঘূর্ণি লেভেল ফাইভ ক্যাটাগরির! তেজে পারাদ্বীপ-ফণীর সমান
সুপার সাইক্লোন আম্ফান বা আমফানকে লেভেল ফাইভের ঝড় আখ্যা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। গতিবেগে হয়তো পারাদ্বীপের সেই ঝড়ের থেকে অনেক কম, তবু দীর্ঘমেয়াদি তাণ্ডব চালাতে সে সিদ্ধাহস্ত।
সুপার সাইক্লোন আম্ফান বা আমফানকে লেভেল ফাইভের ঝড় আখ্যা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আবহবিদরা মনে করছেন ঘূর্ণিঝড় আম্ফান যাঁকে থাইল্যান্ডের স্থানীয় ভাষায় উম্পুনও বলা হচ্ছে, তা ১৯৯৯ সালের ওড়িশার পারাদ্বীপের ঘূর্ণিঝড়ের ক্যাটাগরির। গতিবেগে হয়তো পারাদ্বীপের সেই ঝড়ের থেকে অনেক কম, তবু দীর্ঘমেয়াদি তাণ্ডব চালাতে সে সিদ্ধাহস্ত।

লেভেল ফাইভ ক্যাটাগরির ঝড় আম্ফান
শক্তিশালী আম্ফান রুদ্রমূর্তি নিয়ে প্রায় ১৮ ঘণ্টা ভারতীয় উপকূলে তাণ্ডব চালাবে। সেই কারণেই এই ঝড়কে লেবেল ফাইভ ক্যাটাগরিতে ফেলেছেন বিশেষজ্ঞরা। পারাদ্বীপের সেই ঝড় বা ফণীর থেকে কম গতিবেগ আম্ফান। কিন্তু আম্ফানের তেজ ওদের কারও থেকে কম নয়। আয়লার থেকে তাই বেশি ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে বাংলার উপকূলে।

পারাদ্বীপের ঘূর্ণিঝড়ের মতোই তেজ আম্ফানের
তবে ১৯৯৯ সালের পারাদ্বীপের ঘূর্ণিঝড় লেভেল ফাইভ স্তরে পৌঁছে গিয়েছিল। সেই ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৬০ কিমি। তিরিশ বছরের ইতিহাসে এমন ঝড় আসেনি ভারতের কোনও রাজ্যে। এই ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এরপর ২০০৭-এ গোনু এবং ২০১৯-এ কিয়ার দুরন্ত ঘূর্ণি নিয়ে ধেয়ে এলেও, তা আছড়ে পড়েনি স্থলভাগে আরব সাগরেই দুর্বল হয়ে পড়ে ঝড় দুটি।

ফণীর মতো শক্তিশালী ঝড় আম্ফান
বাংলার উপর দিয়ে যেমন সাম্প্রতিক ইতিহাসে বয়ে গিয়েছে আয়লা ও বুলবুল, তেমনই ওড়িশাও ভয়াবহ সাইক্লোনের মুখে পড়েছে। তার মধ্যে সাম্প্রতির ইতিহাসে ২০১৯-এর মে মাসে ফণীর বীভৎসা ভয়ঙ্কর ছিল। ফণী ২০৫ কিলোমিটার বেগে হানা দিয়েছিল ওড়িশার সমুদ্র উপকূলে। তছনছ হয়ে গিয়েছিল ওড়িশা। পুরীতেও মারাত্মক আঘাত হেনেছিল তা।

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের সঙ্গে তুলনা আয়লার
ঘূর্ণিঝড় আম্ফানকে পারাদ্বীপ ও ফণীর সমগোত্রীয় ঝড় বলে ব্যাখ্যা করছেন বিশেষজ্ঞরা। আয়লাকে বিশেজ্ঞরা বলছেন দ্বিতীয় স্তরের ঝড়। কিন্তু পারাদ্বীপ বা ফণীর মতো আম্ফানকে পঞ্চম স্তরের ঝড় বলে মনে করছেন আবহবিদরা। এই তিন ঝড়কে এক্সট্রিমসেভিয়ার সাইক্লোন বলে অভিহিত করা হচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড় আয়লা বাংলার বুকে বড় ঝড়
২০০৯ সালে বাংলার বুকে আছড়ে পড়েছিল ঘূর্ণিঝড় আয়লা। ঘণ্টায় ১১২ কিমি বেগে আছড়ে পড়েছিল দুই ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ সমুদ্র উপকূলে। ২০০৯-এর ২৫ মে তছনছ হয়ে গিয়েছিল আয়লা। সেই ক্ষত এখনও শুকোয়নি বাংলার। এখনও সেই ক্ষতে প্রলেপ লাগানোর কাজ চলছে। তারপরও আরও এক ঘূর্ণি হানা দিয়ে গিয়েছে বাংলার বুকে।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলকে আটকে দেয় ম্যানগ্রোভ
২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় ফের আছড়ে পড়ে বাংলার উপকূলে। এবার সাগরের অদূরেই বকখালি ও ঝড়খালিতে তাণ্ডব চালায়। তবে ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার বেগে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে প্রবেশ করলেও, তার ক্ষমতা অনেকটা লোক করে দেয় সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য। ফলে খুব বেশি ক্ষতিসাধন করতে পারেনি বুলবুল।












Click it and Unblock the Notifications