শোভন বড্ড বেশি ‘কনফিউজড’! জল মাপতে গিয়ে অন্ধকারে ডুবছে, খোঁচা স্ত্রী রত্নার
শোভন বড্ড বেশি ‘কনফিউজড’! রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন তুলে দিলেন রত্না
আরও একবার তৃণমূলের দোরগোড়ায় এসে হোচট খেলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। আবারও তাঁর ফেরা হল না তৃণমূলে। এ জন্য শোভনের সিদ্ধান্তহীনতাকেই দায়ী করলেন রত্না চট্টোপাধ্যায়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পাশা উল্টে ১৩১ নম্বর ওয়ার্ডে সক্রিয় হয়েই শোভনকে নিশানা করলেন স্ত্রী রত্না। একইসঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যতেও প্রশ্নচিহ্ন লাগিয়ে দিলেন তিনি।

রত্নাকে দায়িত্ব থেকে অব্যহতির পরই জল্পনায় শোভন
সোমবার সকাল থেকেই শোভনের তৃণমূলে ফেরা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। রত্না চট্টোপাধ্যায়কে ১৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধা্ন্ত নেয় তৃণমূল। তারপর থেকেই শোভনকে নিয়ে জল্পনার পারদ চড়তে শুরু করে। রাজনৈতির মহলের ধারণা ছিল, শোভনকে ফেরাতেই তৃণমূলের হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত।

ফের দলের নির্দেশ পাওয়ার পরই সক্রিয় হন রত্না
মঙ্গলবার সকাল থেকে আবার রত্নাকে ১৩১ নম্বর ওয়ার্ডে সক্রিয় হতে দেখা যায়। দলের নির্দেশ পাওয়ার পর মঙ্গলবার ফের সক্রিয় হল বলে জানান রত্না। তিনি প্রতিদিনকার মতো এলাকায় নেমে কাজ করছেন, জনসংযোগ করেছেন। রত্না বলেন, দল আমাকে যা নির্দেশ দিয়েছে, তা করে যাব। শোভনবাবু বিজেপিতে যাওয়ার পর থেকেই এই ওয়ার্ডে আমি কাউন্সিলরের মতো কাজ করে যাচ্ছি। দলের নির্দেশ মেনে সংগঠন বাড়ানোর কাজ করছি।

শোভন কনফিউজড, সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না
রত্না মনে করেন, শোভনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে গিয়েছে ঘর ছেড়ে। এই ঘর তাঁর জন্য যে স্বার্থত্যাগ করেছে, তা আর কেউ করবে না। তিনি এখন এত কনফিউজড যে, কোনও সিদ্ধান্তই নিতে পারছেন না। কোন ফুলকে বেছে নেবেন রাজনীতিতে গুরুত্ব ফিরে পেতে, সেটাই ভেবে পাচ্ছেন না শোভন!

মেনন শোভনের বাড়িতে যেতেই বেঁকে বসে তৃণমূল
শোভনের তৃণমূলে ফেরার জল্পনার মধ্যেই সোমবার রাতে তাঁর বাড়িতে যান বিজেপির পর্যবেক্ষক অরবিন্দ মেনন। তিনি আড়াই ঘণ্টা বৈঠক করেন শোভন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তাঁকে সক্রিয় হওয়ার বার্তা দেন। অরবিন্দ মেননের এই শোভনের বাড়িতে যাওয়া ভালো চোখে নেয়নি তৃণমূল নেতৃত্ব। তাই আবারও দাঁড়ি পড়ে যায় শোভনের ঘরওয়াপসির সম্ভাবনায়।

শোভন বাছতে পারছেন না কোন ফুল, তাই নিষ্ক্রিয়
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, শোভনের এই দু-নৌকায় পা দিয়ে চলা তৃণমূল ভালো চোখে দেখছে না। তাই মেনন তাঁর বাড়িতে যেতেই তৃণমূল দরজা বন্ধ করে দিল ফের। শোভনকে দলের একটা শ্রেণি ফিরে পেতে চাইলেও একটা শ্রেণির ঘোর আপত্তি রয়েছে। প্রশান্ত কিশোরও তাঁকে চাইছেন না বলেই ধারণা একাংশের।

শোভন ফিরুন তৃণমূল কংগ্রেসে, তবে নিঃশর্তে
আসলে তৃণমূলের অন্য একটা অংশ শোভনকে চাইছে না। তার কারণ, শোভনকে তাঁরা কোনও শর্তসাপেক্ষে ফেরানো হোক চায় না। বিনা শর্তে শোভন যদি ফেরেন তো তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। উল্লেখ্য, শোভনের অন্যতম শর্ত ছিল রত্নার সঙ্গে তিনি একমঞ্চে বসবেন না। তাই রত্নাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিলেই তিনি তৃণমূলে ভিড়বেন।

ঘরে ফিরলেই ফের প্রাসঙ্গিকতা ফিরে পাবেন শোভন
সেই কারণেই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার দু-মাসের মধ্যে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে ভাইফোঁটা নিয়ে এসেও শোভনের তৃণমূলে ফেরা হয়নি। বাধ সেধেছিল রত্না। রত্না কিছুদিন আগেও গর্বের সঙ্গে বলেছিলেন, তাঁকে মেনেই তৃণমূলে ফিরতে হবে শোভনকে। ঘরে ফিরলেই তিনি ফের প্রাসঙ্গিকতা ফিরে পাবেন রাজ্য রাজনীতিতে।

শোভনের ঘরওয়াপসির সম্ভবনা, ছবি বদলে গেল এক নিমেষে
সোমবার জল্পনা শুরু হয়েছিল, বিজেপিতে একবছর অজ্ঞাতবাস কাটিয়ে তৃণমূলে ফিরতে পারেন শোভন। দিনভর শোভন চট্টোপাধ্যায়ের তৃণমূলে প্রত্যাবর্তনের জল্পনার পর বিজেপি তৎপর হয়ে শোভনের সঙ্গে বৈঠক করে। তারপরই ছবিটা বদলে যায় নিমেষে। এখন প্রশ্ন, বিজেপির হঠাৎ তৎপরতা আর তাঁর দেওয়া শর্তেই তৃণমূলে ফেরার পথে ফের হোঁচট খেলেন শোভন!












Click it and Unblock the Notifications