কুটকৌশলে গুরুংকে মাত দিয়ে বার্তা বিজেপিকেও, পাহাড়ে যুদ্ধ-জয়ী মমতা

Subscribe to Oneindia News
For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    ক্ষমতায় এসেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাহাড় ও জঙ্গলমহলে শান্তি ফেরানোর উপর জোর দিয়েছিলেন। একেবারেই পরিকল্পনাপ্রসূত শান্তি ফিরিয়েছিলেন পাহাড়ে। তারপরই বলেছিলেন তাঁর আমলে পাহাড় হাসছে। কিন্তু সেই পাহাড়ের হাসিই পাঁচ বছরের মধ্যে বদলে গেল কান্নায়। আশান্তির সূত্রপাত হল দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর। বাংলা ভাষা আবশ্যিক করতে গিয়েই বিপত্তি বাধল। পাহাড়ে বেধে গেল জাতিদ্বন্দ্ব। ফের গোর্খ্যাল্যান্ডের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠল হাসিমুখী পাহাড়।

    নয় নয় করে পাহাড়ের সেই অশান্তি ১০০ দিন পূর্ণ হয়ে গিয়েছিল। তারপর মমতার রাজনৈতিক কুট-কৌশলে কিস্তিমাত হলেন বিমল গুরুং। শুধু ধৈর্য আর বুদ্ধি দিয়ে মোর্চা সুপ্রিমো বিমল গুরুংকে পাহাড় ছাড়া করে পাহাড়-যুদ্ধ জিতে নিলেন মমতা। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের প্রমাণ করে ছাড়লেন তিনি রাজনৈতিক কূট-কৌশলে বিশেষ পারদর্শী হয়ে উঠেছেন। তা না হলে পাহাড়ের স্বঘোষিত 'মুখ্যমন্ত্রী'কে এভাবে পাহাড় ছাড়া করতে পারতেন না। আর পাহাড়ে মোর্চার দোসর বিজেপিকেও দমিয়ে রাখতে পারতেন না।

    পাহাড়-যুদ্ধে গোহারা গুরুং

    পাহাড়-যুদ্ধে গোহারা গুরুং

    নিরূপায় হয়ে শেষপর্যন্ত মোর্চার বনধ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হল ২৭ সেপ্টেম্বর। মমতার কাছে পাহাড়-যুদ্ধে গোহারা হলেন বিমল গুরুং। পাহাড় বনধ ‘সেঞ্চুরি' পূর্ণ করে ফেলেছিল। টানা সাড়ে তিনমাস ধরে বনধে নাজেহাল পাহাড়বাসীকে একে একে তাঁর দিকে টেনে, মোর্চার নেতৃত্বকে ভেঙে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একঘরে করে দিলেন গুরুংকে। নিজ গৃহে পরবাসী হয়ে গেলেন পাহাড়ের সম্রাট।

    অজ্ঞাতবাসে গুরুং, রাজপাটে তামাং

    অজ্ঞাতবাসে গুরুং, রাজপাটে তামাং

    গুরুংকে হারাতে এতটুকু ধৈর্য হারাননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সময় ও সুযোগের জন্য অপেক্ষা করেছেন। আর যখন যে সুযোগ পেয়েছেন, তা কাজে লাগিয়েছেন। সেই সূত্র ধরেই মোর্চাকে ভেঙে খান খান করে দিয়েছেন। গুরুংয়ের ডানহাত বিনয় তামাংকে বসিয়েছেন রাজপাটে। আর বিমল গুরুংয়ের স্থান হয়েছে অজ্ঞাসবাসে।

    নয়া স্ট্র্যাটেজিতেই কিস্তিমাত মমতার

    নয়া স্ট্র্যাটেজিতেই কিস্তিমাত মমতার

    মমতার নয়া স্ট্র্যাটেজিতেই একেবারে ধরাশায়ী হল গুরুং। এখন তাঁর অবস্থা হল অনেকটাই সুভাষ ঘিসিংয়ের মতো। তিনিও একটা সময় পাহাড়ে ঢুকতে পারেননি। এখন বিমল গুরুংও বনধ তুলে নেওয়া সত্ত্বেও পাহাড়ে ঢুকতে পারছেন না। তাঁর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা, খুনের মামলা দায়ের হয়েছে। লুক আউট নোটিশ আর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় তাঁর পাহাড়ে প্রবেশেই বিরাট জিজ্ঞাসা।

    মমতার কাছে হেরে কেন্দ্রের শরণাপন্ন

    মমতার কাছে হেরে কেন্দ্রের শরণাপন্ন

    পরিস্থিতি যা মমতার কাছে হার স্বীকার করা ছাড়া গতি নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর প্রশাসনের কৃপাদৃষ্টি পেলেই তিনি পাহাড়ে ফিরতে পারবেন। কিন্তু আষ্টেপৃষ্টে বাঁধা পড়ে তিনি ভাঙলেও মচকাবেন না। তাই এবার কেন্দ্রের শরণাপন্ন হয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হয়ে বাঁচতে চাইছেন। কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা ফিরে পাওয়া এখন দূর অস্ত বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

    পাহাড়ের ক্ষমতা মমতার মুঠোয়

    পাহাড়ের ক্ষমতা মমতার মুঠোয়

    রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পাহাড়ের শাসন তাঁর হাতে রাখার জন্য মমতা আসল চালটি দেন নবান্নে সর্বদলীয় বৈঠকে। তার আগে পরিকল্পনামাফিক বিমল গুরুংকে কোণঠাসা করে দিয়েছেন। গুরুংয়ের ডান হাত বিনয় তামাং এবং অনীত থাপাকে নিজের অধীনে নিয়ে এসে গুরুংয়ের কফিনে শেষ পেরেকটি পুতে দিয়েছেন। আর তাতেই শেষ গুরুং। পাহাড়ে জিটিএকে সক্রিয় করে বোর্ডের মাথায় বসিয়েছেন বিদ্রোহী মোর্চা নেতা বিনয় তামাংকে। ফের স্বাভাবিক হয়েছে পাহাড়।

    ভাষা আন্দোলন বদলে গেল পাহাড়ে বনধে

    ভাষা আন্দোলন বদলে গেল পাহাড়ে বনধে

    পাহাড়ে ঘাসফুল ফোটানোর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথম পাহাড়ে পা রেখেই বাংলা ভাষা আবশ্যিক করার ডাক দিয়েছিলেন। তারপরই জোরদার আন্দোলন শুরু করে মোর্চা। পাহাড়ে মমতার মন্ত্রিসভার বৈঠক চলাকালীন তাণ্ডব চালায় মোর্চা কর্মী-সমর্থকরা। বিমল গুরুংয়ের নেতৃত্বে মোর্চা পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধে সামিল হয়। তারপর একের পর এক সরকারি সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে। পাহাড়ে হিংসায় অনেক রক্ত ঝরেছে, অকালে হারিয়ে গিয়েছে প্রাণ। শেষমেশ এক পুলিশ অফিসারকেও প্রাণ দিতে হয়েছে। তারপর আপাত শান্তি। পাহাড়কে ফের পর্যটনমুখর করতে এখন তৎপরতা শুরু করেছে মমতার সরকার।

    English summary
    Mamata Banerjee gives message also BJP to checkmate to Bimal Gurung in hill battle.

    Oneindia - এর ব্রেকিং নিউজের জন্য
    সারাদিন ব্যাপী চটজলদি নিউজ আপডেট পান.

    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Oneindia sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Oneindia website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more