মমতার লক্ষ্যে জঙ্গলমহলের কুর্মি ভোট, ২০২১-এ বিজেপিকে হারানোর পরিকল্পনা তৈরি
বাংলার জঙ্গলমহলের হারানো ভোটব্যাঙ্ক ফিরে পেতে মরিয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভার আগে পর্যন্ত যে কুর্মি ভোট তৃণমূলের ভোটবাক্সে ছিল, লোকসভার পরে সেখানে আড়াআড়ি বিভাজন হয়ে গিয়েছে।
বাংলার জঙ্গলমহলের হারানো ভোটব্যাঙ্ক ফিরে পেতে মরিয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভার আগে পর্যন্ত যে কুর্মি ভোট তৃণমূলের ভোটবাক্সে ছিল, লোকসভার পরে সেখানে আড়াআড়ি বিভাজন হয়ে গিয়েছে। জঙ্গলমহলে কুর্মি এবং উপজাতিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। সেখানেই ফের থাবা বসাতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২১-এর আগে এই ভোটই ফের পালাবাদল ঘটাতে পারে।

মাহাতো ভোট-ব্যাঙ্ক সুরক্ষিত করার প্রয়াস
বিজেপি জঙ্গলমহলে চারটি লোকসভা আসন পেয়ে জাঁকিয়ে বসেছে। মাহাতোদের সমন্বয়ে গঠিত কুর্মি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করেই এখন দুই শিবিরে চাপানউতোর চলছে। মাহাতো ভোট-ব্যাঙ্ক সুরক্ষিত করার প্রয়াস চালাচ্ছে শাসকদল। জঙ্গলমহলে লালগড় আন্দোলনের জনপ্রিয় মুখ ছত্রধর মাহাতোকে সামনে রেখেই তৃণমূল চাইছে কুর্মি ভোট ফিরে পেতে।

২০২১-এর আগে মাহাতো ভোটে পাখির চোখ
জঙ্গলমহলে মোট ভোটারের ৩৫ শতাংশেরও বেশি ভোট তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বিজেপি দিকে ঘুরে গিয়েছে। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে ঝাড়খণ্ডে এই প্রভাব লক্ষ্য করা গিয়েছে। ২০১৯ সালের নির্বাচনে এই ভোটব্যাঙ্কের বাজিমাত করেছিল বিজেপি। বিজেপির পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন মাহাতো এবং আদিবাসীরা।

কুর্মিদের উপর প্রভাব ফেরাতে বদ্ধপরিকর মমতা
সেই মাহাতো ও আদিবাসীদের রাজনৈতিক আনুগত্য ফিরিয়ে ২০২১-এ বিধানসভা নির্বাচনের আগে স্বমহিমায় ফেরাই উদ্দেশ্য। ঝাড়গ্রাম, মেদিনীপুর, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া জেলার কুর্মিদের উপর প্রভাব রয়েছে অল ঝাড়খণ্ড ছাত্র ইউনিয়ন বা এজেএসইউ-এর। বিশেষ করে মাহাতো সম্প্রদায়ের সমর্থকদের নিয়েই তৈরি এজেএসইউ।

এজেএসইউয়ের সঙ্গে বিজেপির জোট ভঙ্গ
এজেএসইউয়ের সঙ্গে বিজেপির জোট ভেঙে গিয়েছে ঝাড়খণ্ডে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে বদ্ধপরিকর বাংলার তৃণমূল। এজেএসইউয়ের রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তন বাংলার পারিপার্শ্বিক অঞ্চলে প্রভাব ফেলবে এবং মাহাতো ভোটারদের একটি বড় অংশ বিজেপি থেকে তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরবে বলে আশাবাদী দলীয় নেতৃত্ব।

বঙ্গ বিজেপির বার্তা, পরিকল্পনা সফল হবে না
বঙ্গ বিজেপি অবশ্য মনে করছে ঝাড়খণ্ড নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তাদের কোনও মাথাব্যথা নেই। এজেএসইউয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হলেও বাংলার ভোটে কোনও প্রভাব পড়বে না। এজেএসইউয়ের সঙ্গে ঝাড়খণ্ডে সম্পর্ক না থাকলেও দলীয় সভাপতি সুদেশ মাহাতোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছি আমরা। বিজেপির কথায়, মাহাতো ভোটকে তাদের পক্ষে আনার পরিকল্পনা সফল হবে না তৃণমূলের।












Click it and Unblock the Notifications