এনআরসি নিয়ে গুজব, পদপিষ্ট হওয়ার মতো দুর্ঘটনা কোনওমতে এড়াল প্রশাসন
এনআরসি নিয়ে গুজবের জেরে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে কালিয়াচক ১ নম্বর ব্লক অফিসে।
এনআরসি নিয়ে গুজবের জেরে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে কালিয়াচক ১ নম্বর ব্লক অফিসে। মঙ্গলবার সকাল থেকে হাজার হাজার মানুষ রেশন কার্ড সংশোধন এবং নতুন ভাবে নাম তোলার জন্য আসেন। এরপরই গুজব ছড়াতেই সকলে হুমড়ি খেয়ে পড়েন ব্লক অফিসে। এই পরিস্থিতির জেরে ভিড়ে ঠাসাঠাসির মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েন বেশ কয়েকজন বয়স্ক মানুষ। তড়িঘড়ি খবর পেয়ে ছুটে আসে পুলিশ। তাদের সহযোগিতায় উদ্ধার করা হয়।

সকাল থেকেই পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক ছিল, যে কোনও মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ছুটে আসেন আইসি আশিস দাস ও ব্লক প্রশাসনিক কর্তারা। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু মানুষের মধ্যে এনআরসি আতঙ্ক এতটাই গ্রাস করেছে যে কেউ হাতে দলিল, পূর্বপুরুষের পরিচয় পত্র সঙ্গে নিয়ে এসেছেন ব্লক অফিসে। কিন্তু এই কাগজগুলির কোনও প্রয়োজনই নেই বলে বারবার পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে জানিয়ে দেওয়া হয়। সুষ্ঠুভাবে শৃঙ্খলা বজায় রেখে আবেদনপত্রগ্রহণ এবং জমার কথা বলা হয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে। কিন্তু মানুষের আতঙ্ক কমেনি।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরে নতুন ডিজিটাল রেশন কার্ড তৈরি এবং সংশোধনের কাজ চলছে বিভিন্ন ব্লক অফিস গুলিতে। পাশাপাশি ভোটার কার্ড সংশোধনের কাজ শুরু হয়েছে। এই ডিজিটাল রেশন কার্ডের কাজ চলবে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। আর ভোটার কার্ড সংশোধনের কাজ চলবে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত। কিন্তু এরই মধ্যে কালিয়াচক জুড়ে এক অংশের মানুষের মধ্যে গুজব ছড়িয়ে গিয়েছে যে এনআরসির জেরে ডিজিটাল রেশন কার্ড না করতে পারলে হয়তো তাদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে।
এই আতঙ্কে কালিয়াচকের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়েন এলাকার ব্লক অফিসে। ডিজিটাল রেশন কার্ড করতে আসা কালিয়াচকের গয়েশবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মনিরুল হক, আলিমুদ্দিন শেখ, আমজাদ মিঞাদের বক্তব্য, ডিজিটাল রেশন কার্ড না থাকলে যদি এনআরসি লাগু হয় তাহলে আমাদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে। হাতে আর সময় নেই। তাই অসহ্য গরম, তার মধ্যে ঠেলাঠেলি, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশেও নাম তোলার হিড়িক পড়েছে।
কালিয়াচক ১ ব্লকের বিডিও সন্দীপ দাস জানিয়েছেন, মানুষের মধ্যে একটা গুজব ছড়িয়েছে শুনেছি। এই ধরনের কোনও ঘটনাই ঘটবে না। সরকারি নিয়ম মেনে ডিজিটাল রেশন কার্ড তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। অযথা যারা গুজব রটাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশকে বলেছি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে।
কালিয়াচক থানার আইসি আশিস দাস জানিয়েছেন, কারা কিভাবে এই ধরনের এনআরসি নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে তা অবশ্যই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কালিয়াচক ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আতাউর রহমান বলেন, কিছু মানুষের মধ্যে এনআরসি নিয়ে একটা ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে। বিভিন্নভাবে ভুল প্রচার করছে। সরকারি নিয়ম মেনে ডিজিটাল রেশন কার্ড তৈরি হচ্ছে। এনআরসি নিয়ে যারা গুজব ছড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।












Click it and Unblock the Notifications