আগামী বছরে কন্যাশ্রীর সুবিধাভোগী ছাড়াবে ১ কোটি, ১২ লক্ষ পড়ুয়া পাবে সাইকেল
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন যে এই মাসে প্রায় ১২ লক্ষ শিক্ষার্থী সাইকেল পাবে। প্রতি বছর নবম শ্রেণির পড়ুয়ারা এই সুবিধা লাভ করে। রাজ্যজুড়ে 'সবুজ সাথী' প্রকল্পের আওতায় এটি বিতরণ করা হবে।
ধনধান্য অডিটোরিয়ামে 'কন্যাশ্রী' প্রকল্পের ১২ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে এদিন বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী একথা জানান। 'সবুজ সাথী' চালুর পর থেকে ১ কোটি ৩৮ লক্ষ শিক্ষার্থীকে সাইকেল দেওয়া হয়েছে। এর জন্য রাজ্য প্রায় ৪,৮০০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে।

মুখ্যমন্ত্রী গর্বের সঙ্গে 'কন্যাশ্রী'র সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন। বর্তমানে ৯৩ লক্ষের বেশি 'কন্যাশ্রী' সুবিধাভোগী রয়েছেন। আগামী বছর এই সংখ্যা ১ কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই প্রকল্পে মোট ১৭ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে।
সরকারি স্কুলের সব ছাত্রী 'কন্যাশ্রী'র সহায়তা পায়। কলেজে 'কন্যাশ্রী ২' এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে 'কন্যাশ্রী ৩' এর সুবিধা পাওয়া যায়। এই প্রকল্প স্কুলছুটদের হার প্রায় শূন্যে নামিয়ে এনেছে। মেয়েদের স্বাবলম্বী করতে এটি অত্যন্ত সহায়ক হয়েছে।
'কন্যাশ্রী' প্রকল্প আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে। নেদারল্যান্ডসে এটি বিশ্বের ৬০৭টি প্রকল্পের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। এটি রাজ্যের একটি বড় অর্জন।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন মাতৃভাষার গুরুত্বের উপর জোর দেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "নয়ডাতে বাংলা বললে বার করে দেওয়া হচ্ছে, বাংলা না থাকলে স্বাধীনতা আসত?" তিনি আরও বলেন: "সব ভাষাই জানা উচিত, কিন্তু মাতৃভাষাকে ভুলবেন না।"
বাংলার প্রতি অসম্মানের প্রশ্নে মমতা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। অন্য ভাষার প্রতি সম্মান দেখালেও কেন বাংলার প্রতি নয়, এমন প্রশ্ন করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বাংলার ভাষার মাধুর্যের প্রশংসা করে বলেন: "বাংলা ভাষার মাধুর্য কোথাও পাবেন না।" পাশাপাশি ইংরেজি শিক্ষার প্রয়োজনীয়তাও তিনি স্বীকার করেন। তাঁর সরকার পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ইংরেজি পাঠদান পুনরায় চালু করেছে।
তিনি বলেন, দেশভাগের পর এ দেশে আসা উদ্বাস্তুরা এদেশেরই নাগরিক। মুখ্যমন্ত্রী মমতা সরাসরি বিভাজন নীতির সমালোচনা করেন। স্বাধীনতা আন্দোলনে কোনও হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ ছিল না। বাংলার প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ স্বাধীনতা সংগ্রামে কারাবরণ করেছিলেন। স্বামী বিবেকানন্দ ভারতের মাটিকে 'মা' বলে অভিহিত করেছেন। সুভাষচন্দ্র বসু 'রক্ত দাও' স্লোগান দিয়েছিলেন। বাল্যবিবাহ রোধে বিদ্যাসাগরের 'বর্ণপরিচয়' ছিল প্রথম পদক্ষেপ। রাজা রামমোহন রায় সতীদাহ প্রথা বিলুপ্তির চেষ্টা করেন। বি আর আম্বেদকর বাংলা থেকেই প্রথম নির্বাচিত হন। তিনি দাঙ্গা রোধ করে সংবিধান রচনা করেন। যারা সব কিছু ছেড়ে এসেছিলেন, তারা এই দেশেরই বাসিন্দা।












Click it and Unblock the Notifications