Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

তাত্ত্বিক নেতাদের থেকে ছিলেন আলাদা, পার্টি লাইনের বিরুদ্ধেও হেঁটেছেন সীতারাম ইয়েচুরি

কেবলই কি তাত্ত্বিক নেতা? না কী ভারতীয় ভোট রাজনীতির সাপলুডোতেও তিনি পারদর্শী ছিলেন? লোকসভা ভবনে দীর্ঘ সময় তিনি দীর্ঘ বক্তব্য রেখেছেন। তাবড় রাজনীতির কারবারিরা তাঁর বক্তব্য শুনতেন। ইন্ডিয়া জোট তৈরির ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল অন্যতম। এবার তিনি থামলেন। সিপিআইএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরি চলে গেলেন।

গত এক মাস ধরেই ভুগছিলেন। হাসপাতালে চিকিৎসাও চলছিল৷ সংক্রমণ আর কমানো যাচ্ছিল না। দিন কয়েক আগেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অনেকটাই অবনতি হয়৷ আর বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁর শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করার খবর আসে৷ তার সঙ্গেই শেষ হল ভারতের বাম রাজনীতির একটা অধ্যায়।

Sitaram yeachuri

সিপিএম পলিট ব্যুরোর দীর্ঘ দিনের সদস্য ছিলেন। আমৃত্যু সেই সদস্যপদ থাকল। সীতারাম ইয়েচুরি সিপিএমের অল ইন্ডিয়া সেক্রেটারির দায়িত্বে ছিলেন। ভারতের রাজনীতিতে এ এক ইন্দ্রপতন৷ এই কথা অনেকেই মনে করছেন। তাঁর চলে যাওয়া সিপিএম তথা বাম রাজনীতির প্রভূত ক্ষতি৷

১৯৫২ সালের ১২ আগস্ট সীতারাম ইয়েচুরির জন্ম হয় তৎকালীন মাদ্রাজে। বাবা সর্বেশ্বরা ইয়েচুরি ছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের রাজ্য পরিবহণ সংস্থার ইঞ্জিনিয়ার। তাঁর মা- ও বড় সরকারি পদেই চাকরি করতেন। ছোট থেকেই পড়াশোনা ভালো ছিলেন সীতারাম। তেলেঙ্গানার দাবিতে আন্দোলনের সময় তাঁর বাবা - মা দিল্লিতে তাকে পাঠিয়ে দেন।
সেটা ছিল ১৯৬৯ সাল। দিল্লির প্রেসিডেন্ট এস্টেট স্কুলে তাকে ভর্তি করা হয়।

সেই স্কুল থেকেই সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় গোটা দেশের মধ্যে প্র‍থম স্থান অর্জন করেন। এরপর অর্থনীতি নিয়ে সেন্ট স্টিফেন্স কলেজে পড়াশোনা শুরু করলেন। এরপর স্নাতকোত্তর করতে দিল্লি জওহরলাল নেহেরু ইউনিভার্সিটি। এখানে পড়ার সময় তিনি এসএফআই শিবিরে যোগদান করেন। একসময় জেএনইউর নেতৃত্ব দিয়েছেন সীতারাম ইয়েচুরি৷

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সামনে দাঁড়িয়ে তিনি তাঁদের দাবি সম্মলিত স্মারকলিপিও পড়েছেন। সেই সময় সিপিএমের রাজনীতির তাবড় মুখ ছিলেন পি সুন্দরাইয়ার, বাসব পুন্নাইয়া, ইএমএস নাম্বুদিরিপাদ, প্রমোদ দাশগুপ্তরা। তাঁরা নতুন প্রজন্মকে তুলে আনতে হবে। এই ভাবনাচিন্তা করেছিলেন। তখনই সীতারাম ইয়েচুরির দিকে নেতৃত্বের নজর যায়।

বিমান বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, অনিল বিশ্বাসদের সঙ্গে সীতারাম ইয়েচুরিও সিপিএম দলের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হন। সীতারাম ইয়েচুরি ছিলেন সেই দলে সর্বকনিষ্ঠ। জাতীয় রাজনীতিতে সীতারাম থাকলেও বঙ্গ নেতাদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত নিবিড়। দীর্ঘকাল ধরেই বঙ্গ রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছিলেন সীতারাম ইয়েচুরি। জ্যোতি বসু, সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়, বিমান বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যদের অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন সীতারাম ইয়েচুরি৷

তার মাতৃভাষা ছিল তেলেগু। কিন্তু সাত থেকে আটটি ভাষায় যথেষ্ট দখল ছিল। বাংলা ভাষাও তিনি স্বচ্ছলভাবে বলতে পারতেন। হিন্দি, ইংরাজি তো ছিলই। ২০০৫ সাল থেকে সীতারাম ইয়েচুরি রাজ্যসভার সাংসদ ছিলেন। ২০১৭ সালের ১০ আগস্ট রাজ্যসভায় তাঁর শেষ দিন ছিল। সীতারামের বক্তব্য শোনার জন্য মুখিয়ে থাকতেন এক সময়ের ডান - বাম অনেক নেতাই।

পার্টি লাইন সিপিএমের এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়৷ সেই রেজিমেন্ট পার্টিলাইন সীতারাম ইয়েচুরি অনেক বার ভেঙেছেন। সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে সিপিএম থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে তিনি প্রবল বিরোধিতা করেছিলেন। এক সময় বাংলার কংগ্রেসের সঙ্গে সিপিএমের জোটের ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

এবারের ইন্ডিয়া জোটেও একইভাবে ভূমিকা পালন করেন। জাতীয় স্তরে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে বৃহত্তর স্বার্থে জোটে সমস্যা নেই৷ সেই বার্তাও দিয়েছিলেন তিনি৷ সীতারাম ইয়েচুরির স্ত্রী ইন্দ্রাণী মজুমদার। তাঁদের দুই সন্তান, পুত্র আশিস ও কন্যা অখিলা। করোনা অতিমারির সময় ২০২১ সালে আশিসকে হারাতে হয় তাঁদের।

গত ৯ আগস্ট মারা যান বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। সেই সময় সীতারাম ইয়েচুরির চোখে অস্ত্রোপচার হয়েছিল। তাই তিনি আসতে পারেননি শেষযাত্রায়। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও সীতারাম ইয়েচুরি দুজনেই ছিলেন স্মোকার। হাসপাতালে যাওয়ার আগে পর্যন্ত সিগারেট খেয়েছেন তিনি। সেই গত মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সেই হাসপাতালেই শেষ। শেষ হল বাম রাজনীতির এক বর্ণময় চরিত্রের।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+