বিজেপিতেই থাকছেন, নাকি ঘরওয়াপসি তৃণমূল কংগ্রেসে! এবার নিজেই অবস্থান ব্যাখ্যা শোভনের
ফের সেই অবধারিত প্রশ্নটা উঠে গেল। শোভন চট্টোপাধ্যায় বিজেপিতেই থাকছেন নাকি তাঁর ঘরওয়াপসি হতে চলেছে তৃণমূলে! বিগত তিন-চারদিন ধরে কিন্তু রাজ্য রাজনীতিতে চর্চা চলছে শোভনকে নিয়ে।
ফের সেই অবধারিত প্রশ্নটা উঠে গেল। শোভন চট্টোপাধ্যায় বিজেপিতেই থাকছেন নাকি তাঁর ঘরওয়াপসি হতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেসে! বিগত তিন-চারদিন ধরে কিন্তু রাজ্য রাজনীতিতে চর্চা চলছে শোভনকে নিয়ে। অনেক জল্পনা হয়েছে। এবার জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শোভন চট্টোপাধ্যায় নিজেই জানিয়ে দিলেন তাঁর অবস্থান কী হতে চলেছে!

শোভন চট্টোপাধ্যায় জল্পনার এক নাম
শোভন চট্টোপাধ্যায় এক বছরের বেশি বিজেপিতে রয়েছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনও কর্মসূচিতে অংশ নেননি। তিনি আদৌ সক্রিয় হননি রাজনীতিতে। এই একবছরে তিনি অজ্ঞাতবাসেই ছিলেন একপ্রকার। অন্তরাল থেকে বেরনো শুধু হাতে গোনা কয়েকটি ইস্যুতে। শেষ তিনি সরব হয়েছিলেন ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের পর তৃণমূলের পুরসভার বিরুদ্ধে।

দু-পক্ষের দড়ি টানাটানির মাঝে শোভন
এবার রত্না চট্টোপাধ্যায়কে ১৩১ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেওয়ার খবর হতেই শোভনকে নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। আর সেই জল্পনার মাজেই বিজেপির অন্যতম পর্যবেক্ষক অরবিন্দ মেনন ছুটে গিয়েছিলেন শোভনের বাড়িতে। দু-পক্ষের দড়ি টানানাটানির মাঝে শোভনের অবস্থান নিয়ে ঘোর ধন্দ তৈরি হয়েছিল।

পদ্মফুল না ঘাসফুল? ব্যাখ্যা স্বয়ং শোভনের
সেই জল্পনার অবসান কি ঘটল শোভনের মন্তব্য সামনে আসার পর। শোভনকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, পদ্মফুল না ঘাসফুল? খানিক থেমে শোভন চট্টোপাধ্যায় বলেছিলেন, এত তাড়াহুড়ো করছেন কেন। ভালোমন্দ বিচার করার জন্য এ তো স্বল্প সময়। অপেক্ষা করুন সময় এলেই উত্তর দেব। উত্তর দেব মানুষকে দিয়েই। রাজনৈতিকভাবে এবং পারিবারিকভাবে সবাই জবাব পাবে সব প্রশ্নের।

শোভনের কথায় মেনন প্রসঙ্গ
শোভনের কথায়, করোনা পরিস্থিতি কেটে যাক- সব মুখোশ টেনে এনে সব কিছু বুঝিয়ে দেব। তবে তিনি সাফ জানিয়েছেন, বিজেপি দলের সঙ্গে আমার কোনও বৈঠক হয়নি। অরবিন্দ মেনন রাজ্যে এলেই আমার বাড়িতে আসেন। আগেও বহুবার এসেছিলেন। সেদিনও আসেন। এর মধ্যে কোনও রাজনীতি নেই।

বড় কোনও পদ পেতে চলেছেন? জবাব শোভনের
তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এবার বৈঠকের পর ঠিক হয়েছে বড় কোনও পদ তিনি পেতে চলেছেন বিজেপিতে। তা কি ঠিক? এই প্রশ্নের উত্তরে শোভন বলেন, দায়িত্ব বা পদ নিয়ে কখনই মাথা ঘামায়নি। এত দিনের রাজনৈতিক জীবনে আগেও কোনওদিন মাথা ঘামাইনি পদ নিয়ে। আজও ঘামাচ্ছি না।

'কী অবস্থান সেটা পরিষ্কারভাবে জানি'
তৃণমূল কংগ্রেস প্রসঙ্গে তাঁর সাফ জবাব, রিজাইন করার পর তৃণমূল কংগ্রেস কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে কোনও মাথাব্যথা নেই। আর রত্নার মতামতের কোনও গুরুত্ব আমার কাছে নেই। আমার কী অবস্থান সেটা পরিষ্কারভাবে আমি জানি। সময় এলেই তা পরিষ্ফুট হবে। আর এক বছর বলছেন কেন, ৬ মাস বাদ দিন। এখন করোনা সিচুয়েশন না!

বিজেপিতে গিয়েও তৃণমূল-যোগ প্রসঙ্গে শোভন
তবে ভাইফোঁটা বা চলচ্চিত্র উৎসবে গিয়েছিলেন কেন? শোভন বলেন, ভাইফোঁটা ও চলচ্চিত্র উৎসবে গিয়েছিলাম ঠিকই। সেটা সৌজন্য মেনে। সেখানে কোনও রাজনৈতিক মত বিনিময় হয়নি। বৃহস্পতিবার পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গেও আমার কথা হয়েছিল। কিন্তু বৈশাখীকে যেভাবে সরানো হল। তার মর্যাদার হানি করা হয়েছে। কেবল আমার ফেরার শর্ত বৈশাখী ফিরবে, তা চাইনি। এটা একেবারেই অভিপ্রেত নয়।

পরিবর্তন না প্রত্যাবর্তন? কী বললেন শোভন
পরিবর্তন না প্রত্যাবর্তন? এ প্রসঙ্গে শোভন বলেন, শেষ বিচার করবে মানুষ। আমার কোথায় অবস্থান সময় এলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে। বিজেপির কর্মসূচি্তে হাজির হওয়ার অবকাশ হয়নি। তবে প্রকাশ্য কর্মসূচিতে ছিলাম না বলে যে রাজনৈতিক পর্যালোচনা করিনি এমন নয়।

সঠিক সময় এলেই মানুষ উত্তর দেবে
শোভন এছাড়াও বলেন, এখন রাজ্যে ৪০ শতাংশ বিজেপির। এটাও কিন্তু মাথায় রাখতে হবে। তারপর রাজ্যে সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে যে রাজনীতি হচ্ছে, তা বাংলার রাজনীতিতে সমীচিন নয়। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে মানুষ। করোনা থেকে ঘূর্ণিঝড় এসেছে। সবই বিবেচানাধীন। সঠিক সময় এলেই মানুষ উত্তর দেবে।

বৈশাখী স্বঘোষিত মুখপাত্র? জবাব শোভনের
আর বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় শোভন চট্টোপাধ্যায়ের স্বঘোষিত মুখপাত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে নবান্নে গেলে কিংবা পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ডাকে নাকতলায় গেলে এ কথা ওঠে না। আর অরবিন্দ মেনন দেখা করতে এলে বৈশাখী সংবাদমাধ্যমকে কিছু বললেই যদি শোভনের মুখপাত্র করে দেওয়া হয় তাকে দ্বিচারিতা ছাড়া আর কী বলা যেতে পারে!












Click it and Unblock the Notifications