• search
For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS  
For Daily Alerts
Oneindia App Download

রাজ্যে ভোট-হিংসাও চাই না, কর্মনাশা বনধও চাই না! বাংলায় কি আসবে সেই নতুন ভোর

Google Oneindia Bengali News

বাংলার ভোটে এখন হিংসা ফ্রি। এখন বলাটা অবশ্য সমীচিন নয়। কেননা তখনও হত হিংসা, ভোট-সন্ত্রাস। আসলে বাংলার ভোট সংস্কৃতিটাই হয়ে উঠছে হিংসা-সন্ত্রাসের। ভোটের সময়ে কাউকে রেয়াত নয়। বুথদখল, রিগিং, ছাপ্পা ভোট, ভুয়ো ভোটার- এসবই এখন দস্তুর বাংলার ভোটে। যেমনটা হয়ে আসছে সাতের দশক থেকে, আজও তার অন্যথা হল না।

ভোট-হিংসাও চাই না, কর্মনাশা বনধও চাই না! বার্তা তৃণমূলের

রাজ্যের সরকারি দল কিন্তু বুক ফুলিয়ে বলছে, আমরা ভোট-সন্ত্রাস বা হিংসার পক্ষে নয়। আমরা ভোট-হিংসা তাই না। চাই না বনধের কর্মনাশা দিন। সোমবার ভোট সন্ত্রাসের প্রতিবাদে বিজেপির ডাকা বনধ প্রসঙ্গে ফলাও করে তৃণমূল কংগ্রেস এই কথা বলছে। কিন্তু বাংলায় ভোট-সন্ত্রাস বা হিংসা থামার কোনও লক্ষণ নেই। তবে বনধের সেই কর্মনাশা কালচার অনেকটা স্তিমিত বলাই যায়।

রবিবার ছিল রাজ্যের ১০৮ পুরসভার ভোট। সেই ভোটেও সন্ত্রাস ছিল বাংলার সঙ্গী। পুরভোটকে কেন্দ্র করে রণং দেহি মূর্তি নিয়েছিল বাংলা। বুথদখল, ছাপ্পাভোট, ইভিএম ভাঙচুর তো ছিলই, তার সঙ্গে বোমাবাজি, মারধর, রক্তপাত- কিছুই বাদ গেল না এই ভোটে। বাংলার পুরভোটের ময়দান আদতে হয়ে উঠল একটি যুদ্ধক্ষেত্র। পুলিশকে দেখা গেল লাঠি উঁচিয়ে তাড়া করতে। মারমুখী জনতাও। সেই বাম আমলের মতো তৃণমূলের আমলেও প্রহৃত হলেন সাংবাদিকরা।

বহিরাগত গুন্ডাবাহিনী আর ভুয়ো ভোটারের দাপাদাপিতে বাংলার ভোট-ময়দান রবিবার সকাল থেকেই সরগরম ছলি। পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধও বাধল কোথা কোথাও। আক্রান্ত হলেন বিরোধী প্রার্থীরা। নির্দল প্রার্থীরাও বাদ গেলেন না। বেশ উচ্চগ্রামেই পুরভোট সম্পন্ন হল। শেষে এই ভোট সন্ত্রাসের বিরুদ্ধেই বিজেপি ডাকল বাংলা বনধ। ভোটের পরদিনই ১২ ঘণ্টার বাংলা বনধ ঘিরেও দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়াল বাংলায়।

এর আগেও ভোটে সন্ত্রাস-রক্তপাত দেখেছে বাংলার জনতা। ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল মাঝে কয়েকবছর একটু নরম ছিল আবহাওয়া। কিন্তু ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে ফের বাংলার ভোট হচ্ছে সেই পুরনো মেজাজে। বাম আমলে যেভাবে হিংসা-বুথদখল-রিগিং-ছাপ্পাকে পাথেয় করে ভোট হত, এখনও সেই একই পন্থায় ভোট হচ্ছে। আদতে বদল হয়নি সেই ছবির।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ২০১৮-য় পঞ্চায়েত ভোটে যেমন লাগামছাড়া সন্ত্রাস দেখা গিয়েছে, এবারের ভোটেও তারই প্রতিফলন ঘটেছে। যদিও বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস তা মানতে নারাজ। তৃণমূলের কথায়, কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্ত গন্ডগোল হয়েছে, কিন্তু তা কতিপয়। মিডিয়া সেগুলিতে বড় করে দেখিয়েছে। যত বুথে ভোট হচ্ছে তার ১.৫ শতাংশ বুথেও গন্ডগোল হয়নি।

যাই হোক, বিজেপি ভোট সন্ত্রাসের প্রতিবাদে বনধের ডাক দিয়েছে। তৃণমূল পাল্টা সেই বনধের বিরোধিতা করেছে। রবিবার নবান্ন বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেয়, রাজ্যের তৃণমূল সরকারের নীতিবিরুদ্ধ বনধ। বনধ হলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন ও জীবিকায় বিস্তর প্রভাব পড়ে। রাজ্যের সরকার চায় না বাংলায় ফের বনধের কর্মনাশা সংস্কৃতি ফিরে আসুক।

সেইমতো রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, সোমবারও রোজকারের মতোই সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্কুল-কলেজ, দোকান-বাজার, কল-কারখানা স্বাভাবিক নিয়মে খোলা রাখার। যানবাহনও স্বাভাবিকভাবে চলবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বনধের কারণে কোনও সরকারি কর্মী ছুটি পাবেন না। যদি কোনও কর্মী অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে তাঁর বেতন কাটা যাবে। জোরপূর্বক বনধ করলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানায় রাজ্য।

রাজ্যের সরকারি দল এদিন স্পষ্ট করে দিয়েই জানিয়েছে, তারা হিংসার ভোট চায় না। আবার বনধও চায় না। বাংলার ভোট যাতে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু হয়, তার জন্য সবরকম চেষ্টা করেছে্ সরকার। বিক্ষিপ্ত কিছু জায়গায় গন্ডগোল হয়েছে। পুলিশ থেকে নির্বাচন কমিশনও জানিয়েছে ভোট ছিল নিদেনপক্ষে শান্তিপূর্ণ। কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটেছে। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, তার জন্য বনধকে তারা সমর্থন করে না কোনওমতে।

বিজেপি বনধ ডাকার অদ্যবধি পরেই রাজ্যের মুখ্যসচিব হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী জরুরি বৈঠক ডাকেন। তিনি সমস্ত জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, কমিশনারেটদের নিয়ে বৈঠক করে জানিয়ে দেন, বনধ রুখতে কী কী পদক্ষেপ করতে হবে। সেইমতো প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়েছে। বিজেপিতেই তৈরি হয়েছে দ্বিমত। একদল বনধের পক্ষে, বনধের বিপক্ষে রায় দিয়েছেন খোদ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

English summary
TMC shows new era in reign of Mamata Banerjee no violence in Vote and no strike in Bengal.
চটজলদি খবরের আপডেট পান
Enable
x
Notification Settings X
Time Settings
Done
Clear Notification X
Do you want to clear all the notifications from your inbox?
Settings X