বেতন পরিকাঠামো নিয়ে স্কুলগুলিকে এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ রাজ্য সরকারের
বেতন পরিকাঠামো নিয়ে স্কুলগুলিকে এক সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ রাজ্য সরকারের
স্কুল ফি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে ধাক্কা খেল রাজ্য সরকার। স্কুলের ফি কমানোর নির্দেশ না দিয়ে বরং অভিভাবকদের বকেয়া টাকা ১৫ অগাস্টের মধ্যে মিটিয়ে দিতে বলেছে হাইকোর্ট। এরই মাঝে রাজ্য সরকারের পাঠানো তৃতীয় চিঠিতে সব স্কুলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে ফি না বাড়ানোর জন্য ও অনলাইন ক্লাস থেকে পড়ুয়াদের বাদ না দেওয়ার জন্য কী কী পদক্ষেপ গৃহীত হয়েছে তার সম্পূর্ণ রিপোর্ট স্কুলকে এক সপ্তাহের মধ্যে জমা দিতে হবে।
এই মর্মে সরকার প্রথম চিঠি পাঠিয়েছিল ১০ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় চিঠি পাঠিয়েছিল ২২ এপ্রিল। কিছু স্কুল রাজ্য সরকারকে জবাব দিলেও, অধিকাংশ স্কুলই চুপ ছিল।

মানব সম্পদ মন্ত্রকের হস্তক্ষেপের আর্জি
রাজ্য সরকার গত ২৬ জুন এ বিষয়ে মানব সম্পদ মন্ত্রকের হস্তক্ষেপ চেয়েছিল। রাজ্যের স্কুল শিক্ষা সচিব মণিশ জৈন কেন্দ্রকে চিঠি লিখে স্কুল ফি ইস্যুতে একটি উপদেষ্টা জারির আর্জি জানান। সূত্রের খবর, ‘কিছু অভিযোগ পাওয়ার পর একই ধরনের চিঠি এ মাসে পাঠানো হবে কিছু সরকারি স্কুলকেও।' সোমবার চিঠিতে জৈন স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন যে পরিবহন, লাইব্রেরি, কম্পিউটার ল্যাব, ক্রীড়া/ পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যক্রমের জন্য স্কুল কোনও টাকা নিতে পারবে না। পরিবর্তে, শুধুমাত্র অনলাইনে পড়ানোর জন্য আনুপাতিক ফি আদায় করা উচিত। স্কুল শিক্ষা দপ্তর থেকে স্পষ্ট করে এও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে ২০২০-২১ সালের আর্থিক বছরে স্কুলের বেতন বৃদ্ধি করা যাবে না।

সেন্ট্রাল মর্ডান স্কুলের প্রতিক্রিয়া
বরানগরের সেন্ট্রাল মর্ডান স্কুলের প্রধান শিক্ষক নবারুণ দে জানিয়েছেন যে তারা ইতিমধ্যে স্কুল কমিশনার অনিন্দ্য বিশ্বাসকে রিপোর্ট পাঠিয়ে দিয়েছে। নবারুণ দে বলেন, ‘আমরা উল্লেখ করেছি যে কোনও শিক্ষার্থীকে বেতন না দেওয়ার কারণে অনলাইন ক্লাসে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে না। আমরা স্কুলের বেতনও বৃদ্ধি করিনি। আমরা বরং ২০১৯-২০ ফি কাঠামোতে সমস্ত অ্যাকাউন্টে বেতন নেওয়া শুরু করেছি। আমরা অভিভাবকদের আশ্বাস দিয়েছি যে আপাতত দেরী করে ফি দেওয়া হলে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হবে না।'

ডন বস্কো স্কুলের প্রতিক্রিয়া
পার্ক সার্কাসের ডন বস্কো স্কুলের প্রিন্সিপ্যাল ফাদার বিকাশ মণ্ডল জানিয়েছেন যে এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের স্কুলের সম্পূর্ণ রিপোর্ট পাঠানো হবে। তিনি বলেন, ‘আমি আগের চিঠিতে জানিয়েছিলাম যে পড়ুয়ারা অনলাইন ক্লাস করতে পারে, কিন্তু দেরিতে ফি দেওয়া হলে আমরা চার্জ নিচ্ছি। তবে আমরা স্কুলের ফি বৃদ্ধি করিনি।'

হাইকোর্টে মামলা
লকডাউনের সময় সমস্ত স্কুলই বন্ধ রাখা হয়েছে। সেই যুক্তিতে ফি কমানোর দাবিতে সোচ্চার হন অভিভাবকদের একাংশ। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা হাইকোর্টে মামলা করে। মঙ্গলবার সেই মামলার রায় দেয় কলকাতা হাইকোর্ট।












Click it and Unblock the Notifications