Kharagpur: খড়্গপুরে বৃদ্ধকে রাস্তায় ফেলে মার, তৃণমূলনেত্রী বেবির বেয়াদপিতে লজ্জায় নেতৃত্ব, শোকজ করল দল
ফের বিপাকে তৃণমূল কংগ্রেস। সৌজন্য জেলার এক স্থানীয় তৃণমূল নেত্রী। সম্প্রতি পানিহাটি পুরসভার এক তৃণমূল পুরমাতা রাস্তায় মেয়ের বয়সী এক যুবতীর সঙ্গে চুলোচুলি করে দলকে লজ্জায় ফেলেছিলেন। আর এদিন পশ্চিম মেদিনীপুরের তৃণমূল নেত্রী বেবি কোলে ভয়ঙ্কর মারধরের ঘটনায় লজ্জায় মুখ লুকোনোর জায়গা পাচ্ছেন না স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। বেবির বিরুদ্ধে স্থানীয় এক বিরোধী দল করা নেতা তথা স্থানীয় বয়স্ক মানুষকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ভরা রাস্তায় তিনি বয়স্ক ওই ব্যক্তিকে মারধর করছেন। সেই ভিডিও ভাইরা হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। এবং দলের নেত্রীর এই কাণ্ড দেবে অবিলম্বে শোকজ করা হয়েছে তৃণমূলের তরফে।
অভিযোগ, এদিন সকালে খড়্গপুরে ব্যস্ত রাস্তার উপরে সিপিএমের স্থানীয় এক প্রবীণ নেতাকে বেধড়ক মারধর করেছেন স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী বেবি কোলে। দেখা গিয়েছে, তৃণমূলের ওই নেত্রী প্রকাশ্য রাস্তায় প্রাক্তন ওই সিপিএম নেতাকে ফেলে কিল, চড়, ঘুষি মারেন এবং এমনকী জুতোপেটাও করেন। শুধু তাই নয়, ওই বৃদ্ধ একটি রংয়ের দোকানে আশ্রয় নিলে সেখানে ঢুকে তাঁর গায়ে রং ঢেলে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।

আশ্চর্যের বিষয়, ঘটনার সময়ে রাস্তায় বহু মানুষ সেখানে উপস্থিত থাকলেও, কেউই ওই বৃদ্ধকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেননি। বরং সকলে মনোনিবেশ করেন ভিডিও বানানোয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, আক্রান্ত বৃদ্ধের নাম অনিল দাস। এলাকায় তিনি ভীম দা নামে পরিচিত। পূর্বে তিনি সিপিএমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, বর্তমানে 'আমরা বামপন্থী, খড়্গপুর' নামে একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। তা কেন মারধর করলেন এই অনিল দাসকে? এই প্রশ্ন শুনে অভিযুক্ত তৃণমূল নেত্রী বেবি কোলে জানিয়েছেন, কয়েকজন মহিলা ভীমদাকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিল। সেই টাকা ফেরত চাইতে গেলে উল্টে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে খারাপ কথা বলেন। এমনকী ওই মহিলাদের ধরে টানাটানি করেন। মুখ্যমন্ত্রীর দিঘা ধামে নিয়ে যাওয়ার কু-ইঙ্গিত দেন। আর এসব শুনেই রাগ সপ্তমে ওঠে বেবির। কাণ্ডজ্ঞান হারিয়ে রাস্তাতেই ফেলে এই অনাচারের প্রতিশোধ নিয়েছেন তিনি।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। খড়্গপুরের তৃণমূল নেতা প্রদীপ দাস এই ঘটনায় অভিযুক্তের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। মার খেয়ে আহত বাম নেতা অনিল দাস ঘটনার পরে খড়্গপুর টাউন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অন্যদিকে অনিলবাবুর দাবি, কয়েকদিন আগে খরিদা এলাকায় তাঁর বাড়ির পাশের এক মহিলার বাড়ির দেওয়াল ভেঙে এবং শৌচাগার বন্ধ করে অত্যাচার চালাচ্ছিলেন বেবি কোলে। এর প্রতিবাদ জানিয়ে ওই মহিলাকে সঙ্গে নিয়ে খড়্গপুর টাউন থানায় যান অনিল দাস। সেখানে বেবি কোলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন দুর্গা সাহু নামে ওই মহিলা। অনিল দাসের অভিযোগ, সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই বেবি কোলে তাঁর উপর চড়াও হন।












Click it and Unblock the Notifications