পুরনো দলকে থোড়াই কেয়ার, সুব্রতকেই অনুসরণ করতে চলেছেন মুকুল রায়
মুকুল রায়কে (mukul roy) নিয়ে ধোঁয়াশা অব্যাহত। এই ধোঁয়াশা হল বিধানসভায় তাঁর বসার আসন নিয়ে। তবে জানা গিয়েছে বিধানসভার অধিবেশন বসলে তিনি বিরোধী পক্ষ অর্থাৎ বিজেপির (bjp) দিকের আসনেই বসতে চলেছেন। তা না করে এখনই সরকারপক্
মুকুল রায়কে (mukul roy) নিয়ে ধোঁয়াশা অব্যাহত। এই ধোঁয়াশা হল বিধানসভায় তাঁর বসার আসন নিয়ে। তবে জানা গিয়েছে বিধানসভার অধিবেশন বসলে তিনি বিরোধী পক্ষ অর্থাৎ বিজেপির (bjp) দিকের আসনেই বসতে চলেছেন। তা না করে এখনই সরকারপক্ষের দিকে বসলে শুভেন্দু অধিকারীর (suvendu adhikari) তোলা অভিযোগকেই সমর্থন করবে। এব্যাপারে তিনি সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে (subrata mukherjee) অনুসরণ করতে চলেছেন বলেই জানা গিয়েছে।

বিরোধী বেঞ্চেই মুকুল রায়
বিধানসভার বাইরে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন মুকুল রায়। কিন্তু বিধানসভার ভিতরে তিনি আসন বদল করার জন্য কোনও আবেদন জানাননি অধ্যক্ষের কাছে। সেই কারণে তাঁর আসন থাকছে বিরোধী অর্থাৎ বিজেপির দিকেই। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপাতত দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতেই এই কৌশল নিচ্ছেন মুকুল রায়।

মুকুল রায় হতে পারেন পিএসির চেয়ারম্যান
মুকুল রায় ইতিমধ্যেই পিএসির সদস্য হয়েছেন। এব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন মুকুল রায় তো বিজেপির সদস্য। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন পরিস্থিতি এখনকার মতো অনুকূল হলে তিনিই বিধানসভার পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান হতে পারেন। পদটি বিরোধীদের পাওয়ার কথা থাকলেও তৃণমূলের শাসনে তা করা হয়নি। ২০১৬-তে মানস ভুঁইয়াকেও একইভাবে পিএসির চেয়ারম্যান করা হয়েছিল।

সুব্রত মুখোপাধ্যায়কেই অনুসরণ
সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন কংগ্রেসেই। সেই দল ছেড়ে ১৯৯৯ সালে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেন। সেই সময় তিনি ছিলেন কংগ্রেস বিধায়ক। সেই পরিস্থিতিতে ২০০০ সালে কলকাতা পুরসভার নির্বাচনের পরে তৃণমূল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে, তাঁকেই মেয়র করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধানসভায় কংগ্রেস আর পুরসভায় তৃণমূল সদস্য হিসেবে কাজ চালিয়েছিলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায় ২০০১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পর্যন্ত। ২০০১-এর নির্বাচনে তিনি তৃণমূলের টিকিটে বিধায়ক হয়েছিলেন।

সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের দলবদলের ইতিহাস
১৯৯৯ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। ২০০০ সালে তৃণমূলের হয়েই কলকাতার মেয়র। ২০০১-এ বিধানসভা নির্বাচনে জয় তৃণমূলের হয়েই। এরপর ২০০৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে তৎকালীন কলকাতা উত্তর পশ্চিম আসন থেকে হেরে যান তিনি। এরপর ২০০৫ সালে পুরসভা নির্বাচনের আগে তিনি তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে ফিরে যান। সেই বাম বামেরা কলকাতা পুরসভা দখল করেছিল। এরপর ২০০৬-এ বিধানসভা নির্বাচনে চৌরঙ্গী থেকে এবং ২০০৯ -এর লোকসভা নির্বাচনে বাঁকুড়া থেকে কংগ্রেসের হয়ে পরাজিত হন। ২০১০-এর মে মাসে তিনি কংগ্রেস ছেড়ে ফের তৃণমূলে যোগ দেন। এরপর ২০১১, ২০১৬ এবং ২০২১-এর নির্বাচনে বালিগঞ্জন আসন থেকে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হন। এরমধ্যে অবশ্য ২০১৯-এ ফের বাঁকুড়া থেকে তঋণমূলের টিকিটে লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান বিজেপির প্রার্থীর কাছে।

মুকুল রায়কে নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী
মুকুল রায়ের বিধায়ক পদ যাতে খারিজ করা হয়, তার জন্য ইতিমধ্যেই বিধানসভার অধ্যের কাছে আবেদন করেছেন বিরোধী দলনেতা। পাশাপাশি তিনি দাবি করেছেন, সময় নষ্ট না করে তাঁর বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রয়োগ করা উচিত। বিজেপির প্রতীকে জয়লাভ করে তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। এই কাজাই সত্য প্রমাণ করার পক্ষে যথেষ্ট, বলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। ১৬ জুলাই বিষয়টি নিয়ে শুনানিতে ডাকা হয়েছে, সেখানেই তিনি তথ্য পেশ করবেন বলে জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা।












Click it and Unblock the Notifications