• search

পিছনের সারিতেই রয়ে গেলেন ‘চানক্য’! পাশাপাশি মমতা-মুকুল, তবু যেন কত দূর

  • By Sanjay Ghoshal
Subscribe to Oneindia News
For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    তৃণমূলের 'চানক্য' কি এবার দলে গুরুত্ব হারিয়ে শত্রু-শিবিরে নাম লেখাতে চলেছেন? নাকি নয়া দল গড়ে তৃণমূল ও বিজেপিকে এক যোগে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার ছক কষছেন? তা নিয়ে জল্পনা আর বিতর্কের অবসান হয়নি এখনও। এমতাবস্থায় মুকুল রায়কে নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পূর্ব মেদিনীপুরে দলীয় সভায় গেলেও উভয়ের দূরত্ব আর ঘুচল কই! মুকুল রায় সেই রয়ে গেলেন পিছনের সারিতেই। বরং মুকুল-নাটকের ইতি যে এখনই ঘটছে না সেই ইঙ্গিত ফের মিলল এদিন।

    ভারত ছাড়়ো আন্দোলনের ৭৫ বছর পূর্তির দিন থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস ডাক দিয়েছিল 'বিজেপি দিল্লি ছাড়ো' কর্মসূচির। সেই উপলক্ষে তৃণমূলের সমাবেশে মূল বক্তা ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই অনুষ্ঠানের মমতা বন্দ্যেপাধ্যায়ের সফরসঙ্গী হয়েছিলেন মুকুল রায়। দ্বিতীয় বক্তা হিসেবে মাইক্রোফোন হাতে পেলেও জল্পনা থামাতে পারলেন না।

    পিছনের সারিতেই রয়ে গেলেন তৃণমূলের ‘চানক্য’!

    রাজনৈতিক মহলের একাংশের অভিমত, বর্তমান মুকুলকে নিয়ে চলা বিতর্কের ইতি ঘটাতে তাঁকে নিয়ে সমাবেশে আসা মমতার একটা চাল। মমতা-মুকুলের সম্পর্কে যে আদৌ চিড় ধরেনি, তা বোঝাতেই মুকুলকে নিয়ে আসা হয় পূর্ব মেদিনীপুর সফরে। কিন্তু উভয়ের সম্পর্কের শীতলতা কী দূর হল?

    সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে রাজনৈতিক মহল। আগের সেই মমতা-মুকুল রসায়ন এদিন চোখে পড়েনি। কোথায় যেন তার কেটে গিয়েছে। ফলে সবই হচ্ছে- কিন্তু থেকে যাচ্ছে বিস্তর ফাঁক। মুকুল এলেন, মমতার পাশেও বসলেন। মাইক্রোফোন হাতে বাণী দিলেন। আবার মমতাকে পাশে নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণও শানালেন! তবু দূরত্ব ঘুচল না। সবই যেন হল বিতর্ক থামাতেই। মুকুলের সেই মেজাজ ফিরল কই!

    এদিন মমতার পাশে বসে মুকুল রায় বলেন, 'দেশকে দুর্দশার মধ্যে ফেলে দিচ্ছে বিজেপি। তাই ভারত থেকে বিজেপিকে বিদায় দেওয়ার দিন এসে গিয়েছে। ২০১৯-এ বিজেপি আর ক্ষমতায় ফিরবে না।' মমতাকে পাশে বসিয়ে বিজেপিকে বার্তা দিতে চাইলেন ঠিকই, কিন্তু দোষের মধ্যে উধা্ও আগের সেই ঝাঁঝ।

    মমতা-মুকুল-পার্থ

    একুশে জুলাইয়ের সমাবেশে অভিষেকের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গেই মুকুল রায়কে নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন উঠে পড়েছিল। তারপর ত্রিপুরার দায়িত্ব থেকে মুকুলকে সরিয়ে দেওয়া সেই আগুন ঘি দেয়। তৃণমূলের তাঁর গুরুত্ব হারানোর ছবিটা ক্রমশই প্রকট হতে শুরু করে। এমনকী যাঁকে হাতে ধরে রাজনীতির অ-আ, ক-খ শিখিয়েছিলেন, সেই অভিষেকও তাকে হেয় করতে ছাড়েননি।

    এরই মধ্যে অভিষেকের গায়ে কমিশনগেটের কালি ছিটায়। তার পিছনে অনেকে মুকুল রায়ের হাত থাকতে পারে বলে মনে করছিলেন। তারপরই সেই স্বাভাবিক প্রশ্নটা উঠেই পড়ে। তবে কি মুকুল নয়া দল গড়তে চলেছেন? নাকি তার তরী এবার জোড়া ফুলের তীর ছেড়ে পাড়ি দেবে পদ্ম শিবিরে?

    এ প্রশ্ন নিয়ে রাজ্য রাজনীতি যখন তোলপাড়, তখন মুকুলের নীরবতা আরও জল্পনা বাড়িয়ে দেয়। বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও ঝোপ বুঝে কোপটা মেরে দেন। মুকুল রায়কে নিয়ে দিলীপ ঘোষ মুখ খোলায় জল্পনার পারদ আরও চড়তে থাকে। তিনি বলেন, শুধু মুকুল রায় নন, আরও অনেক নেতাই বিজেপি আসার জন্য লাইন দিয়ে রয়েছেন।

    এরই মধ্যে রটে যায় দিল্লিতে গিয়ে অরুণ জেটলি ও অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করে এসেছেন মুকুল রায়। এরপরই মুকুল রায় মুখ খুলে জানান, 'তিনি তৃণমূলেই রয়েছেন। তিনি টেস্ট ক্রিকেটই পছন্দ করেন। দীর্ঘ ইনিংস খেলতে গেলে সবসময় মারকুটে ইনিংস খেলা যায় না। ধৈর্ষ ধরে ক্রিজে পড়ে থাকতে হয়। সেই কাজটাই করছেন তিনি।'

    তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, 'তৃণমূল সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে জোটবদ্ধ হয়ে লড়ছে। এখানে কোনও বিভাজন নেই। বাংলার মানুষের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া দ্বিতীয় কোনও নামের গ্রহণযোগ্যতা নেই। তাই তাঁর নেতৃত্বে আমরা সবাই একযোগে লড়ছি।'

    এরপর এদিন মমতার পাশে বসে সেই একতার ইঙ্গিত দিলেন মুকুল। তবু পরিস্থিতি অনেক জল্পনার জন্ম দিয়ে গেল। পুরোপুরি বিতর্কের অবসান হল না। বরং মুকুল রায় যে তৃণমূলে পিছনের সারিতেই এখনও রয়ে গিয়েছেন সে কথাই প্রকট হল নতুন করে। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে এর উত্তর মিলবে।

    English summary
    Mukul Roy remains in back row, far distance with Mamata Banerjee.

    Oneindia - এর ব্রেকিং নিউজের জন্য
    সারাদিন ব্যাপী চটজলদি নিউজ আপডেট পান.

    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Oneindia sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Oneindia website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more