• search
For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS  
For Daily Alerts

৩৯টি পুরসভা জুড়ে তৈরি হবে সাতটি কর্পোরেশন, সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের

  • By Ananya Pratim
  • |
কলকাতা, ২৭ মে: ছোটো ছোটো পুরসভাগুলিকে জুড়ে বৃহদায়তন কর্পোরেশন গঠনের সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। ৩৯টি পুরসভাকে জুড়ে ৭টি পুরনিগম বা কর্পোরেশন তৈরি করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ কথা ঘোষণা করেছেন। এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে নাগরিক জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য আনা সম্ভব হবে বলে দাবি রাজ্য সরকারের।

এই অভূতপূর্ব সিদ্ধান্তের পিছনে রাজ্য সরকার যে যুক্তি দিয়েছে, তা হল ১০ লক্ষ বা তার বেশি জনসংখ্যার শহরকে বিভিন্ন প্রকল্পে অনুদান দেয় কেন্দ্রীয় সরকার, বিশ্ব ব্যাঙ্ক এবং এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক। এখন পশ্চিমবঙ্গে এমন শহর দু'টি, কলকাতা ও আসানসোল। চন্দননগর, হাওড়া ও শিলিগুড়ি শহরে কর্পোরেশন থাকলেও এগুলির জনসংখ্যা ১০ লক্ষের কম। তাই ছোটো ছোটো পুরসভাগুলিকে যদি জুড়ে দিয়ে কর্পোরেশন তৈরি করা যায়, তা হলে বর্ধিত জনসংখ্যার বিষয়টি তুলে ধরে বেশি অর্থ জোগাড় করে আনা সম্ভব হবে। এর ফলে নাগরিক পরিষেবা উন্নততর করে তোলা সম্ভব হবে।

যদিও এর পিছনে রাজনীতির গন্ধ পেয়েছেন বিরোধীরা। কংগ্রেস, বামফ্রন্ট ও বিজেপি একযোগে বলেছে, নিজেদের পিঠ বাঁচাতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে শাসক দল। কারণ, আগামী দেড় বছরে ৯০টি পুরসভায় ভোট হওয়ার কথা। আগামী জুলাই মাসেই ১৭টি পুরসভায় ভোট হবে। লোকসভা ভোটের ফলাফলের নিরিখে বিচার করলে দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে এক নম্বরে রয়েছে বিজেপি। তৃণমূল কংগ্রেস অনেক পিছনে। ইতিমধ্যে জুলাই মাসে ১৭টি পুরসভার ভোট পিছিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে রাজ্য সরকার। তারা এখনও নোটিশই জারি করেনি। তাই পুরসভা সংযুক্তিকরণের কাজ শুরু হলে সেই অজুহাতে প্রশাসক বসিয়ে অন্তত দেড় থেকে দু'বছর ভোট ঠেকিয়ে রাখা যাবে। উদ্দেশ্য, ততদিনে হারানো মাটি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করা। তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের মতে, এখনই ভোট হলে মোদী-ঝড়ের প্রভাবে সব তছনছ করে দিতে পারে বিজেপি।

যদিও এমন অভিযোগ মানতে চাননি তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, "নতুন কর্পোরেশন গঠনের সিদ্ধান্তে কোনও রাজনীতি নেই। পুরোটাই প্রশাসনিক। মানুষকে আরও বেশি করে সুবিধা দিতেই পুরসভাগুলিকে একই ছাতার তলায় আনা হবে।"

তবে এ বিষয়ে শুধু নীতিগত সিদ্ধান্ত নিলেই চলবে না। বিস্তর ঝামেলা রয়েছে। আলাদা বিল পাশ করাতে হবে রাজ্য বিধানসভায়। তার পর তাতে রাজ্যপালের সম্মতি লাগবে। যদি সেই বিল বা আইন ঘিরে কোনও সাংবিধানিক প্রশ্ন ওঠে, তা হলে তা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাতে হবে। তা ছাড়া, পুর ও নগরোন্নায়ন দফতরের একাংশ মনে করছেন, এর জেরে আদতে শহরগুলির নিজস্বতা নষ্ট হয়ে যাবে। যেমন, শ্রীরামপুর, চন্দননগর, চুঁচুড়ার নিজস্ব ঐতিহ্য রয়েছে। এই শহরগুলিকে একই ছাতার তলায় নিয়ে এলে তাদের নিজস্বতা বলে আর কিছু থাকবে না।

প্রসঙ্গত, কলকাতা কর্পোরেশনের সঙ্গে বিধাননগর পুরসভা মিশিয়ে দেওয়ার ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু কিছু প্রশাসনিক জটিলতায় তা আর করা সম্ভব হয়নি। আপাতত তাই কলকাতা কর্পোরেশন ও বিধাননগর পুরসভা আলাদাই থাকবে।

এক নজরে প্রস্তাবিত সাত কর্পোরেশন

১. রাজারহাট-গোপালপুর, মধ্যমগ্রাম, নিউ ব্যারাকপুর ও বারাসত পুরসভা মিলিয়ে তৈরি হবে একটি কর্পোরেশন। সদর কার্যালয় হবে বারাসতে।

২. বরাহনগর, কামারহাটি, খড়দহ, পানিহাটি, উত্তর দমদম, দক্ষিণ দমদম ও দমদম পুরসভা মিলিয়ে তৈরি হবে একটি কর্পোরেশন। সদর কার্যালয় হবে দমদম।

৩. টিটাগড়, বারাকপুর, উত্তর বারাকপুর, ভাটপাড়া, গারুলিয়া, নৈহাটি, কাঁচরাপাড়া এবং হালিশহর পুরসভা নিয়ে গঠিত হবে একটি কর্পোরেশন। সদর দফতর হবে বারাকপুরে।

৪. পূজালি, বজবজ, মহেশতলা ও আমতলা পুরসভা নিয়ে তৈরি হবে একটি কর্পোরেশন। সদর কার্যালয় হচ্ছে মহেশতলা।

৫. হাওড়া কর্পোরেশন এবং বালি পুরসভা নিয়ে গঠিত হবে একটি নতুন কর্পোরেশন। সদর কার্যালয় হবে হাওড়া।

৬. চন্দননগর কর্পোরেশন এবং বাঁশবেড়িয়া, হুগলী-চুঁচুড়া, ভদ্রেশ্বর, চাঁপদানি, বৈদ্যবাটি, শ্রীরামপুর, রিষড়া, কোন্নগর ও উত্তরপাড়া-কোতরং পুরসভা মিলিয়ে গঠিত হবে একটি কর্পোরেশন। সদর দফতর হবে শ্রীরামপুরে।

৭. আসানসোল কর্পোরেশন এবং কুলটি, রাণীগঞ্জ ও জামুড়িয়া পুরসভা নিয়ে তৈরি হবে একটি কর্পোরেশন। সদর দফতর হবে আসানসোল।

নবগঠিত কর্পোরেশনগুলির নাম কী হবে, তা এখনও ঠিক হয়নি। নামগুলি বাছবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে।

lok-sabha-home
English summary
Small municipalities to be merged into seven corporations
For Daily Alerts

Oneindia - এর ব্রেকিং নিউজের জন্য
সারাদিন ব্যাপী চটজলদি নিউজ আপডেট পান.

Notification Settings X
Time Settings
Done
Clear Notification X
Do you want to clear all the notifications from your inbox?
Settings X
We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Oneindia sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Oneindia website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more