Women's Day 2025: নারী দিবসে প্রত্যন্ত গ্রামের মহিলাদের ঋতুচক্র নিয়ে সচেতনতার বার্তা বাংলার ‘Padman’-এর!
আজ থেকে প্রায় ১০০ বছর আগে প্রথম শুরু হয়েছিল আন্তর্জাতিক নারী দিবস। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নারীরা তাদের নিজের জায়গা তৈরি করে নিয়েছিলেন। যেখানে নারীদেরও তাদের সমান অধিকার দেওয়া হতো। আজও ৮ মার্চ বিশ্বজুড়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এই দিন সম্মান জানানো হয় বিশ্বের সকল নারীকে। সমাজে নিজেদের অধিকার ফিরে পেতে প্রতিনিয়ত লড়াই করে চলেন নারীরা। কিন্তু নারীদের এই লড়াইয়ে পাশে দাঁড়িয়ে সাহস জোগান এমন পুরুষও আছেন। তাই নারী দিবসে এবার সেই পুরুষকে সম্মান জানানোর পালা যিনি নারীদের পাশে থেকে সর্বক্ষণ তাঁদের স্বাস্থ্য সচেতনতার বার্তা দিয়ে চলেছেন।
দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর ধরে নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিয়ে কাজ করছেন তিনি। প্রত্যন্ত গ্রামের প্রান্তিক মহিলাদেরও তিনি সচেতন করছেন ঋতুকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতা ও জরায়ু মুখের ক্যানসার নিয়ে। তিনি বাংলার প্যাড ম্যান সুমন্ত বিশ্বাস।

চন্দননগরের বাসিন্দা সুমন্ত বিশ্বাস। যেভাবে বিদ্যাসাগর সহস্র বর্বরতার মধ্যেও নারীদের জন্য লড়েছিলেন ঠিক সেভাবেই বর্তমান যুগে নারীদের সচেতন করতে এগিয়ে এসেছেন পেশায় ভূগোল শিক্ষক সুমন্ত বিশ্বাস। আধুনিক যুগে সাজসজ্জা, আদব কায়দা বদলালেও চিন্তাধারা এখনও সম্পূর্ণরূপে বদলায়নি। এ যুগেও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রত্যন্ত গ্রামের প্রান্তিক মহিলাদের মধ্যে এখনও ঋতুচক্র নিয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে। সমাজের সেইসকল নারীকে ঋতুচক্র নিয়ে সচেতন করতেই এগিয়ে এসেছেন বাংলার এই প্যাডম্যান। সাইকেল নিয়ে গ্রামে গ্রামে গিয়ে মহিলাদের স্বাস্থ্য সচেতনতার বার্তা দেন সুমন্ত বিশ্বাস।
স্যানাটারি ন্যাপকিনের পাশাপাশি মেনস্ট্রুয়াল কাপ ব্যবহারের উপকারিতাও মহিলাদের সামনে তুলে ধরছেন শিক্ষক সুমন্ত বিশ্বাস। তাঁর কথায়, 'আমরা বিজ্ঞানকে মানুষের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করি। এটা যে কোনও সংস্কার নয়, তার পাঠ দিই আমরা। কতরকমের ঋতুস্রাব হয়, জরায়ু ক্যানসার কী, স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করলে কতটা হাইজিন মেনে চলতে হয়, এই সবেরই ক্লাস করি আমরা। গ্রামের প্রান্তিক মহিলাদের জন্যই আমাদের এই কর্মসূচি। এর পাশাপাশি বর্তমানে মেনস্ট্রুয়াল কাপ সম্পর্কেও আমরা বিস্তারিত তথ্য দিচ্ছি মহিলাদের'।
ভূগোল শিক্ষক সুমন্ত বিশ্বাস আরও বলেন, প্রত্যন্ত গ্রামের ও দুঃস্থ মহিলাদের সুবিধার্থে রেশনে স্যানিটারি ন্যাপকিন দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এতে কোনও সুরাহা মেলেনি। এমনকী এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিলেও কোনও উত্তর পাননি তিনি।
নারীদের অধিকার, নারীদের সম্মান রক্ষার্থে নানা কর্মসূচি করা হলেও নারীদের স্বাস্থ্য নিয়ে এখনও সচেতন নন অনেকেই। আর ঠিক সেইকারণে সমাজের সেইসকল নারীর কাণ্ডারী হয়ে দাঁড়িয়েছেন চন্দননগরের সুমন্ত বিশ্বাস। নারী দিবসে তাঁকে কুর্নিশ জানায় ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা।












Click it and Unblock the Notifications