ইয়াসের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে পর্যালোচনা করতে কলাইকুন্ডাতে মমতার সঙ্গে বৈঠকে মোদী! করা হতে পারে অর্থ বরাদ্দ
সেভাবে বাংলাতে আছড়ে পড়েনি সাইক্লোন ইয়াস। কিন্তু উপকূল অংশে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। দিঘা, মন্দারমণি সহ একাধিক জায়গা জলমগ্ন। শুধু তাই নয়, কোথাও ভেঙেছে বাঁধ। গ্রামের পর গ্রাম ভেসে যাচ্ছে। দিশেহারা অবস্থা সাধারণ মানুষের ঘূর্ণিঝ
সেভাবে বাংলাতে আছড়ে পড়েনি সাইক্লোন ইয়াস। কিন্তু উপকূল অংশে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। দিঘা, মন্দারমণি সহ একাধিক জায়গা জলমগ্ন। শুধু তাই নয়, কোথাও ভেঙেছে বাঁধ। গ্রামের পর গ্রাম ভেসে যাচ্ছে। দিশেহারা অবস্থা সাধারণ মানুষের ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে এখনও বিপর্যস্ত নামখানা, পাথরপ্রতিমা, ফ্রেজারগঞ্জ-সহ দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকা।
নদী বাঁধ ভেঙে গ্রামে ঢুকছে জল। এই অবস্থায় নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার খরচ হয়েছে। এই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন মমতা।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে মোদী
কলাইকুণ্ডাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৈঠকে থাকবেন রাজ্য এবং কেন্দ্রের শীর্ষ আধিকারিকরা। সবাইকে নিয়েই এই বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ইয়াস ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়েছিল পূর্ব ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের সামুদ্রিক উপকূলবর্তী এলাকাতে। মঙ্গলবার রাত থেকে ভরা কোটালের সঙ্গে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে প্রবল জলোচ্ছ্বাস হয়েছে। সেই কারণে ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলির কাছ থেকে এবিষয়ে একটি প্রাথমিক রিপোর্টও সংগ্রহ করেছেন কেন্দ্র। তারপরেই এই বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত।

মিলতে পারে আরও টাকা?
ইতিমধ্যে ইয়াস ঘূর্ণিঝড়ের মোকাবিলায় রাজ্যকে ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র। ইয়াসের মোকাবিলায় অগ্রিম বাবদ অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশাকে ৬০০ কোটি করে দেওয়া হয়েছে। অর্থ দেওয়ার ক্ষেত্রে কেন এমন বৈষম্য তা নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। অন্ধ্র এবং ওডিশা থেকে বড় এই রাজ্য। এরপরেও কেন কম টাকা দেওয়া হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেণ মমতা। মনে করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পরে এই বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য আরও বরাদ্দ করা হবে। প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের আমপান ঘূর্ণিঝড়ের পরেও রাজ্যের পরিস্থিতি দেখতে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেবারও বসিরহাটে বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী সহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে। বৈঠকের পর ১০০০ কোটি টাকা বরাদ্দও করেছিলেন তিনি। যদিও এই বিষয়টিকে মাছের তেলেই মাছ ঢাকা বলে ব্যাখ্যা করেছেন

সফরে রদবদল!
প্রধানমন্ত্রী আচমকাই রাজ্য সফরে চলে আসায় সেই পরিকল্পনায় খানিক বদল আসতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষ করে দিঘায় আসতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার রাতে দিঘা থেকে প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান জানতে চাইবেন। সেক্ষেত্রে শনিবার সকালে দিঘার পর্যদুস্ত এলাকা পরিদর্শনে যেতে পারেন মমতা। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রধাণমন্ত্রী বন্যা বিধ্বস্ত এলাকা ঘুরে দেখবেন কিনা তা জানা যায়নি।

মেদিনীপুর ঘুরে দেখার কথা প্রধানমন্ত্রীর
সবথেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে মেদিনীপুর। দিঘা, শঙ্করপুর সহ উপকূল এলাকাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গ্রামের মধ্যে ঢুকে গিয়েছে জল। জানা যাচ্ছে, গ্রামের মধ্যে সমুদ্রের জল ঢুকে যাওয়াতে একের পর এক গ্রাম ভেসে গিয়েছে। ভেঙ্গে গিয়েছে বোল্ডার, বাঁধ। এই অবস্থায় বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করতে রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সূত্রের খবর, তিনি পূর্ব মেদিনীপুর অর্থাৎ যে এলাকা সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত, সেখানে পরিদর্শন করবেন। একইদিনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও ইয়াসে তছনছ হয়ে যাওয়া দিঘা, সাগরের মতো এলাকা পরিদর্শনের কথা হেলিকপ্টারে। মনে করা হচ্ছে, প্রধাণমন্ত্রীর সঙ্গেই হয়তো আকাশপথে বন্যা বিধ্বস্ত এলাকাতে যেতে পারেন মমতা।












Click it and Unblock the Notifications