শুভেন্দু অধিকারীর অভিমানের পালা চলছে ৬ বছর! মমতার গুড বুকে থাকা নেতার সমস্যা কে
শুভেন্দু কবে মমতার বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদে গর্জে উঠেছিলেন, ফিরে দেখা একনজরে
শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের দূরত্ব বেড়েই চলেছে। ২০২১-এর মতো মহাযুদ্ধের আগে এই অন্তর্দ্বন্দ্বে প্রমাদ গুণছে তৃণমূল কংগ্রেস। শুভেন্দু তৃণমূলেই আছেন বলে বার্তা দিয়েছেন। তারপরও জল্পনার শেষ হয়নি। এই অবস্থায় শুভেন্দুর দূরত্ব রেখে চলার কারণ কে, কেনই বা তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে বিদ্রোহী হয়ে উঠলেন এত বড় যুদ্ধের আগে!

১৫ বছর মমতার সঙ্গে কোনও মতপার্থক্য হয়নি শুভেন্দুর
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, শুভেন্দুর তৃণমূলের সঙ্গে রয়েছে প্রায় প্রথম থেকে। তৃণমূল গড়ার এক বছরের মধ্যেই তিনি কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন এবং তারপর ধীরে ধীরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্নেহধন্য হয়ে উঠেছিলেন। প্রথম ১৫ বছর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর কোনও মতপার্থক্য হয়নি।

সোমেনপন্থী শুভেন্দু মমতার দলে অপরিহার্য হয়ে উঠেছিলেন
১৯৯৮-এর লোকসভায় শিশির অধিকারী তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে তৃতীয় স্থান লাভ করেছিলেন। তার কিছুদিন পরই তিনি পুত্র শুভেন্দুকে নিয়ে তৃণমূলে যোগদান করেন। শুভেন্দু তখন সোমেনপন্থী ছাত্র পরিষদের ডাকসাইটে নেতা। তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েই ১৯৯৯-র লোকসভায় তৃণমূল প্রার্থীর হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। সেই পথ চলা শুরু।

শুভেন্দু নন্দীগ্রাম আন্দোলনের মুখ হয়ে ওঠেন ২০০৬-এ
২০০৪ সালের লোকসভায় লক্ষ্মণ শেঠের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়ে হেরে গিয়েছিলেন শুভেন্দু। তারপর দক্ষিণ কাঁথি থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হল ২০০৬ সালে। এরপর তিনি নন্দীগ্রাম আন্দোলনের মুখ হয়ে ওঠেন। ২০০৮-এ তাঁর নেতৃত্বে লড়াই করেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ দখল করে তৃণমূল। তারপরই মদন মিত্রকে সরিয়ে যুব সভাপতি করা হয় শুভেন্দুকে।

প্রথম নেত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রদর্শন করেন শুভেন্দু অধিকারী
২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ৬-৭ বছর ধরে শুভেন্দুর নেতৃত্বে তৃণমূল যুব সংগঠন এগিয়ে চলেছে। ২০১৪-য় শুভেন্দুকে সরিয়ে যুব সভাপতি করা হয় সৌমিত্র খাঁকে। আর পাশাপাশি ‘যুবা' নামে একটি সমান্তরাল সংগঠনও গড়ে তোলা হয়। মমতা তার দায়িত্ব দেন ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সেই প্রথম নেত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রদর্শন করেন শুভেন্দু অধিকারী।

বড় কাজে লাগানোর জন্য যুব সভাপতির পদ থেকে অপসারণ
এরপর শুভেন্দুকে একের পর এক জেলার দায়িত্ব দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে আরও বড় কাজে লাগানোর জন্য যুব সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে প্রধান সংগঠনে আনার বার্তা দেন মমতা। তারপর শুভেন্দুকে যখন যা দায়িত্ব দিয়েছেন, তা সাফল্যের সঙ্গে করে দেখিয়েছেন। কিন্তু ২০২১-এর আগে ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোর-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জুটির নির্বাচন পরিচালনার বিরুদ্ধে সরব হয়ে ফের একঘরে শুভেন্দু!

শুভেন্দুর বিদ্রোহ কোথায় গিয়ে শেষ হবে ২০২১-এ!
তারপর থেকে নানা জল্পনার জটাজাল ছড়িয়ে পড়ছে। শুভেন্দুকে সোজা পথে আনতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ নেননি। শেষপর্যন্ত শুভেন্দু তাই কোন পথে হাঁটেন, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। শুভেন্দুর বিদ্রোহ কোথায় গিয়ে শেষ হয় এবং তৃণমূলকে কত বড় খেসারত দিতে হয় তার ফলে, তা-ই এখন দেখার












Click it and Unblock the Notifications