Suvendu Adhikari: মমতার বৈঠকের সব তথ্য এখনও আসছে, বললেন শুভেন্দু! প্রার্থী বাছাই বিতর্কেও বিরাট দাবি
Suvendu Adhikari: লোকসভা নির্বাচনের ফল বেরনোর পরেও রাজ্য সরকারের সব তথ্য তাঁর কাছে চলে আসছে। এমনকী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকের খুঁটিনাটিও। দাবি শুভেন্দু অধিকারীর।
লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় তৃণমূল ২৯, বিজেপি ১২। হেরে যেতেই দিলীপ ঘোষের মন্তব্য ও ইঙ্গিতবাহী পোস্ট শুভেন্দুকে লক্ষ্য করেই, মত রাজনৈতিক মহলের। এ বিষয়েও এদিন মুখ খুললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।

মানিকতলা উপনির্বাচনে সুপ্তি পাণ্ডেকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। দলের তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। গতকাল নবান্নে কাউন্সিলর ও দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর এই নাম চূ়ড়ান্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, আগেও মৌসন বেনজির নূরকে উনি নবান্নেই তৃণমূলে যোগদান করিয়েছিলেন। এটা বাংলার মানুষ মেনে নিয়েছেন। কিছু বলার নেই।
বিজেপি কাদের প্রার্থী করতে পারে তা নিয়ে প্রশ্ন আসতেই শুভেন্দু বলেন, আমি মন্তব্য করব না। সাংবাদিকদের ভুল হচ্ছে। কারণ বিজেপিতে প্রার্থী নির্বাচন, প্রচার কৌশল সংগঠন ঠিক করে, সংগঠনের সিস্টেম আছে। রাজ্যেক কোর কমিটির ১৫ কিংবা ১৮ জন সদস্যের আমি একজন। বৈঠকে ডাকা হলে বলতে বললে বা যদি মনে করি বলব তাহলে বলি। কিংবা চুপ থাকি। বলার প্রয়োজন হলে বলি। কিছু বলতে বললে নির্বাক থাকি না।
সেই সঙ্গে শুভেন্দু বলেন, প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়ে আমি দলের প্রতিনিধিত্ব করি না। প্রধান মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বা সংশ্লিষ্ট জেলা সভাপতিরা প্রার্থী নিয়ে বলতে পারেন। রাজ্য পার্টি আমাকে বললে আমি প্রচারে যাই। সরকারি গাড়ি ব্যবহার করি না। দলের থেকেও তেলের পয়সা নিই না। তেল ভরি আমাদের পেট্রল পাম্প থেকে। কয়েক লক্ষ টাকার বৈধ রোজগার আছে। রায়গঞ্জে যেতে হলে মালদহে হোটেল ভাড়াও আমিই মেটাই। প্রচারে যেতে বললে যাব। তবে সংগঠিত করার কাজ আমার নয়।
শুভেন্দুর কথায়, আমার জেলায় যাঁরা সংগঠনে আছেন তাঁরা রাজ্যের নির্দেশিকার সঙ্গে আমার পরামর্শ মেনে চলেন। আমি শৃঙ্খলা মেনে চলা ব্যক্তি। প্রার্থী বাছাইয়ে হস্তক্ষেপের ইচ্ছা আমার নেই। আমি দলের ভিতরের কথা বাইরে বলি না। কংগ্রেসে উপদল থাকলেও দলের কথা প্রকাশ্যে বলিনি। তৃণমূলে থাকার সময় ভাইপো, মুকুল রায় হাত ধুয়ে আমার পিছনে লেগে থাকলেও কোনও কথা প্রকাশ্যে বলিনি।
দিলীপ ঘোষের নাম না নিলেও শুভেন্দু যে প্রাক্তন রাজ্য সভাপতির ভূমিকায় খুশি নন, তা স্পষ্ট করে বলেন, বিজেপিতে কেউ তিরস্কার দিতেই পারেন। পোস্ট করতে পারেন। তির্যক মন্তব্য করতে পারেন। ভালো হলে তার ক্রেডিট নিজেরা নেন। খারাপ হলে আমার ঘাড়ে চাপান। তবু দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে বাইরে বলি না।
সূত্রের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গতকাল নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠকে বলেছিলেন, রাজ্য সরকারের তথ্য ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। শুভেন্দু আজ বলেন, আমার কাছেই সব তথ্য আসছে। উনি ২৯, বিজেপি ১২ হলেও, কিংবা উনি ৪৫ আর বিজেপি ৩৯ শতাংশ ভোট পাওয়ার পরেও। এমনকী কালকের মিটিংয়ে কী হয়েছে সবটাই জেনে গিয়েছি। এ ছাড়া পাচারের টাকা কাঁথিতে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু বলেন, আমার নাম ধরে বললে বলব। তবে কাঁথিতে আমি একাই থাকি না। ওঁর রাষ্ট্রমন্ত্রী (অখিল গিরি)-ও থাকেন। উনি নিম্নমেধার। কাঁথিতে শিক্ষিত লোকের বসবাস। প্রতি ঘরে গ্র্যাজুয়েট পাবেন। কাঁথি লবণ সত্যাগ্রহের জায়গা। দেশপ্রাণ শাসমলের জায়গা, পিছাবনী রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার কাছে হারের যন্ত্রণা থেকে প্রতিহিংসাবশত অনেক কিছু করেন, বলে থাকেন। হলদিয়ায় গিয়ে আমাকে আক্রমণ করেছিলেন। ওখানে বিজেপি ২১ হাজার ভোটের লিড পেয়েছে। কাঁথিতে উনি হেঁটেছিলেন, তারপর প্রায় সব ওয়ার্ডে এগিয়ে বিজেপি। জেলাতেও প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছি ওঁর দলকে। উনি যত আমাদের জেলায় গিয়ে আমাকে আক্রমণ করবেন, তত আমাদের ভোট বাড়বে। তাই আমন্ত্রণ জানাই।












Click it and Unblock the Notifications