• search
For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS  
For Daily Alerts

আজ দশমী, জগদ্ধাত্রীর বিসর্জন দেখতে থিকথিকে ভিড় চন্দননগরে

  • By Ananya Pratim
  • |

জগদ্ধাত্রী
চন্দননগর, ২ নভেম্বর: পুজো শেষ। এ বছরের মতো। আসছে বছর, আবার হবে !

চারদিন ধরে চলা জগদ্ধাত্রী পুজো আজ শেষ। দশমীতে তাই মন ভালো নেই চন্দননগরের। কাল থেকে আবার ভাঙা হাট !

চন্দননগর হল 'জগদ্ধাত্রীর শহর'। সারা বছর এই পুজোর অপেক্ষাতেই তাকিয়ে থাকা। তার অবসানে তাই মনখারাপ হওয়াটা স্বাভাবিক বৈকি!

এবারও ষষ্ঠী থেকে অর্থাৎ গত বুধবার থেকেই মানুষের ঢল নেমেছিল শহরে। আর দশমীর ভিড় সব বছরেই হয় বাঁধভাঙা। রবিবার সকাল থেকে ভিড়ে ভিড়াক্কার রাস্তাঘাট। আপ-ডাউন ট্রেনগুলি চন্দননগরে এসে থামছে, আর গলগল করে ভিড় উগরে দিচ্ছে। অন্যদিকে, জলপথে জগদ্দল ও শ্যামনগর ঘাট পেরিয়ে শহরে ঢুকছেন দর্শনার্থীরা। কারণ, চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর বিসর্জনের একটা নিজস্ব ঘরানা আছে। তা দেখতেই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় জমান।

সেই ঘরানা কেমন? প্রথমত, কেন্দ্রীয় পুজো কমিটির (স্থানীয় মানুষ যাকে বলেন 'সেন্ট্রাল কমিটি') নজরদারিতে সুশৃঙ্খলভাবে সারি দিয়ে একের পর এক প্রতিমা যাবে। কোন বারোয়ারি প্রতিমা বিসর্জনের উদ্দেশ্যে ক'টি ট্রাক ব্যবহার করবে, তা ঠিক করে দেবে ওই 'সেন্ট্রাল কমিটি'। যেমন, রজতজয়ন্তী বর্ষ হলে পাঁচটি ট্রাক, সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষ হলে সাতটি ট্রাক ইত্যাদি। একটি ট্রাকে থাকবে প্রতিমা, বাকিগুলিতে শুধু আলোকসজ্জা।

দ্বিতীয়ত, সুসজ্জিত ট্রাকগুলি নির্দিষ্ট পথ ধরে সারা শহর পরিক্রমা করবে। এর বাইরে অন্য রাস্তায় যাওয়া যাবে না।

তৃতীয়ত, প্রায় দেড়তলা বাড়ির সমান প্রতিমাগুলি ট্রাকে তুলে কীভাবে সারা শহর ঘোরানো হয়, তা দেখাও একটা দারুণ অভিজ্ঞতা।

চতুথর্ত, চন্দননগরের রাণীঘাটে যেখানে বিসর্জন হয়, সেখানে ইয়া বড় বড় প্রতিমার কোমরে মোটা দড়ি বেঁধে দেওয়া হয়। যাতে ট্রাক ঘাটের ঢাল বেয়ে নামতে শুরু করলে অত বড় প্রতিমা হুড়মুড় করে না পড়ে যায়। ট্রাক নামতে থাকে, আর লোকজন পিছন থেকে ওই দড়ি ধরে থাকে। তারপর খুব আস্তে আস্তে দড়ি ছাড়া হয়। ঠাকুর ঝপাস করে জলে পড়ে না, ধীরে ধীরে শুয়ে পড়ে জলে ! তারপর খড়-মাটি ছাড়িয়ে শাল কাঠের পেল্লাই কাঠামো আবার ট্রাকে চাপিয়ে নিয়ে আসা হয়। তা রেখে দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট বারোয়ারিতে। পরের বছর আবার কাঠামো পুজো করে শুরু হবে পুজোর প্রস্তুতি। শালকাঠ ছাড়া অন্য কোনও কাঠ দিয়ে জগদ্ধাত্রী ঠাকুরের কাঠামো তৈরি হয় না চন্দননগরে।

যারা রাতে শোভাযাত্রা বের করবে না, সেই সব বারোয়ারিকে ভাসান শেষ করতে হয় বিকেল পাঁচটার মধ্যে।

আবার কিছু বারোয়ারির নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে। যেমন, বাগবাজার সর্বজনীনের বিসর্জনের শোভাযাত্রায় পেল্লাই সাইজের বেলুন থাকবেই থাকবে। আদি হালদারপাড়ার ঠাকুরের গায়ে থাকে সোনালি রঙের সাজ। আলো পড়লে সেই রূপ মায়াবী হয়ে ওঠে। প্রতিমাগুলি এতই বড় হয় যে, ইলেকট্রিক তারে ঠেকে বলে দশমীর দিন সকাল থেকে শুরু হয় তার খোলা। তাই দশমীর দিন চন্দননগরের একটা বিস্তীর্ণ অংশ থাকে অন্ধকারে। তাতে অবশ্য কোনও বিরক্তি প্রকাশ করেন না চন্দননগরের মানুষ।

দশমীতে শুরু হয় 'চেয়ার ধরা'। সেটা কী? ঠাকুর যে রাস্তা ধরে যায়, তার ধারে বসার ব্যবস্থা করা হয়। তা করে স্থানীয় ক্লাব বা কোনও সংস্থা। টাকার বিনিময়ে এই চেয়ার ভাড়া দেওয়া হয়। একেই স্থানীয় মানুষ বলেন 'চেয়ার ধরা'। চন্দননগরের গঙ্গার ধারে এসডিপিও অফিসের সামনে ভিআইপিদের বসার জায়গা হয়। ফরাসি সাহেবরাও ফি বছর আসেন পুরনো উপনিবেশের বৃহত্তম লোকপ্রিয় উৎসব দেখতে।

ক্রমশ রাত যত বাড়ে, তত তীব্র হয় বিসর্জনের বাদ্যি। বসে থেকে থেকে কোমর ধরে গেলে পায়ে-পায়ে ঘুরে শুরু হয় শোভাযাত্রা দেখা। চলতে চলতে মা জগদ্ধাত্রীও এসে পড়েন গঙ্গার ঘাটে।

বিদায় মা গো, আসছে বছর আবার হবে।

English summary
Today is Vijaya Dashami of Jagaddhatri Puja in Chandannagar
চটজলদি খবরের আপডেট পান
Enable
x
Notification Settings X
Time Settings
Done
Clear Notification X
Do you want to clear all the notifications from your inbox?
Settings X