জলের উপর দিয়ে হাঁটবে মানুষ, দুর্গাপুজোয় এবার তাক লাগাতে কোমর বেঁধে নামল এলাচি মিলন সংঘ

ভয়ঙ্কর বন্যায় কাঁপছে কেরল। ১০০ বছরে নাকি এমন বন্যা দেখেনি দক্ষিণের এই রাজ্য। প্রকৃতির রোষে চারিদিকে হাহাকার। শুধু কেরল নয় বিশ্বজুড়ে গত এক দশকে প্রকৃতির খাম-খেয়ালিপনা বারবার আলোচনায় স্থান করে নিচ্ছে।

ভয়ঙ্কর বন্যায় কাঁপছে কেরল। ১০০ বছরে নাকি এমন বন্যা দেখেনি দক্ষিণের এই রাজ্য। প্রকৃতির রোষে চারিদিকে হাহাকার। শুধু কেরল নয় বিশ্বজুড়ে গত এক দশকে প্রকৃতির খাম-খেয়ালিপনা বারবার আলোচনায় স্থান করে নিচ্ছে। কেন বদলে যাচ্ছে প্রকৃতি। কেন চেনা ঋতুগুলো তাঁদের চরিত্রগুলো বদলে নিচ্ছে। এর পিছনে যে রয়েছে বিশ্ব উষ্ণায়ন তা সকলেই জানেন। কিন্তু, বিশ্ব উষ্ণায়নকে কী ভাবে নিয়ন্ত্রে আনা যায়। সেই বক্তব্যেকে হাতিয়ার করে এবার দুর্গাপুজোয় তাদের থিম-কে সাজাচ্ছে রামচন্দ্রপুর এলাচি-র এলাচি মিলন সংঘ।

দুর্গাপুজোর কাউন্ট-ডাউনে নেমে পড়ল এই পুজো কমিটি

১৯ অগাস্ট এই থিমকে অবলম্বন করেই দুর্গাপুজোর কাউন্ট ডাউন-এ নেমে পড়েছে এলাচি মিলন সংঘ। নরেন্দ্রপুরের রামচন্দ্রপুরের এলাচি-র এই পুজো কমিটি এবার ৭২ বছরে পা রেখেছে। গত কয়েক বছর ধরেই নানান থিমে দুর্গাপুজো করছে এরা। মণ্ডপ সজ্জার ভাবনা থেকে প্রতিমা সকলেরই নজর টেনেছে এলাচি মিলন সংঘ। গত কয়েক বছর ধরে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সেরা পুজোর তালিকায় প্রথম তিন জনের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে তারা। এমনকী, গত বছর কলকাতার পুজোর সঙ্গে পাল্লা দিয়েও সেই বিভাগে সম্মানিত হয়েছে তারা। এবারের বিষয় ভাবনাও সাধারণ মানুষের নজর টানবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্ব উষ্ণায়ন-কে যেমন আধার করে এবার দুর্গাপুজোর ভাবনাকে সাজিয়েছে এলাচি মিলন সংঘ। তেমনি চমক থাকছে। মণ্ডপে-র মধ্যে থাকছে একটা আস্ত জলাশয়। যার উপর দিয়ে হেঁটে প্রতিমা দর্শন করবেন সাধারণ মানুষ। কিন্তু কীভাবে এই ভাবনাকে রূপায়ণ করা হবে তা এখনই খোলসা করতে রাজি নন পুজো কমিটির সদস্যরা। কারণ, তাহলে তো পুজোর মজাটাই মাটি হয়ে যাবে।

রবিবার ক্লাব প্রাঙ্গণে এই উপলক্ষ্যে খুঁটি পুজোর আয়োজন করা হয়েছিল। যেখানে উপস্থিত ছিলেন সোনারপুর উত্তরের বিধায়িকা ফিরদৌসি বেগম। ছিলেন রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার চেয়ারম্যান ডক্টর পল্লব দাস। এছাড়াও স্থানীয় কাউন্সিলর টুম্পা দাস ছাড়াও বেশকিছু গণমান্য ব্যক্তিও ছিলেন এই খুঁটি পুজোর অনুষ্ঠানে।

খুঁটি পুজোর এই অনুষ্ঠান ঘিরে ক্লাবের সদস্য এবং এলাচি-র সাধারণ মানুষের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছিল এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। যাতে অংশ নিয়েছিল ক্লাব লাগোয়া এলাকার বিভিন্ন বয়সের ছেলে-মেয়েরা। এই দলে যেমন ছিল ছোট-ছোট ছেলে-মেয়েদের দল, তেমনি ছিলেন কলেজ পড়ুয়া থেকে গৃহবধূ, চাকুরিজীবি মহিলা ও পুরুষরা। এই সংস্কৃতি অনুষ্ঠানের অবশ্য সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল মহিসাসুর-মর্দিনী-র নাট্য রূপান্তর। যাতে অংশ নিয়েছিলেন এলাকার বাসিন্দারা।

আসলে এলাচি মিলন সংঘ-এর পুজোর মূল শক্তি হল এর পাড়া সংস্কৃতি। যার জেরে খুঁটি পুজোকে ঘিরেও ক্লাব প্রাঙ্গণে উপচে পড়েছিল ভিড়। এই পুজো যে শুধু ক্লাবের পুজো নয় একটা পাড়ার পুজো তা বারবার দেখিয়ে এসেছেন এখানকার মানুষ। এমনটাই বক্তব্য এলাচি মিলন সংঘ পুজা কমিটির সম্পাদক সঞ্জয় সেনগুপ্ত। পুজো কমিটির সভাপতি বিজন দাসও জানান, বিষয়-ভাবনা আর প্রতিমায় এই ক্লাব এখন কলকাতার সেরা পুজোগুলোর সঙ্গেও পাল্লা দিতে পারে।

এলাচি মিলন সংঘ থেকে ওয়ান ইন্ডিয়ার ফেসবুক লাাইভ, মুখোমুখি বিধায়িকা ফিরদৌসি বেগম, স্থানীয় পুরপিতা পল্লব দাস এবং পুজোর কমিটির কর্তারা-

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি বিধায়িকা ফিরদৌসি বেগমও জানান, এই পুজোর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য সাধারণ মানুষের ভিড়। প্রত্যেক বছর প্রচুর মানুষ এই ক্লাবের পুজো দর্শন করতে আসেন। এবারও এলাচি মিলন সংঘ দুর্গাপুজোর তাদের গৌরবকে আরও বাড়িয়ে তুলতে সক্ষম বলে মনে করছে ফিরদৌসি বেগম। রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার চেয়ারম্যান ডক্টর পল্লব দাস-ও জানান, এলাচি মিলন সংঘ এবারও তাদের সৃষ্টিশীলতায় সেরা পুজোগুলোর মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠবে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+