ধর্ষিতার সঙ্গে দেখা করলে বাড়বে বিভেদ, এই বলে নন্দীগ্রামে ‘আক্রান্ত আমরা’-র পথ আটকাল তৃণমূল

Subscribe to Oneindia News
For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    নন্দীগ্রামের শুব্ধিতে 'আক্রান্ত আমরা'র পথ আটকাল তণমূল কংগ্রেস। শুদ্ধির ধর্ষিতার সঙ্গে দেখা করার ছিল 'আক্রান্ত আমরা'র প্রতিনিধিদের। কিন্তু তাঁদের সাক্ষাতে বাধ সাধলেন স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের দুই নেতা। তাঁদের দাবি, 'প্রয়োজনে নন্দীগ্রাম থানায় গিয়ে ধর্ষিতার সঙ্গে কথা বলুন ওঁরা। কিন্তু ধর্ষিতার বাড়িতে গিয়ে কথা বললে গ্রামে বিভেদ তৈরি হবে। অশান্তির পরিবেশ তৈরি হবে। তা হোক চাই না আমরা।'

    আজব নিদান তৃণমূলের

    রবিবার 'আক্রান্ত আমরা'র পক্ষে নন্দীগ্রামের শুব্ধিতে গিয়েছিলেন অম্বিকেশ মহাপাত্র, অরুণাভ লাহিড়ী, প্রতিমা দত্ত, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি হরপ্রসাদ সমাদ্দার, সাহিত্যিক মন্দাক্রান্ত সেন, সমাজসেবী মইদল ইসলাম প্রমুখ। তাঁদের পথ আটকান সঞ্জয় দিন্দা ও পবন গায়েন নামে দুই তৃণমূল নেতা। প্রথম জন নিজেকে পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ ও দ্বিতীয় জন নিজেকে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান বলে পরিচয় দেন।

    দেখুন ভিডিও... 

    তাঁদের দাবি, যেভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা ধর্ষিতার সঙ্গে দেখা করতে চাইছেন, গ্রামের পরিবেশে বিভেদ তৈরি হতে পারে। তাই আমরা এই সাক্ষাতের প্রতিবাদ করছি। ওঁনারা দেখা করতেই পারেন, কিন্তু তা গ্রামের পরিবেশে না হওয়াই ভালো। সেরকম হলে থানায় গিয়ে দেখা করতে পারেন ওঁনারা।

    দেখুন ভিডিও...

    আজব নিদান তৃণমূলের

    প্রায় দু-ঘণ্টা এভাবে আটকে থাকতে হয় 'আক্রান্ত আমরা'র প্রতিনিধিদের। এরপর নন্দীগ্রাম থানায় গিয়ে অভিযোগপত্র জমা দেন। আইসি অজয় মিশ্রকে লেখা অভিযোগে তাঁরা উল্লেখ করেন, 'নির্যাতিতার পরিবার আমাদের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিল, কিন্তু তৃণমূল নেতাদের বাধায় আমরা দেখা করতে পারিনি। এমনকী পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতি সত্ত্বেও আমরা সহায়তা পাইনি। আমাদের দাবি, এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।'

    থানা থেকে বেরিয়ে চণ্ডীপুর মোড়ে 'আক্রান্ত আমরা'র একটি পথ সভা করে। সেই পথ সভায় তাঁরা পথ আটকানোর প্রতিবাদ জানায়। অভিযোগ, ইন্দিরা আবাস যোজনার আর্থিক অনুদানের একটা অংশ শুব্ধির তৃণমূল বুথ সভাপতিকে না দেওয়ায় ধর্ষিতা হতে হয় স্থানীয় এক গৃহবধূকে।

    অভিযোগ, পুজোর আগে থেকেই ইন্দিরা আবাস যোজনার টাকা নিয়ে তৃণমূল বুথ সভাপতি অসিতকুমার হাজরার সঙ্গে ওই গৃহবধূর বাদানুবাদ চলছিল। অভিযোগ তৃণমূল বুথ সভাপতি তাঁর কাছে ১০ হাজার টাকা দাবি করেছিল। তবেই ইন্দিরা আবাসনের টাকা তাঁকে দেওয়া হবে। গৃহবধূ প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ইন্দিরা আবাস যোজনার অর্থ জমা পড়ে।

    কিন্তু প্রতিশ্রুতিমতো ১০ হাজার টাকা না পাওয়ায় তৃণমূল বুথ সভাপতি অসিতকুমার হাজরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ। এদিকে বাড়ি তৈরির জন্য দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাচ্ছিলেন না ওই গৃহবধূ। দুর্গাপুজোর পর এক বিকেলে শুদ্ধির স্থানীয় একটি ক্লাবে ওই গৃহবধূকে ডেকে পাঠান অভিযুক্ত অসিত হাজরা। অভিযোগ, সেখানে অসিত বন্ধ ক্লাব ঘরে ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করে।

     আজব নিদান তৃণমূলের

    এই ধর্ষণের ঘটনার কথা জানাজানি হলে অসিত হাজরা তাঁকে প্রাণে মারার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ। এই ঘটনার দিন কয়েক পরে কিছু গ্রামবাসী ওই গৃহবধূকে নিয়ে নন্দীগ্রাম থানায় যান। থানা অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে। আইসি যুক্তি দেখান, অভিযুক্ত অসিতকুমার হাজরা শুধু প্রভাবশালী নন, তিনি গণ্যমান্য ব্যক্তি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা যাবে না।

    এরপরই ধর্ষণের খবর ভাইরাল হয়ে ওঠে। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় তা প্রচার হতেই চাপে পড়ে যায় থানা। এবং চাপে পড়ে অভিযোগ নিতে বাধ্য হয় থানা। গ্রামে নেতার বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরি হয়। সেই জনরোষের ফলেই তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। সম্প্রতি বিজেপি মহিলা মোর্চা নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব একটি প্রতিনিধি দল গিয়েছিল ধর্ষিতা গৃহবধূর সঙ্গে দেখা করতে। তাঁদেরও পথ আটকানো হয়।

    English summary
    Trinamool Congress has obstructed representatives of ‘Aamra Akranta’ to see rapist of Shuddhi.

    Oneindia - এর ব্রেকিং নিউজের জন্য
    সারাদিন ব্যাপী চটজলদি নিউজ আপডেট পান.

    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Oneindia sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Oneindia website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more