Oneindia থেকে ব্রেকিং নিউজের আপডেট পেতে

সারাদিন ধরে চটজলটি নিউজ আপডেট পান

You can manage them any time in browser settings

‘মুকুলের দল’-এ বড়সড় ভাঙন! জানুন কে এলেন দায়িত্বে, কার পদ গেল

Subscribe to Oneindia News

একটা চিঠিই আমূল বদলে দিল সবকিছু। নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহদের লেখা সেই চিঠির জেরেই দলে ভাঙন স্পষ্ট হয়ে উঠল। পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল বর্তমান সভাপতিকে। নতুন সভাপতিও নির্বাচিত হল দলের। নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়ে বিশদ জানালেন পার্টির সাধারণ সম্পাদক প্রবাল সাহা। সেইসঙ্গে নতুন এই দল শুরু করে দিল পরবর্তী নির্বাচনে লড়ার প্রস্তুতি। তবে পথ চলা শুরুর আগেই দুই সভাপতির দ্বন্দ্বে নয়া সঙ্কট তৈরি হল 'মুকুলের দল'-এ।

মুকুলের দল’-এ বড়সড় ভাঙন

মুকুল রায় দল ছাড়ার দিনেই জানিয়েছিলেন, তাঁর নির্দেশেই তৈরি হয়েছিল জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেস। এই দলের সভাপতি হয়েছিলেন অমিতাভ মজুমদার। আর সাধারণ সম্পাদক ফরিদ খান। মুকুল রায়ের সাংবাদিক সম্মেলনের আগে পর্যন্ত কোনও বিভেদ ছিল না দলে। কিন্তু যত সর্বনাশ ডেকে আনল সাংবাদিক বৈঠকে সারদা-নারদ প্রসঙ্গ।

মুকুলের দল’-এ বড়সড় ভাঙন

মুকুল রায় আর্থিক কেলেঙ্কারির প্রশ্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়ানোই বিপত্তি তৈরি হল। দুভাগ হয়ে গেল জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেস পার্টি। অমিতাভ মজুমদার প্রকাশ্যেই মুকুল রায়ের বিরোধিতা করলেন। এমনকী তিনি চিঠি লিখে মোদী-অমিত শাহদের জানিয়ে দিলেন মুকুল রায় তৃণমূলের 'চর'। ওঁর থেকে সাবধান। বিজেপির ক্ষতি করতেই দলে যোগ দিতে যাচ্ছেন তিনি।

এই প্রসঙ্গ উঠতেই জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অমিতাভ মজুমদারকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাঁকে সরিয়ে সভাপতির দায়িত্বে আসেন ফরিদ খান। তিনি অল ইন্ডিয়া মাইনোরিটি ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনিই যে নয়া সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত হলেন, তা চিঠি দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে ইতিমধ্যেই। শনিবার নির্বাচন কমিশনে গিয়ে চিঠি পেশ করেন জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা।

মুকুলের দল’-এ বড়সড় ভাঙন

ফরিদ খান জানান, অমিতাভ মজুমদার মোদী-অমিত শাহদের যে চিঠি লেখেন, তার সঙ্গে এই সভাপতি নির্বাচনের কোনও সম্পর্ক নেই। অমিতাভবাবু দীর্ঘদিন ধরেই দলবিরোধী কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। পার্টির লেটার হেড ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছিলেন। দলকে অন্ধকারে রেখেই এই কাজ করে যাচ্ছিলেন তিনি। সেই কারণেই তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১০ সেপ্টেম্বর দলের সাধারণ সভায় ১১৭ জন সদস্যের উপস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

তবে তা তখনই নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়নি। মুকুল রায়ের অবস্থানের দিকেই চেয়েছিল এই জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেস পার্টি। এরই মাঝখানে সারদা-নারদ নিয়ে মুকুল রায়ের অবস্থানে ক্ষুন্ন হয়ে অমিতাভ মজুমদার মুকুল রায়কে 'তৃণমূলের চর' বলে অভিযোগ করেন। তাঁর তৃণমূল ছাড়া একটি নাটক বলেও জানান তিনি। এই ঘটনার পরই শনিবার নির্বাচন কমিশনে গিয়ে চিঠি দাখিল করা হয়।

মুকুলের দল’-এ বড়সড় ভাঙন

অমিতাভবাবু জানান, সঠিক নিয়ম মেনে এই সভাপতি নির্বাচন হয়নি। কেন একমাস দেরিতে দলীয় সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনে পেশ করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অমিতাভবাবু। জানিয়ে দেন তিনিই জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি। এই ব্যাপারে তিনি নির্বাচন কমিশনকে আগেই অবহিত করেছেন। প্রয়োজনে আদালতের শরণাপন্ন হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অমিতাভবাবু।

মুকুলের দল’-এ বড়সড় ভাঙন

তিনি বলেন, সারদা ও নারদ প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন তিনি ক্লিনচিট দিলেন। তিনি ক্লিনচিট দেওয়ার কে? এখানেই তীব্র আপত্তি রয়েছে আমাদের। তারপর মুকুল রায় যে সারদাকাণ্ডে বিজেপিকে ম্যানেজ করেই বেঁচেছিলেন, সেই ঘটনাও প্রকাশ্যে চলে আসে। সারদার কালিমা থেকে মুক্ত নন নিজেই, তিনি কী করে ক্লিনচিট দিতে পারেন একজনকে? তা ভিন্ন মুকুল রায়ের সঙ্গে আমার বা আমাদের কোনও বিরোধ ছিল না। কেননা, এটা শিরোধার্য যে তাঁর অনুপ্রেরণাতেই এই দলের সৃষ্টি। কিন্তু তিনি তৃণমূল ছেড়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে চলেছেন। এই আনুগত্যই প্রমাণ করছে তিনি তৃণমূল ছাড়লেও তৃণমূলকে ছাড়েননি।

English summary
Nationalist Trinamool Congress Party is broken due to letter against Mukul Roy.
Please Wait while comments are loading...