মুকুল নামেই ভরসা! দিলীপ তাই বাদ তৃণমূলের তালিকা থেকে, একুশের আগে চমক
মুকুল রায় ছিলেন তৃণমূলের প্রাণভোমরা। মমতা বন্যো লপাধ্যায়কে ভাবতেই হত না, ভোট বৈতরণী পার করার সমস্ত সরঞ্জামন প্রস্তুত করে ফেলতেন মুকুল রায়। ১৯৯৮ থেকে ২০১৭ বারবার সেই ছবি দেখে এসেছে।
মুকুল রায় ছিলেন তৃণমূলের প্রাণভোমরা। মমতা বন্যো লপাধ্যায়কে ভাবতেই হত না, ভোট বৈতরণী পার করার সমস্ত সরঞ্জামন প্রস্তুত করে ফেলতেন মুকুল রায়। ১৯৯৮ থেকে ২০১৭ বারবার সেই ছবি দেখে এসেছে। এখন তার উপায় নেই। কেননা মুকুল রায় বিজেপিতে। তার অভাব পূরণের জন্য প্রশান্ত কিশোর এসেছেন তৃণমূলে। কিন্তু তৃণমূল তবু মুকুল নামে খোঁজে।

তৃণমূল কংগ্রেসে সংগঠনিক রদবদল, অপসারিত ৫
সম্প্রতি পশ্চিম মেদিনীপুর তৃণমূল কংগ্রেসে সংগঠনিক রদবদল সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে ব্লক সভাপতির পদ থেকে অপসারিত হয়েছেন পাঁচজন। শহর সভাপতিও বদল করা হয়েছে। ব্লক সভাপতির পদ থেকে বাদ পড়েছেন শুভেন্দু অনুগামী নেতা, বাদ পড়েছেন দুই বিধায়কও। তবে প্রত্যেক অপসারিতকেই অন্য পদ দেওয়া হয়েছে।

দিলীপকে সরিয়ে মুকুলকে সভাপতির দায়িত্ব
তৃণমূলের এই রদবদল নিয়ে ফের জল্পনার পারদ তুঙ্গে উঠেছে রাজ্য রাজনীতিতে। মঙ্গলবার নতুন জেলা কমিটি ঘোষিত হয়েছে, সেখানে ব্লক সভাপতির সঙ্গে পরিবর্তন হয়েছে শহর সভাপতিও। সেই পরিবর্তনে দেখা গিয়েছে এক অদ্ভুতুড়ে কাণ্ড। দিলীপকে সরিয়ে মুকুলকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

দিলীপ-মুকুলের নামে মজাদার চর্চা তৃণমূলে
এদিন দাঁতন ১, চন্দ্রকোনা ২, গড়বেতা ৩, মোহনপুর এবং মেদিনীপুর শহরের ব্লক সভাপতিকে পরিবর্তন করা হয়। এর মধ্যে দিলীপ দে ছিলে্ন মেদিনীপুর সদরের সভাপতি। তাঁকে সরিয়ে আনা হয়েছে মুকুল সামন্তকে। অর্থাৎ এক দিলীপের পদ গিয়ে সেখানে অভিষিক্ত হয়েছেন মুকুল। এই নামের ফেরে মজাদার চর্চা চলছে মেদিনীপুরে।

বিধায়ক আর ব্লক সভাপতি নন, তাই রদবদল
এদিকে দলে সিদ্ধান্ত হয়েছে কোনও বিধায়ক আর ব্লক সভাপতি থাকবেন না। তাই দাঁতনের বিধায়ক বিক্রম প্রধান ছিলেন দাঁতন ১-এর ব্লক সভাপতি। চন্দ্রকোনার ২-এর ব্লক সভাপতিও ছিলেন বিধায়ক ছায়া দোলুই। দুজনকেই অপসারিত করে নতুন সভাপতি করা হয়েছে যথাক্রমে প্রতুল দাস ও জগজিৎ সরকারকে।

সরতে হল শুভেন্দু অনুগামীকেও
মোহনপুরের সভাপতি প্রদীপ পাত্র ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর অনুগামী। তাঁকে সরিয়ে নতুন সভাপতি করা হয়েছে মানিক মাইতিকে। কেন শুভেন্দু অনুগামীকে অপসারিত করা হল, তা নিয়েই বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে নিমাই বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে গড়বেতা ৩-এর সভাপতি করা হয়েছে রাজীব ঘোষকে।

ব্লকের পাশাপাশি শহরের সভাপতিও বদল
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সভাপতি অজিত মাইতি বলেন, নিমাই বন্দ্যোপাধ্যায় বয়সজনিত কারণে নিজেই সরে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন। তাঁর বয়স ৮০ বছরের ঊর্ধ্বে। তাই তাঁকে জেলার সহ সভাপতি করা হয়েছে ব্লক সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে। এছাড়া শহরের সভাপতিও বদল করা হয়েছে। খড়গপুরের শহর সভাপতি এখনও বেছে নেওয়া সম্ভব হয়নি। খড়গপুরের শহর সভাপতিকে জেলা সহ সভাপতি করা হয়েছে।

ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শেই রদবদল
এদিন দলের নতুন জেলা কমিটি ঘোষণা করে করে অজিত মাইতি জানান, জেলা সহ সভাপতি করা হয়েছে ২১ জন। জেলার সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে ২৭ জনকে, সম্পাদক হয়েছেন ৩০ জন। জেলা কমিটির সদস্য করা হয়েছে ৩৭ জনকে। ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের পরামর্শ মেনেই এই রদবদল করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications