শুভেন্দু অধিকারী কোন পথে, সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শাহের সফরের আগেই দিলেন বার্তা
সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। অমিত শাহের বঙ্গ সফরের আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে সব কথা রটছিল, তার যোগ্য জবাব দিলেন শুভেন্দু। এর আগে শিশির অধিকারী বলেছিলেন, অধিকারীরা বেইমান নয়।
সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অমিত শাহের বঙ্গ সফরের আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে সব কথা রটছিল, তার যোগ্য জবাব দিলেন শুভেন্দু। এর আগে শিশির অধিকারী বলেছিলেন, অধিকারীরা বেইমান নয়। বাবার কথার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে শুভেন্দু সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটালেন সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে।

শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে জল্পনার নিবৃত্তি
দীর্ঘদিন ধরেই শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে জল্পনা চলছে। তাঁর সঙ্গে তৃণমূলের দূরত্ব বৃদ্ধি হচ্ছে বলে চর্চা চলছিল রাজনৈতিক মহলে। এমনও অভিযোগ উঠছিল, বিজেপির সঙ্গে তাঁর যোগসাজোশ আছে। বারবারই এমন অভিযোগ উঠেছে, আর তিনি খণ্ডন করেছেন। এবার দীর্ঘদিন তিনি তৃণমূলের কোনও অনুষ্ঠানে বা সরকারি কোনও অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছিলেন না।

দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে শুভেন্দুর যোগ সরকারি অনুষ্ঠানে
শুধু তাই নয়, শুভেন্দু অধিকারী নিজের মতো করে জনসংযোগ করছিলেন। সেখানে দলের কোনও সংস্পর্শ থাকছিল না। শুভেন্দু অনুগামীরাও পথক কর্মসূচিতে শুভেন্দুকে প্রচারের আলোয় আনছিলেন। এসব কিছুর পরে জল্পনা যখন চরমে, তখন আবার শুভেন্দু সমস্ত দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে যোগ দিলেন সরকারি অনুষ্ঠানে। এক লহমায় কেটে গেল সমস্ত জল্পনা।

দীর্ঘদিন পর শুভেন্দু হাজির সরকারি অনুষ্ঠানে
দীর্ঘদিন পর শুভেন্দুকে দেখা গেল সরকারি কোনও অনুষ্ঠানে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের উদ্যোগে সুবর্ন জয়ন্তী ভবনে এই অনুষ্ঠান হয়। এই অনুষ্ঠান থেকে পূজা গাইড ম্যাপ উদ্বোধন করা হয়। সেখানেই যোগ দেন রাজ্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দু এই অনুষ্ঠানে এসেই সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে দেন তিনি।

সরকারি অনুষ্ঠানে সশরীরে হাজির হলেন শুভেন্দু
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, দীর্ঘ কয়েকমাস যাবৎ শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল ও সরকার থেকে দূরত্ব রেখে চলছিলেন। তার ফলে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছিল। সেই জল্পনায় জল ঢালতেই সরকারি অনুষ্ঠানে সশরীরে হাজির হলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এক হয়ে লড়াইয়ের বার্তা দিলেন।

রদবদলের পর শুভেন্দু অধিকারীর গুরুত্ব খানিক খর্ব
সম্প্রতি দলীয় সংগঠনে রদবদলের পর শুভেন্দু অধিকারীর গুরুত্ব খানিক খর্ব হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর উপর ভরসা করে বেশ কয়েকটি জেলার দায়িত্ব দিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু নতুন রদবদলে পর্যবেক্ষক পদ তুলে দেওয়ায় শুভেন্দুর সেই দায়িত্ব কার্যত শেষ হয়ে যায়। তার বদলে কো-অর্ডিনেটর নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেয় তৃণমূল। জেলা থেকেই কো-অর্ডিনেটর নিয়োগ করা হয়।

রদবদলে শুধু অভিষেকের গুরুত্বই বেড়েছিল
শুভেন্দু অনুগামীদের দাবি ছিল, তৃণমূলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর শুভেন্দুই প্রকৃত অর্থে জননেতা। তাঁকে দল আরও বড় কোনও দায়িত্ব দিক। রাজ্য সভাপতি হওয়ার যোগ্যতা শুভেন্দু অধিকারীরই আছে। অথচ দল তাঁকে সঠিকভাবে কাজে লাগাচ্ছে না। উল্লেখ্য, প্রশান্ত কিশোরের আগমনের পর নতুন রদবদলে শুধু অভিষেকের গুরুত্বই বেড়েছিল।

শুভেন্দু আবার স্বমহিমায় প্রতিভাত তৃণমূলে
সেই কারণেই শুভেন্দু নিজেকে কিছুদিন সরিয়ে রেখেছিলেন। দলের সমন্বয় কমিটির বৈঠক, এমনকী মন্ত্রিসভার বৈঠকেও তিনি দিনের পর দিন গরহাজির ছিলেন। তবে মাঝে অবশ্য শুভেন্দু অধিকারী করোনা আক্রান্ত হন, তাঁর মা অসুস্থ হন। সেইসব যাবতীয় সমস্যা কাটিয়ে শুভেন্দু আবার স্বমহিমায় প্রতিভাত তৃণমূলে। এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
প্রসঙ্গত, একুশের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মাসখানেক আগে গঠিত হয়েছে তৃণমূলের নতুন রাজ্য কমিটি। তৃণমূলের একাংশের অভিযোগ,ওই কমিটিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি নন্দীগ্রামের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। তার পর থেকেই তৃণমূল থেকে দূরত্ব বাড়তে থাকে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এমনকি দলীয় কোনও কর্মসূচিতে দেখা মিলছে তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতাকে। জেলায় বসে দপ্তরের কাজ নিয়ে ব্যস্ত তিনি। পাশাপাশি সাহায্য প্রদান করছেন সাধারন মানুষকে। অন্যদিকে, করোনা হাসপাতাল গুলোতেও তিনি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। নতুন করে শুভেন্দু অধিকারীর এই অবস্থান নিয়ে জল্পনা তৈরী হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। কিন্তু আজ সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে দিলেন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।












Click it and Unblock the Notifications