সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারে বিজেপিকে গুনে গুনে দশ গোল দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস

লোকসভা নির্বাচনে খারাপ ফলের পরে সদ্যসমাপ্ত উপনির্বাচনে দারুণ ফলাফল করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

লোকসভা নির্বাচনে খারাপ ফলের পরে সদ্যসমাপ্ত তিন কেন্দ্রের বিধানসভা উপনির্বাচনে দারুণ ফলাফল করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তিনটি বিধানসভা আসনের সবকটি তারা নিজেদের দখলে নিয়েছে। বাংলায় লোকসভা ভোটের সময় তৃণমূল যেভাবে ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল, ছয়মাস পরের নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলকে অনেকটাই তরতাজা মনে হচ্ছে। আর এক্ষেত্রে সরাসরি প্রচারের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারও বড় ভূমিকা নিয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

মমতাই সবচেয়ে জনপ্রিয়

মমতাই সবচেয়ে জনপ্রিয়

তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এরাজ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। এই নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তার উল্টো দিকে রয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি পরিচিত মুখ হলেও ওজন এবং জনপ্রিয়তায় মুখ্যমন্ত্রীর ধারে কাছে নন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যেখানে টুইটারে ফলোয়ার সংখ্যা ৩৭ লক্ষ সেখানে দিলীপ ঘোষের টুইটার ফলোয়ার সংখ্যা মাত্র ১ লক্ষ ৬ হাজার। ফেসবুকের মতো সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধারে-ভারে অনেক এগিয়ে রাজ্যের অন্য যে কোনও নেতা-নেত্রীর চেয়ে।

রাজ্যে তৃণমূল বেশি শক্তিশালী

রাজ্যে তৃণমূল বেশি শক্তিশালী

সার্বিকভাবে সারা দেশজুড়ে বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্ক অনেক শক্তিশালী হলেও রাজ্যের নিরিখে দেখা গিয়েছে শাসকদলের সোশ্যাল মিডিয়ার নেটওয়ার্ক অনেক বেশি শক্তিশালী। এবং তাতে বিভিন্ন ধরনের কাজ করা কর্মী-সমর্থকদের সংখ্যাও অনেক বেশি। তুলনায় বিজেপি এই বিষয়ে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে।

তৃণমূলের তুলনায় পিছিয়ে বিজেপি

তৃণমূলের তুলনায় পিছিয়ে বিজেপি

বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুগামীদের সংখ্যার বিচারেও বিজেপিকে অনেকটা পিছিয়ে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। একটা সময় মনে হয়েছিল, বিজেপি হয়তো সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে রাজ্যে প্রচারকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যাবে। তবে তৃণমূল কর্মী সমর্থকেরা তা হতে দেননি। উল্টে তাঁরাই তৃণমূলের হয়ে প্রচারকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছেন। এবং যার ফলে বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপগুলির তুলনায় তৃণমূলের গ্রুপগুলিতে ফলোয়ারের সংখ্যা অনেক বেশি এবং সদস্য সংখ্যাও অনেক।

তৃণমূল স্তরে প্রচারই হাতিয়ার

তৃণমূল স্তরে প্রচারই হাতিয়ার

তৃণমূল কংগ্রেস প্রচারের ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়াকে দারুণভাবে ব্যবহার করেছে। শুধু রাজ্যস্তরে নয়, জেলাস্তরে এমনকী ব্লক স্তরে বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে প্রচারকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে ছোট থেকে ছোট ঘটনা নিমেষে মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছে।

গ্রহণযোগ্যতা বেশি

গ্রহণযোগ্যতা বেশি

তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে এমনকী দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেসবুক পেজেও বিভিন্ন ঘটনা নানা সময়ে লাইভ সম্প্রচার দেখা যায়। যার ফলে মানুষের মধ্যে তৃণমূল দল ও দলের নেত্রীর প্রতি গ্রহণযোগ্যতা আরও বেড়েছে। শুধু রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়, বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী লাইভ করেন। যা অবশ্যই দলের ভিত্তি বাড়াতে সাহায্য করেছে।

মুখ্যমন্ত্রী নিজে লাইভ করেন

মুখ্যমন্ত্রী নিজে লাইভ করেন

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেলায় জেলায় যে প্রশাসনিক বৈঠক করেন তার প্রায় সবকটি লাইভ সম্প্রচারিত হয় তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায়। এর মাধ্যমে বিভিন্ন জেলার মানুষ নিজের জেলার তো বটেই অন্য জেলার খবরা-খবর একেবারে সরাসরি পেয়ে যাচ্ছেন। এর পাশাপাশি নিজের জেলায় কি ধরনের কাজ সরকার করছে সেই সম্পর্কে মানুষের ধারণা তৈরি হচ্ছে। ফলে গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেড়ে যাচ্ছে।

শক্তিশালী সমর্থকদের গ্রুপও

শক্তিশালী সমর্থকদের গ্রুপও

শুধু তৃণমূলের নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপ নয়, দলের কর্মী-সমর্থকরাও গ্রুপ খুলে তৃণমূল দলের হয়ে প্রচারকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছেন। এবং সেই গ্রুপ এবং গ্রুপের সদস্যরা বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপের তুলনায় সংখ্যায় এবং বহরে অনেক বেশি। যার সঙ্গে বিজেপির পেরে ওঠা সহজ নয়। এবং উপনির্বাচনের ফলাফলের পর আগামিদিনে তৃণমূলের গ্রহণযোগ্যতা যে আরও বাড়বে তা এখন থেকেই আন্দাজ করা যাচ্ছে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+