ঘরের মেয়ের উপরেই ভরসা রাখল ভবানীপুর: সব ওয়ার্ডে জেতার পরেই মন ভরে গিয়েছে বললেন মমতা
বাংলার মেয়ে মমতার উপরে আগেই আস্থা রেখেছে মানুষ! এবার ঘরের মেয়ের উপর আস্থা রাখল ভবানীপুর। মজবুত হল রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের কুর্সি। তবে ভবানীপুরে এবার বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয় সমস্ত রেকর্ডকে ভেঙে দিয়েছেন।
বাংলার মেয়ে মমতার উপরে আগেই আস্থা রেখেছে মানুষ! এবার ঘরের মেয়ের উপর আস্থা রাখল ভবানীপুর। মজবুত হল রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের কুর্সি। তবে ভবানীপুরে এবার বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয় সমস্ত রেকর্ডকে ভেঙে দিয়েছেন।
একেবারে রেকর্ড ব্যবধানে জয় তাঁর। আর এই জয়ের খবর শোনার পরেই বাড়ি থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন। একেবারে সপরিবারে বাইরে আসেন।
কথা বলেন তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে। তবে এদিনের জয়ে যে তিনি খুশি তা রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের শারীরিক ভাষাতে প্রকাশ পায়। যদিও তাঁর বক্তব্যেও সেই অভিব্যক্তি ধরা পড়ে।

এই প্রথম কোনও ওয়ার্ডে আমরা হারেনি
জয়ের খবর সামনে আসার পরেই কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কর্মীদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়তে থাকে। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, এই ফলাফলের জন্যে সাধারণ মানুষকে ধন্যবাদ জানান তিনি। শুধু তাই নয়, সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বলেন, ভবানীপুরে এমন ভোট হয়। এখানে মানুষ অনেক কম থাকেন। তবে এই প্রথম কোনও ওয়ার্ডে আমরা হারেনি। ২০১৬ সালেও আমি একটি দুটি ওয়ার্ডে ভোট কম পেয়েছিলাম। এবার একটি ওয়ার্ডেও ভোট কম পাইনি। কিন্তু এবার সবাই ভোট দিয়েছে। মন ভরে গিয়েছে আমার। সাংবাদিক বৈঠকে বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
এদিন ফের একবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় চক্রান্তের কথা উঠে আসে। নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তবে মামলা বিচারাধীন থাকায় বিশেষ কিছু বলতে চাননি তিনি। তবে সাধারণ মানুষ তাঁর উপর ভরসা রাখায় কাজ করার জন্যেও আরও উদ্যোম পাওয়া যাবে বলে জানান নেত্রী।

মানুষকে ধন্যবাদ
ধু তাই নয়, এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা সর্বধর্মের কথা উঠে আসে। তিনি বলেন, ভিবানীপুর খুব ছট জায়গা। এমনই পোলিং হয়। তবে এই এলাকাতে একটা বিশাল অংশের মানুষ অবাঙ্গালি বলে দাবি করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এবার তারাও ভোট দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। গোটা রাজ্যের মানুষের নজর ছিল এই কেন্দ্রের উপর। তবে এই রায়ের জন্যে বাংলার মা মাটি মানুষকে আরও একবার ধন্যবাদ জানান তিনি।

ভবানীপুরের সব ওয়ার্ডেই জয় মমতার
এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরের সব ওয়ার্ড থেকেই জয় পেয়েছে। কলকাতা পুরসভার আটটি ওয়ার্ড রয়েছে ভবানীপুর কেন্দ্রের মধ্যে। ওয়ার্ডগুলি হল ৬৩, ৭৭, ৭৪, ৭১, ৭০, ৭২, ৭৩ এবং ৮২। ভবানীপুরের ভোটারদের মধ্যে ৪২ শতাংশ বাঙালি হিন্দু, ৩৪ শতাংশ অবাঙালি হিন্দু এবং ২৪ শতাংশ মুসলিম। গত দুই লোকসভা ভোট ২০১৪ এবং ২০১৯-এ এই ওয়ার্ডে বিজেপি লিড নিলেও ২০১৬ এবং ২০২১-এ তৃণমূল এগিয়ে ছিল এই ওয়ার্ডে। মুসলিম অধ্যুষিত ৭৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে তৃণমূল বরাবর জয়ী হয়ে এসেছে। ৭৪ নম্বর ওয়ার্ড বরাবর বিজেপির দিকে ঝুঁকে থাকলেও এবার কিন্তু তৃণমূলের দিকেই হেলে গিয়েছে। ৭১ নম্বর ওয়ার্ডে কোনও ভোটে বিজেপি, কোনও ভোটে তৃণমূল এগিয়ে থাকে। ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে এই ওয়ার্ডে তৃণমূল এগিয়ে ছিল। এবারও এগিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে অবাঙালি অধ্যুষিত এবং বিজেপি এই ওয়ার্ডে বরাবর এগিয়ে থাকলেও এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ওয়ার্ড থেকে এগিয়ে। ৭২ নম্বর ওয়ার্ডে কখনও বিজেপি কখনও তৃণমূল এগিয়ে থাকে, তবে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এগিয়ে থেকেছেন এই ওয়ার্ড থেকে। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনকে বাদ দিয়ে ৭৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে তৃণমূল বরাবর এগিয়ে থেকেছে। ৮২ নম্বর ওয়ার্ডেও তৃণমূল বরাবর এগিয়ে থাকে যেমনটি এবারেও হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications