শুভেন্দু বিঁধলেন 'মিথ্যাশ্রী' মমতা, কুণালের পাল্টা খোঁচায় শিশির-প্রসঙ্গ! ত্রিপুরায় ঝগড়া যখন বাংলায়
মমতাকে মিথ্যাশ্রী দেওয়ার দাবি তুললেন শুভেন্দু, পাল্টা যে খোঁচা দিলেন কুণাল ঘোষ
ত্রিপুরাকে কেন্দ্র করে বাংলার রাজ্য রাজনীতি উত্তাল। ২০২১৪ লোকসভ নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেস ২০২৩-এ ত্রিপুরা দখলের পরিকল্পনা নিয়ে এগনোর চেষ্টা করতেই সপ্তাহভর সরগরম হয়েছিল ত্রিপুরার রাজনীতি। তার রেশ এখনও রয়েছছে বাংলায়। তৃণমূল বনাম বিজেপির চাপানউতোর লেগেই রয়েছে। শুভেন্দু বনাম কুণাল টুইট যুদ্ধে মেতেছেন।

বিজেপি ও তৃণমূলের সংঘাত ত্রিপুরা নিয়ে
ত্রিপুরার মাটিতে দেবাংশু ভট্টাচার্য, সুদীপ রাহা, জয়া দত্ত-সহ ১৪ জন তৃণমূল নেতা গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই বিজেপি ও তৃণমূলের সংঘাত শুরু হয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের তিন সদস্য কুণাল ঘোষ, ব্রাত্য বসু, দোলা সেন তাঁদের মুক্ত করে কলকাতায় ফেরেন। সুদীপ ও জয়াকে ভর্তি করা হয় এসএসকেএম হাসপাতালে।

কাউকে এক গ্লাস জলও দেয়নি, অভিযোগ মমতার
হাসপাতালে সুদীপ-জয়াকে দেখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, ৩৬ ঘণ্টা তাঁদের এক ফোঁটা জল দেওয়াো হয়নি। লক আপে ছিল, থানায় ছিল, কাউকে এক গ্লাস জলও দেয়নি। ত্রিপুরায় বিপ্লব দেবের নেতৃত্বধীন বিজেপি সরকারকে নিশানা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিশানা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অঙ্গুলিহেলনেই এইসব ঘটেছে।

মমতাকে মিথ্যাশ্রী দেওয়া হোক, কটাক্ষ শুভেন্দুর
এরপর শুভেন্দু অধিকারী পাল্টা একটি ভিডিও টুইট করেন। সেই ভিডিও-য় দেখা যায়, গ্রেফতার হওয়া দেবাংশু-সুদীপ-জয়াদের জল দেওয়া হচ্ছে এবং সেই জল পান করছেন তৃণমূল নেত্রী জয়া দত্ত। এরপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে টুইটে নিশানা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি লেখেন- ওনাকে মিথ্যাশ্রী দেওয়া হোক।
|
শুভেন্দুর টুইটের প্রত্যুত্তরে জবাব কুণালের
শুভেন্দুর ওই টুইটের জবাব দিতে কসুর করেনি তৃণমূল। তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ পাল্টা টুইট করেন। তিনি তাঁর টুইটে প্রত্যুত্তর দেন, জল আমাদের কর্মীরা এনে দিয়েছে। সেই জল খেয়েছে আমাদের যুব নেতা-নেত্রীরা। সুদীপ আর জয়ার আঘাতের চিকিৎসা না করে গ্রেফতার পর রুটিন প্রেসার দেখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন কুণাল ঘোষ।
|
শিশিরদা এখন কোন দলে ভাবা কি শেষ হল? কটাক্ষ
এরপর শুভেন্দু অধিকারীকে কটাক্ষ করে কুণাল ঘোষ লেখেন দলবদলু আগে বলুক ২০১৪-তে বিজেপি ১৬-৮ খেলার জন্য পালন করলেও, ও কেন এখন খেলা দিবসের বিরোধিতা করছে। এখানেই শেষ নয়, শুভেন্দুর পিতৃদেব শিশির অধিকারীকেও নিয়েও কটাক্ষ করেন কুণাল। লেখেন, শিশিরদা এখন কোন দলে ভাবা কি শেষ হল?

বিজেপির কাছ থেকে ত্রিপুরা ছিনিয়ে নিতে মরিয়া তৃণমূল
মোট কথা, ত্রিপুরা রাজনীতির আঁচ এখন ছড়িয়ে পড়ছে বাংলাতে। তৃণমূল ২০২৩-এর নির্বাচনে বিজেপির কাছ থেকে ত্রিপুরা ছিনিয়ে নিতে মরিয়া। সেইমতোই ঘূঁটি সাজানো হচ্ছে। প্রশান্ত কিশোরের দলকে দিয়ে সমীক্ষা করানো থেকে শুরু করে ত্রিপুরায় আন্দোলন জারি রাখতে বদ্ধপরিকর তৃণমূল কংগ্রেস। তেমনই কর্মসূচি রূপায়ণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জয়ের ব্যাপারে বার্তা দিতেই তৃণমূলের নয়া স্লোগান
বাংলা জয় করার পর ত্রিপুরায় পা দিয়ে তৃণমূল তৈরি করেছিল নতুন স্লোগান- 'এবার ত্রিপুরা'। মাত্র সাতদিনেই সেই স্লোগান বদলে গিয়েছে। ফের আর এক নতুন স্লোগান সামনে এনেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এক সপ্তাহের মধ্যে বদলে যাওয়া নয়া স্লোগান হল- 'জিতবে ত্রিপুরা'। রাজনৈতিক মহল মনে করছে- তৃণমূল তাঁদের জয়ের ব্যাপারে প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসী। সেই বার্তা দিতেই এই নয়া স্লোগান রচনা করা হল।

মিশন ত্রিপুরায় নতুন স্লোগান ‘জিতবে ত্রিপুরা’
নতুন স্লোগান 'জিতবে ত্রিপুরা' প্রসঙ্গে তৃণমূলের মুখপাত্র তথা রাজ্য সম্পাদর কুণাল ঘোষ বলেন, আমাদের স্লোগান ছিল এবার ত্রিপুরা। সেটা ছিল মিশন। সেই মিশনে নেমে আমরা যে সাড়া পেয়েছি, তাতে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে যে, আমরা ত্রিপুরা জয়ের দিকে এগিয়ে চলেছি। তাই আমরা স্লোগান পরিবর্তন করেছি। নতুন স্লোগান হয়েছে- 'জিতবে ত্রিপুরা'।

ত্রিপুরার মানুষ জিতবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে
'জিতবে ত্রিপুরা' স্লোগানও থাকবে না চিরাচরিত। এই স্লোগানও বদলে যাবে। সেই স্লোগান অচিরেই বদলে হবে 'জিতেছে ত্রিপুরা'। তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ এ জন্য দেড় বছর সময় নিয়েছেন। তারপরই দেখা যাবে 'জিতবে ত্রিপুরা' স্লোগান বদলে গিয়ে হয়েছে 'জিতেছে ত্রিপুরা'। আসলে, আমরা বোঝাতে চাইছি, আমরা এসেছি ত্রিপুরার মানুষকে জেতাতে। ত্রিপুরার মানুষ জিতবেন, তা আমাদের বিশ্বাস। ত্রিপুরার মানুষ জিতবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে।

আইনি যুদ্ধে জিতে ‘জিতবে ত্রিপুরা’র পথ চলা শুরু
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল ভিনরাজ্যে সংগঠন বিস্তারে নেমেছে। প্রথম তারা পাখির চোখ করছে বাংলাভাষী রাজ্য ত্রিপুরাকে। আর ত্রিপুরায় পা রেখেই বিজেপির প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয় তৃণমূলকে। সই প্রতিরোধের জেরে আক্রান্ত হওয়ার পর দেবাংশু ভট্টাচার্য, সুদীপ রাহা, জয়া দত্তদের গ্রেফতার পর্যন্ত করা হয়। শেষে আইনি যুদ্ধে জিতে ত্রিপুরা অভিযান শুরু করে তৃণমূল। শুরু হয় 'জিতবে ত্রিপুরা'র পথ চলা।












Click it and Unblock the Notifications