মমতার বিরুদ্ধে প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছে না দল! টুইটে তৃণমূলকে বিঁধে বিজেপিকে কটাক্ষ তথাগতের
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভবানীপুরে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাবে বিজেপি। নির্বাচন ঘোষণার পর জোর গলায় আওয়াজ তুলেছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভবানীপুরে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাবে বিজেপি। নির্বাচন ঘোষণার পর জোর গলায় আওয়াজ তুলেছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এখন তিনিই স্বীকার করে নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী খুঁজতে নাকাল হতে হচ্ছে। কেউই সাড়া দি্চ্ছেন না তাই উপযুক্ত প্রার্থীদের নাম বেছে পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে।

দলের রাজ্য সভাপতি যখন প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে সমস্যার সম্মুখীন, তখন তথাগত রায় বিজেপির বিড়ম্বনা বাড়িয়ে দিয়েছেন এক টুইটে। প্রবীণ নেতার টুইটে আরও স্পষ্ট হয়েছে মমতা বন্যোড়পাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কাউকে প্রার্থী হিসেবে পাচ্ছে না বিজেপি। তথাগত রায়ের এই টুইট দলের রাজ্যে নেতৃত্বর বিরুদ্ধে বিষোদ্গার বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
তথাগত রায় টুইটে লেখেন, "পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির উচিত ভবানীপুরে উপনির্বাচনে সুবোধকে প্রার্থী করা। কিন্তু কে এই সুবোধ? ওই যে, বিজেপি কার্যালয়ে ফুটফরমাশ খাটে, চপ-সিঙাড়া এনে দেয়! চপই তো পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ! তিনি এই টুইট তৃণমূলকে বিঁধে করলেও এর মধ্যে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের প্রতি কটাক্ষও লুকিয়ে রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির উচিত ভবানীপুরে উপনির্বাচনে সুবোধকে প্রার্থী করা।
— Tathagata Roy (@tathagata2) September 7, 2021
কিন্তু কে এই সুবোধ ?
ঐ যে, বিজেপি কার্যালয়ে ফুটফরমাশ খাটে, চপ-সিঙাড়া এনে দেয় !
চপই তো পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ !
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিজেপির দুটি বৈঠকের পরও ভবানীপুরে প্রার্থী নিয়ে জট কাটেনি। একটি বৈঠক হয় বিজেপির রাজ্য দফতরে। সেখানে শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষ, অমিতাভ চক্রবর্তী, অমিত মালব্যরা ছিলেন। আর বিকেলে বৈঠকটি হয় হেস্টিংস কার্যালয়ে। সেখানে ভবানীপুরের বুথ ও মণ্ডলের সভাপতি ও পদাধিকারীদের নিয়ে বৈঠকটি হয়। তাতেও জট কাটেনি।
দিলীপ ঘোষ বলেন, আমরা একটি সম্ভাব্য প্রার্থীদের নামের তালিকা তৈরি করে সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠিয়েছি। বিজেপি কেন্দ্রীয় কমিটিই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তারাই যোগ্য প্রার্থীকে বেছে নেবে। এদিন এমন কথাও তিনি বলেন, আমরা অনেককে প্রার্থী হতে বলেছিলাম, কিন্তু তাঁরা কেউ রাজি হচ্ছেন না। কিন্তু কেন এমন অবস্থা বিজেপির?
বিজেপি তো মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্রে বেশ কিছু ওয়ার্ডে এগিয়েছিল। এখন তাহলে এত জুজু দেখছে কেন? ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ছ'টি ওয়ার্ডে এগিয়েছিল বিজেপি। বিজেপি নেতারা তা দেখেই ২০২১-এর বিধানসবা নির্বাচনে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল। তারপর ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনেও দুটি ওয়ার্ডে বিজেপি এগিয়ে ছিল। তারপরেও কেন এত ভীতি?
আসলে ২০২১-এর বিধানসভায় যেভাবে একপেশে গেম জিতেছে তৃণমূল, তারপর ভবানীপুরে প্রার্থী হতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না বিজেপির কোনও নেতা। ভবানীপুরের অতীত পারফরম্যান্স তো বিজেপির পক্ষে সুখকর ছিল না। বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিক থেকে কোনওদিন মুখ ফিরিয়ে নেয়নি ভবানীপুর।
রাজনৈতিক মহলে মনে করছে, তথাগত রায়ের ওই খোঁচা বিজেপির ভবানীপুর-ভীতি নিয়ে। সেই টুইটের জবাবও দিয়েছেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, লড়াই তো ময়দানে হয়, পিছন থেকে নয়। তবে বিজেপিরই একাংশ বলছে, বিধানসভা নির্বাচনে যে ফল হয়েছে তারপরে উপনির্বাচনে লড়ে সে অর্থে কোনও ফায়দা লোটা যাবে না। তারপর মুখ্যমবন্ত্রী নিজে যখন প্রার্থী, তখন ভোটারদের মধ্যে একটা আবেগ কাজ করে। তার মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে যায়।












Click it and Unblock the Notifications