মুকুল বিজেপিতে প্রাক্তনী হতেই শুভেন্দুর টার্গেটে শুভ্রাংশু! দলবদলেই তিক্ততা সম্পর্কে
মুকুল রায় বিজেপিতে যোগদানের পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারীকে বিজেপিতে ঈআনতে কম তৎপর হননি। শেষপর্যন্ত অমিত শাহের হাত ধরে ২০২১-এর নির্বাচনের আগে শুভেন্দু অধিকারী গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন। তখন মুকুল-শুভেন্দুকে পেয়ে বিজেপি পরিবর্তনের জল্পনায় বুঁদ।
কিন্তু একুশরে নির্বাচনে হার মানতেই ফের বদলে যায় সমীকরণ। মুকুল রায় বিজেপিতে প্রাক্তনী হতেই শুভেন্দুর কু-নজরে পড়তে শুরু করেন মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশুও! মুকুল রায় তৃণমূলে গিয়েও আর সক্রিয় হতে পারেননি। পত্নীবিয়োগ, নিজের শারীরিত অবস্থা নিয়ে তিনি ঘেঁটে রয়েছেন।

এই অবস্থায় প্রাক্তন সতীর্থ মুকুল রায়ের পরিবাররে সঙ্গে তিক্ততার সম্পর্ক স্পষ্ট হল শুভেন্দু অধিকারীর। শুভেন্দু অধিকারী নিয়োগ দুর্নীতিতে মুকুল রায়ের ছেলে শুভ্রাংশু রায়ের বিরুদ্ধে তদন্তের আর্জি জানালেন। বারাকপুরের সাংগঠনিক দায়িত্বে রয়েছেন শুভেন্দু। সেই আঙ্গিকে শুভ্রাংশুর বিরুদ্ধে তাঁর তদন্তের আর্জি তাৎপর্যপূর্ণ।
শুভে্ন্দু অধিকারী তৃণমূলে থাকাকালীন মুকুল রায়ের সঙ্গে যে খুব সুসম্পর্ক রেখেছিলেন, তা নয়। বরং শুভেন্দু বিজেপিতে আসার পর উভয়ের মধ্যে সুসম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। শুভেন্দুর ব্যক্তিগত ভালো সম্পর্ক ছিল মুকুল রায় ও শুভ্রাংশু রায়ের সঙ্গে।

শুভেন্দু অধিকারী ও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই মুকুল রায় একটু একটু করে ব্যকফুটে চলে যেতে থাকেন বিজেপিতে। তারপর নদিয়ার কৃষ্ণনগর থেকে প্রথমবার বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পরই মুকুল রায় তৃণমূলের দিকে ঢলতে শুরু করেন।
সেইমতো নির্বাচনের ফল বেরনোর এক মাস কাটতে না কাটতেই তিনি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। অনেকেই ভোটে হেরে ফের তৃণমূলে ঘরওয়াপসি করেন। নন্দীগ্রামে কোনোরকমে জিতে শুভেন্দু হয়ে যান বঙ্গ বিজেপির অন্যতম মুখ। এখন তাঁকে আবর্ত করেই ঘুরছে বঙ্গ বিজেপি।
সেই শুভেন্দু নিয়োগ দুর্নীতিতে সরব হলেন মুকুল-পুত্রের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যে তৃণমূলের তিন বিধায়ক জেলবন্দি নিয়োগ দুর্নীতি-কাণ্ডে। এই পরিস্থিতিতে তালিকা প্রকাশ করে বোমা ফাটালেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে নাম রয়েছে মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশুর। শুভ্রাংশু বীজপুরের তৃণমূল বিধায়ক থাকাকালীন নিয়োগে সুপারিশ করেছিলেন বলে অভিযোগ।

শুভেন্দুর অভিযোগ উড়িয়ে শুভ্রাংশু বলেন, উনি কী অভিযোগ করেছেন জানি না। তবে আমি আবার যদি বিধায়ক হই, তবে ফরে এলাকার মানুষের জন্য চাকরির সুপারিশ করব। তিনি আরও বলেন, যে সময়ের কথা শুভেন্দুদা বলছেন, সেইসময় তো তিনিও তৃণমূলের বিধায়ক ও মন্ত্রী ছিলেন।
শুভ্রাংশু পাল্টা বলেন, তখন শুভেন্দু অধিকারীর কী ভূমিকা ছিল তা নিয়েও তদন্ত হওয়া দরকার। মুকুল-ঘনিষ্ঠরা এবার শুভেন্দুর বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছেন। তখন শুভেন্দু কেন প্রশ্ন তোলেননি, সে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন তাঁরা। উল্লেখ্য, শুভ্রাংশু ছাড়াও অখিল গিরি, অপরূপা পোদ্দার, আবু তাহের, নিশীথ মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন শুভেন্দু।












Click it and Unblock the Notifications