‘ডেভিলস নট’-এর অনুকরণে সিরিয়াল কিলিং! উদয়নের ‘কীর্তি’তে দেশ তোলপাড়

Subscribe to Oneindia News
For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    বিশ্বে এমন নজির অনেক রয়েছে, কিন্তু বাঙালি সাইকো কিলারের কথা আগে শোনা যায়নি। এবার সেই অভাবও পূর্ণ করে দিয়েছে উদয়ন। উদয়ন দাস। এই ২০১৭-তেই বাঙালি সাইকো কিলারের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। একেবারে সিনেমার চিত্রনাট্যের সঙ্গে মিলিয়ে একে একে মা-বাবা ও প্রেমিকাকে সরিয়ে দেয় দুনিয়া থেকে। সাইকো কিলার এই সিরিয়াল কিলিং-এর ঘটনা দেশের বুকে তোলপাড় ফেলে দেয়।

    আসলে এই সাইকো কিলার খাঁটি বাঙালি। বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার সুখেন্দু হীরার নেতৃত্বে তদন্তে নেমে মধ্যপ্রদেশ থেকে গ্রেফতার থেকে শুরু করে উদয়নের বাংলা যোগও খুঁজে পান তদন্তকারীরা। উদয়ন মধ্যপ্রদেশ বা ছত্তিশগড়ের বাসিন্দা নয়, বাংলাদেশ থেকে তাঁর পরিবার হাওড়ার সালকিয়ায় বাসা বেঁধেছিল। তারপরই উদয়নের বাবা চলে যায় মধ্যপ্রেদেশে, জানতে পারে পুলিশ। হাওড়ার সালকিয়ায় তাঁর কাকাকে ভুয়ো এসএমএস করেছিল উদয়ন। তা থেকেই জানা যায় উদয়নের বাংলা যোগের কথা।

    ‘ডেভিলস নটে’র অবলম্বনে প্রেমিকা খুন

    ‘ডেভিলস নটে’র অবলম্বনে প্রেমিকা খুন

    একেবারে সিনেমার চিত্রনাট্য ফলো করেই প্রেমিকা আকাঙ্ক্ষা শর্মাকে খুনের ছক কষেছিল সিরিয়াল কিলার উদয়ন দাস। আমেরিকান সিনেমা ‘ডেভিলস নট'-এর কাহিনি অবলম্বন করে আকাঙ্ক্ষা খুনের ‘চিত্রনাট্য' সাজায়। তারপর সেই পরিকল্পনামাফিক প্রেমিকাকে খুন করে দেহ লোপাট করে দেয় উদয়ন। বাঙালি এই সাইকো কিলারকে ম্যারাথন জেরায় উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
    সিরিয়াল কিলার উদয়ন দাসকে হেফাজতে নিয়ে বাঁকুড়া জেলা পুলিশ ম্যারাথন জেরা চালায়। স্বয়ং পুলিশ সুপার সুখেন্দু হীরা টানা জেরা চালিয়ে তাঁর মুখ থেকে কথা বের করে আনেন। জেরায় নানা অপ্রাসঙ্গিক বিষয় উত্থাপন করে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল উদয়ন। তারই মধ্যে পুলিশের সামনে উঠে আসে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য।

    তদন্তকারীদের কাছে উদয়ন জানায়, তার পছন্দের সিনেমা ছিল ডেভলস নট। সেই সিনেমা সে বহুবার দেখেছে। তার বাড়ি থেকে এই সিনেমার সিডিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। সত্যি ঘটনা অবলম্বনে আমেরিকান সিনেমা এই ডেভিলস নট। এই সিনেমায় ছিল টান টান উত্তেজনাময় থ্রিলার। সেই থ্রিলারই বাস্তবে করে দেখায় উদয়ন।

    ডেভিলস নট দেখে খুনের ‘মোডাস অপারেন্ডি’ তৈরি

    ডেভিলস নট দেখে খুনের ‘মোডাস অপারেন্ডি’ তৈরি

    এই সিনেমায় তিনজন টিনএজার খুন করে দেহ লোপাট করেছিল তিনজনের। সিনেমার চিত্রনাট্য মেনে সে খুন করে, তারপর নিজেকে আড়াল করতে সমস্তরকম প্রয়াস সে নেয় এই সিনেমার চিত্রনাট্য অনুযায়ী। খুনের সমস্ত মোডাস অপারেন্ডি সে তৈরি করেছিল বারবার এই সিনেমা দেখে। কোথাও যেন কোনও ফাঁক না থাকে, তা নিশ্চিত করেই উদয়ন এগিয়েছিল অপারেশনে।

    নিজের বাবা-মা ও প্রেমিকাকে নৃশংসভাবে খুন করে পুতে দেওয়ার পর পুলিশের জালে ধরা পড়েও উদয়নের মধ্যে কোনও অনুতাপ নেই। সে ভাবলেশহীন ছিল। নির্বিকার থেকেছিল পুলিশি জেরার মুখেও। এমনকী এদিন বাঁকুড়া সদর থানার পুলিশ লকআপে থাকাকালীন উদয়ন এক পুলিশ অফিসারকে জিজ্ঞাসা করে, তার কী শাস্তি হতে পারে। যদি মৃত্যুদণ্ড হয়, তা কতদিনে কার্যকর হতে পারে ইত্যাদি, ইত্যাদি। তা থেকে স্পষ্ট মানসিকভাবে শক্তই রয়েছে সে।

    ফেসবুকে রূপকথার সাম্রাজ্য গড়েছিল উদয়ন

    ফেসবুকে রূপকথার সাম্রাজ্য গড়েছিল উদয়ন

    বাঁকুড়ার বাসিন্দা আকাঙ্খা শর্মার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা থেকে তাঁকে নৃশংস খুন করে মেঝেয় পুতে দেওয়া- মূল মামলাটি ছিল বাঁকুড়া থানাতেই। সেই কারণেই বাঁকুড়া আদালতে পেশ করার তোড়জোড় সিরিয়াল কিলার উদয়ন দাসকে। আকাঙ্খার পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের মেয়ে স্বেচ্ছায় চলে যায়নি, তাকে অপহরণ করে খুন করা হয়েছে। তারপর মধ্যপ্রদেশের সাকেতনগরে নিজের বাড়ির মেঝেতে তাঁর দেহ পুতে দেয় উদয়ন।

    উদয়ন জেরায় স্বীকার করেছে, সে শুধু আকাঙ্খাকেই নয়, নিজের বাবা-মাকেও খুন করে পুতে দিয়েছে দেহ। রায়পুরের বাড়ির মেঝেতে বাবা-মার দেহ পুতে দেওয়ার পর দীর্ঘদিন বাবাকে ফেসবুকে জীবিত রেখেছিল সে। ফেসবুকে গড়ে তুলেছিল রূপকথার সাম্রাজ্য। নিজেকে একজন মার্কিন গবেষক বলে পরিচয় দিয়েছিল সে। ফেসবুকে তাঁর ফেক প্রোফাইলে নিজেকে মস্কো-প্যারিসের বাসিন্দা বলে পরিচয় দিত উদয়ন। মোট ছ'টি ভুয়ো ফেসবুক অ্যাকাউন্টের খোঁজ পেয়েছে পুলিশ।

    English summary
    Udayan had planned to murder his lover Akangkha in imitation of American cinema 'devil's knot'.

    Oneindia - এর ব্রেকিং নিউজের জন্য
    সারাদিন ব্যাপী চটজলদি নিউজ আপডেট পান.

    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Oneindia sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Oneindia website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more