আদিত্যনাথের মতো কোনও এক যোগী মহারাজ হবেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী! জল্পনা বাড়াল আরএসএস

আদিত্যনাথের মতো এক যোগী মহারাজই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী! বিজেপিতে জল্পনা

যোগী আদিত্যনাথের পর আরও এক স্বামীজির উত্থান হতে পারে সক্রিয় রাজনীতিতে। স্বামী কৃপাকরানন্দ মহারাজের সম্ভাব্য রাজনৈতিক উত্থান নিয়ে বাংলায় তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছে। হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি ইতিমধ্যেই তাঁকে বাংলার ভবিষ্যতের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বর্ণনা করতে শুরু করে দিয়েছে। তা সত্যি হলে দিলীপ ঘোষদের কপাল পুড়তে পারে।

বাংলার কুর্সিতেও বসবেন এক যোগী মহারাজ!

বাংলার কুর্সিতেও বসবেন এক যোগী মহারাজ!

এখন সবটাই নির্ভর করবে ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সাফল্যের উপর। তাহলেই উত্তর প্রদেশের পর বাংলাতেও মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসতে পারেন এক যোগী পুরুষ। রামকৃষ্ণ মিশনের যোগী কৃপাকরানন্দ মহারাজ হতে পারেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য রাজনীতিতে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, দিলীপ-মুকুলদের হাত ধরে বাংলা জয় সম্ভবপর হলেও কুর্সিতে বসবেন যোগী মহারাজ।

বিজেপিতে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী অরাজনৈতিক ব্যক্তি!

বিজেপিতে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী অরাজনৈতিক ব্যক্তি!

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলার রাজনীতিকে এরকম বিস্ময়কর পরিবর্তন ঘটতে পারে। যদি বিজেপি নেতৃত্ব ওই যোগী মহারাজকে সক্রিয় রাজনীতিতে আনতে পারে কিংবা তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিতে রাজি হন। বঙ্গ বিজেপির মুখ নিয়ে যে সঙ্কট তৈরি হচ্ছে, তাতে ২০২১ সালের বাংলার নির্বাচনী লড়াইকে সামনে রেখে দলের শীর্ষে উঠে আসতে পারেন রাজনীতিরে বাইরের কেউ।

রামকৃষ্ণ মিশন সর্বদা রাজনীতির বাইরে থেকেছে

রামকৃষ্ণ মিশন সর্বদা রাজনীতির বাইরে থেকেছে

তবে এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায় যে, রামকৃষ্ণ মিশন সর্বদা রাজনীতির বাইরে থেকেছে। আর রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ হিসেবে প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে আসার পক্ষে নয় কেউই। আগে এক সাক্ষাৎকারে কৃপাকরানন্দ মহারাজ নিজেই বলেছিলেন যে, এ জাতীয় কোনও পরিকল্পনা তাঁর নেই। তাই তিনি রাজি হবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।

বাংলায় পরিবর্তন আনতে কোনও ব্যতিক্রমী পন্থা

বাংলায় পরিবর্তন আনতে কোনও ব্যতিক্রমী পন্থা

তবে রাজনীতিতে কোনও কিছুই অসম্ভব নয়। আর কোনও কিছুই চিরস্থায়ী নয়। তাই সেই সম্ভাবনা ধরে নিয়েই বলা যায় অবাক করার মতো কোনও ঘটনা ঘটতেই পারে। কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব বাংলায় পরিবর্তন আনতে এমন কোনও পন্থা অবলম্বন করতেই পারে। সেটা যদি হয় তা একাবারে অবাস্তব হবে না।

কৃপাকরানন্দ মহারাজ কে? নাম ও পরিচয়

কৃপাকরানন্দ মহারাজ কে? নাম ও পরিচয়

দেবতোষ চক্রবর্তী বাংলায় মাধ্যমিকে পঞ্চম স্থান অর্জন করেছিলেন। সপ্তম হয়েছিলেন উচ্চমাধ্যমিকে। তারপরে তিনি মেডিকেল জয়েন্ট এন্ট্রান্সে ১৭তম স্থান অর্জন করেন এবং এনআরএস মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। এরপরে তিনি দিল্লির এইমস থেকে এমডি করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে হার্ট রিসার্চ করতে যান। সেই দেবতোষই আজ কৃপাকরানন্দ মহারাজ।

আমেরিকায় গবেষণার পরে অদৃশ্য হয়ে যান

আমেরিকায় গবেষণার পরে অদৃশ্য হয়ে যান

আমেরিকাতে তার গবেষণার দিনগুলির পরে দেবতোষ অদৃশ্য হয়ে যান। তাঁর এনআরএসের রুমমেটরা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন সেই তথ্য। কয়েক বছর পরে কৃপাকরানন্দ নামে এক যুবক সন্ন্যাসী বেলুড় মঠে হাজির হন এবং স্বাস্থ্য ভবনের দায়িত্ব নেন। তিনি হলেন দেবতোষ চক্রবর্তী। আজকের কৃপাকরানন্দ মহারাজ।

দক্ষতা-যোগ্যতার শীর্ষে থাকা এক আদর্শ যোগী

দক্ষতা-যোগ্যতার শীর্ষে থাকা এক আদর্শ যোগী

একজন দক্ষ ডাক্তার এবং আকর্ষণীয় বক্তা হওয়ার পাশাপাশি তিনি শিল্পী ও গায়ক। আশ্চর্যরকমভাবে নিখুঁত শাস্ত্রীয় সংগীত গাইতে পারেন তিনি। একসব গুণে গুণান্বিত তিনি। তাঁর মতো যোগ্য ব্যক্তি খুব কমই হন। কিন্তু তাঁর পাশাপাশি এটাও প্রযোজ্য যে তাঁর মতো যোগ্যর রাজনীতিতে আশা মানে নিজেকে মেরুকরণ করে দেওয়া। সেটা একেবারেই হওয়া উচিত নয়।

আদর্শগতভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নারাজ যখন সৌরভ

আদর্শগতভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নারাজ যখন সৌরভ

বাংলায় এবার ডু অর ডাই সিচুয়েশন। এক বছরেরও কম সময় বাকি বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের। বিজেপির কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই দেওয়ার মতো বিকল্প কোনও বিশ্বাসযোগ্য মুখ নেই। সম্প্রতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম ঘোরাফেরা করছিল। তবে তার অসাধারণ জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও তিনি রাজ্যের হিংসাত্মক এবং অশান্ত রাজনৈতিক জালে আদর্শগতভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নারাজ।

দিলীপ-মুকুলদের নিয়ে যেখানে থমকে ভাবনা

দিলীপ-মুকুলদের নিয়ে যেখানে থমকে ভাবনা

বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ একজন লড়াকু নেতা এবং তিনি আরএসএস থেকে উঠে এসে বঙ্গ বিজেপির প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন। শিক্ষিত বাঙালিরা তাঁর এই বাস্তবিক মেঠো রাজনীতি পছন্দ করেন না। আবার মুকুল রায় একজন বিরাট সংগঠক এবং তৃণমূল ভাঙতে তাঁর জুড়িমেলাভার। তিনি দুর্নীতিতে কলঙ্কিত। মূল হিন্দু নেতৃত্ব এবং ক্যাডারদের কাছে তিনি পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য নয়।

গেরুয়া শিবিরের কাছে সোনায় সোহাগা কৃপাকরানন্দ মহারাজ

গেরুয়া শিবিরের কাছে সোনায় সোহাগা কৃপাকরানন্দ মহারাজ

বিজেপি যদি কৃপাকরানন্দ মহারাজকে আনতে পারে সক্রিয় রাজনীতিতে, তবে গেরুয়া শিবিরের কাছে তা সোনায় সোহাগা হবে। বিজেপির কাছে সবদিক দিকে আদর্শ মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী হবেন তিনি। তবে রামকৃষ্ণ মঠের আদর্শ, তাঁর নিজের আদর্শের পরিপন্থী হবে এই সিদ্ধান্ত। তাই তিনি হয়তো এই সম্ভাবনার জলাঞ্জলি দিয়েছেন।

কৃপাকরানন্দের মতো শিক্ষিত-মার্জিত-রুচিশীল কুর্সিতে

কৃপাকরানন্দের মতো শিক্ষিত-মার্জিত-রুচিশীল কুর্সিতে

বিজেপি মনে করছে, তিনি যদি রাজি হন, তবে তাঁর পক্ষে কোনও সমস্যা হবে বাংলার কুর্সিতে বসা। কেননা এই রাজ্যে বিশিষ্ট মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বিধানচন্দ্র রায়, সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়, জ্যোতি বসু এবং বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মতো মুখ এসেছেন আগে। ফলে কৃপাকরানন্দের মতো শিক্ষিত-মার্জিত-রুচিশীল মানুষ বসলে সব দিক দিয়ে উজ্জ্বল হবে।

বড় প্রশ্ন: কৃপাকরানন্দ মহারাজ কি রাজি হবেন?

বড় প্রশ্ন: কৃপাকরানন্দ মহারাজ কি রাজি হবেন?

রামকৃষ্ণ মিশন রাজনীতির প্রতি স্পর্শকাতর থেকেছে। কৃপাকরানন্দ নিজেই নিজের জন্য রাজনৈতিক ভবিষ্যতের কথা অস্বীকার করেছিলেন। তবে এই সম্ভাবনাও রয়েছে যে, এটি আরএসএসের একটি অন্যতম গোপন পরিকল্পনা। বাংলার জনসাধারণকে চমকে দিতে রাজনীতির বাইরের কোনও মানুষকে প্রশাসনিক শীর্ষ পদে বসানো। তাই যদি হয়, কৃপাকরানন্দ মহারাজ অন্যতম মুখ হয়ে উঠতে পারেন।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+